fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

কাঁথিতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় দুই পরিযায়ী শ্রমিক সহ গ্রেফতার পাঁচ দুষ্কৃতী

মিলন পণ্ডা, কাঁথি (পূর্ব মেদিনীপুর): পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথিতে লক্ষাধিক টাকা ও সোনার গহনা ছিনতাই ঘটনার কিনারার পথে পুলিশ। ডাকাতির ঘটনার তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ধার করলো পুলিশ।

ঘটনার যুক্ত থাকার অভিযোগে আরও ডাকত দলের চার যুবককে গ্রেফতার করল পুলিশ।ডাকাতির ঘটনার যুক্ত থাকা অভিযোগে আগেই তাজপুরের বাসিন্দা তারাপদ ওঝা নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছিল। কাঁথি থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা হলেন কাঁথির দুরমুঠের বাসিন্দা সেখ আসিফ উদ্দিন, মারিশদা থানার ছোট রসুলপুর গ্রামের পুষ্পেন্দু দোলাই,গৌতম মাইতি ও নয়ন দোলাই।

শুক্রবার অভিযুক্তদের কাঁথি আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের জামিন নাকচ করে পাঁচদিনের পুলিশ হেফাজতে নির্দেশ দেন।বাকী তারাপদ কাঁথির থানার পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূএে জানা গেছে, কাঁথি থানার দক্ষিণ শ্রীলামপুরের বাসিন্দা নিগমানন্দ পণ্ডার কাঁথির পিছাবনি বাজারের একটি সোনার দোকান রয়েছে। সামনে সোনার দোকানের মালিকের মেয়ে বিয়ে অনুষ্টান ছিল। গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত ৯ টা নাগাট দোকান বন্ধ করে বাইকে করে এক দোকানের এক কারিগরকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিল নিগমানন্দবাবু।

দোকান মালিকের কাছে প্রায় এক লক্ষ টাকা ও ২০০ গ্রাম সোনার গহনা ছিল।কাঁথির সুজালপুর রেল ক্রশিং কাছে ফাঁকা এলাকায় কয়েক জনের দুষ্কৃতী মোটর বাইকের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

এরপর আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে নগদ টাকা ও সোনার গহনা নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতিকারী যুবকের দল। তারপরে বিষয়টি কাঁথি থানার পুলিশকে জানায়। দ্রুত জানতে পেরে কাঁথি থানার পুলিশের তদন্তকারী দল গোটা এলাকা নাকা চেকিং শুরু করেন। তার আগেই এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীদের দল।

পরের দিন ৬ সেপ্টেম্বর সকালে দোকানের মালিক দক্ষিন শ্রীলামপুরের বাসিন্দা নিগমানন্দ পণ্ডা কাঁথি থানার একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, নগদ এক লক্ষের বেশি টাকা ও ২০০ গ্রাম সোনার গহনা চুরি গেছে। চুরি যাওয়ার সোনার গহনা বাজার মূল্য প্রায় ৯ লক্ষ টাকা।

ঘটনার পর জোরদার তদন্ত শুরু করে কাঁথি থানার পুলিশ। তদন্ত চালিয়ে প্রথমে এগরায় তাজপুরে বাসিন্দা তারাপদ ওঝাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে  অভিযুক্তকে কাঁথি আদালতে থেকে নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ।আদালত থেকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ।প্রথমে পুলিশীর জিজ্ঞাসাবাদে কিছু জানা জানালেও পরে পুলিশের একাধিক জিজ্ঞাসাবাদে ডাকাতির কথা স্বীকার করে তারাপদ বলে পুলিশের দাবি। অভিযুক্ত যুবকের কাছ থেকে বেশ কয়েক জনের অভিযুক্তের নাম জানতে পারে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে কাঁথি থানার দুরমুঠ এলাকা থেকে আরও চারজনকে গ্রেফতার করে। অভিযুক্তদের মধ্যে গৌতম মাইতি ও নয়ন দোলাই দুইজন ভিন রাজ্য মহারাষ্ট্রের সোনার দোকানের কারিগর ছিল। করোনা সংক্রমনের কারণে বাড়ি ফেরে দুই পরিয়ারী শ্রমিক। বাকী দুইজন সেক আসিফ উদ্দিন ও পুষ্পেন্দু দোলাই এলাকায় দিনমজুরের কাজ করতো। বিশেষ সূএে জানা গেছে, গ্রেফতার চারজনের কাছ থেকে বেশ কিছু ডাকাতি হয়ে যাওয়ার সামগ্রি উদ্ধার হয়েছে। ঘটনার আরও বেশ কয়েকজন যুক্ত রয়েছে। বাকীদের ধরতে তল্লাশি শুরু করেছে। পুলিশ আধিকারিক বলেন ডাকাতির ঘটনার তদন্তে নেমে এখনো পর্ষন্ত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে চুরি যাওয়ার নগদ লক্ষাধিক টাকা ও সোনার গহনা উদ্ধার করতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। এই ঘটনার বাকী কেউ যুক্ত রয়েছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গোটা ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Related Articles

Back to top button
Close