fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

এক সময় পেপসিকে কোক বানিয়ে কোটি কোটি টাকা লাভ করেছিল গরু পাচারকারী এনামুল

মিল্টন পাল, মালদা: ২০১৭-১৮ সালে পেপসিকে কোক বানিয়ে কোটি কোটি টাকা লাভ করেছিল গরু পাচারকারী সিন্ডিকেটের মাথা তথা হাওলা ট্রেডার্স এনামুল হক। এবং সেই টাকা থেকে মোটা টাকা বখরা পেতেন বিএসএফের কমান্ডেন্ট সতীশ কুমার, বেশ কিছু বিএসএফ আধিকারিক। তারা প্রত্যেকেই এখন সি বি আইএর নজরে।

সেই সময় প্রতিদিন মালদহ ও মুর্শিদাবাদ জেলা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার গরু বাংলাদেশে যেত। বিএসএফ ও কাস্টমসের আধিকারিকদের সাথে যোগসাজশ করে নির্দিষ্ট সময়ে লাইন মারফত সীমান্তহীন করে দেওয়া হতো।আর সেই সুযোগ নিয়েই বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বাখের আলী,মাসুদপুর এই বিট খাটাল গুলি থেকে গঙ্গা নদী পার করে মালদার বৈষ্ণবনগর ও মুর্শিদাবাদ জেলার বিস্তীর্ণ সীমান্ত দিয়ে গরু পাঠানো হত বাংলাদেশ। লোক দেখানোর জন্য কিছু গরু আটক করতে বিএসএফ। পরে সেগুলি কাস্টমসের মারফত নিলাম করা হত।

পাচারকারীদের কোড অনুযায়ী বড় গরু গুলিকে বলা হত কোকোকোলা ও ছোট গুরুকে বলা হতো পেপসি।বাজেয়াপ্ত গরু নিলামের সময় বড় গরুকে ছোট গরু দেখিয়ে অর্থাৎ কোকোকোলাকে পেপসি দেখিয়ে বিক্রি করে দেওয়া হতো। যার ফলে গরুর দাম কমে যেত এবং সেখান থেকেই প্রচুর টাকা রোজগার করত এনামুল হক ও তার সিন্ডিকেট। কারণ তারাই এই গরু গুলি নিলাম করত কিন্তু পরে ওই গ্রুপে আবার পাচার করা হতো।গরু প্রতি আড়াই হাজার টাকা পেত বিএসএফ ও কাস্টমস আধিকারিকরা। তার মধ্যে বিএসএফ পেতো ২০০০ টাকা ও কাস্টমস গরু প্রতি ৫০০ টাকা।২০১৭-১৮ সাল নাগাদ বিএসএফ ওই এলাকায় প্রায় কুড়ি হাজার গরু আটক করে নিলাম করেছিল। তাহলেই বোঝা যায় কত টাকা লুটপাট হয়েছিল। বড় গরু গুলিকে কাগজে-কলমে ছোট গরু দেখানো হতো। কাস্টমসের আধিকারিকদের একাংশ এই কারবার করত।সি বি আইয়ের হাতে এই ভয়ঙ্কর তথ্য উঠে এসেছে। এর ফলে প্রচুর রাজস্ব ক্ষতি হয়েছিল সরকারের।

আরও পড়ুন:Breaking: উত্তরপ্রদেশে গ্রেপ্তার রাহুল গান্ধী

২০১৮ সাল নাগাদ কেরালা থেকে জিবিইউ ডি ম্যাথু নামে এক কমান্ডকে প্রায় ৪৩লক্ষ টাকা সহ গ্রেপ্তার করে সিবিআই। সেই সূত্র ধরেই গ্রেফতার হয় এনামুল হক। এরপরে সীমান্তে পাচার অনেকটা কমে যায়। সেই সময় বিএসএফের বিভিন্ন আধিকারিক ও ব্যাটেলিয়ান পরিবর্তন হয়। গ্রেপ্তার হওয়া কমান্ড্যান্টের দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী আরেক কমান্ডেন্ট সতীশ কুমার তার সাথে এনামুলের পরিচয় করে দিয়েছিল। সেই সময় সতীশ কুমার বিএসএফের মালদা সেক্টারে কর্মরত ছিলেন। এভাবেই একদিকে চলতে গরু পাচার অন্যদিকে আটক হওয়া গরুকে কিন্তু এনামুল হক ও তার সিন্ডিকেট।

Related Articles

Back to top button
Close