fbpx
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গবিজ্ঞান-প্রযুক্তিহেডলাইন

তারার দেশে জ্যোতির্বিজ্ঞানী অমলেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দূরের ওই আকাশের নক্ষত্র পুঞ্জ তাঁর খুব প্রিয় ছিল। সেখানেই চলে গেলেন চিরকালের মতো। বিশিষ্ট জ্যোতির্বিজ্ঞানী অমলেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় প্রয়াত। সোমবার নিজ বাসভবনে রাত ৮ নাগাদ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে রেখে গেলেন দুই পুত্র ও স্ত্রীকে। বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তাঁর প্রয়াণের সঙ্গে শেষ হয়ে গেল জ্যোতির্বিজ্ঞানচর্চার একটি অধ্যায়। বিশেষ করে গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের কাছে তিনি জ্যোতির্বিজ্ঞানকে ঘরের জিনিস তুলেছিলেন।

অমলেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য ১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বাগানের মুগকল্যাণ গ্রামে। মুগকল্যাণ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা, তারপর বারানসী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফলিত গণিতে এমএসসি পাশ করেন তিনি। তাঁর বিশেষ বুৎপত্তি ছিল জ্যোতির্বিজ্ঞানে। কর্মজীবন শুরু বারানসীর একটি কলেজে অধ্যাপনার মাধ্যমে। ১৯৫৬ সালে বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহার প্রতিষ্ঠিত ‘ নটিক্যাল অ্যালম্যানাক ইউনিটে’ যোগ দেন।

১৯৬৮ সালে তিনি এই সংস্থার সমস্ত দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সংস্থাটি ১৯৮০ সালে সম্প্রসারিত হয়ে নতুন নামকরণ হয়’ পজেশনাল অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টার’। তিনি হন সংস্থার প্রথম অধিকর্তা। ১৯৮৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি তিনি অবসর নেন। ১৯৮৯ সাল থেকে বিড়লা তারা মণ্ডলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এমনকি ২০১৮ য় বিড়লা তারামণ্ডলের নবকলেবরে উদ্বোধনের পর মহাকাশকে দর্শকদের সামনে হাজির করার নতুন প্রকল্পেও জড়িয়েছিলেন।

জ্যোতির্বিঞ্জানকে ছাত্রছাত্রী ও মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তোলার জন্য ভারত প্রকার তাঁকে ১৯৯৫ সালে জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত করে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার ২০০১ সালে তাঁকে ‘গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য ‘স্মৃতি পুরস্কার দেয়। ওই বছরই বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ডিএসসি উপাধিতে ভূষিত করে। দেশ-বিদেশের বহু খ্যাতনামা বিঞ্জান গবেষণা কেন্দ্রের নির্বাচিত সদস্য ছিলেন। তাঁর ২২৫ টিরও বেশি গবেষণা পত্র প্রকাশিত হয়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পর্কিত বাংলা ও ইংরেজি মিলিয়ে প্রবন্ধের সংখ্যা ২৫০০এর বেশি। ইংরেজিতে তিনটি ও বাংলায় পাঁচটি প্রকাশিত বই রয়েছে তাঁর। এখন অবশ্য এসব কিছুই ইতিহাস। বরাবরের প্রচারবিমুখ মানুষটি প্রায় চুপিচুপি চলে গেলেন।

Related Articles

Back to top button
Close