fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মালদায় মরশুমের শুরুতেই গঙ্গা ভাঙন, বিপাকে কয়েকশো পরিবার

মিল্টন পাল,মালদা: নদী ভাঙন মালদা জেলার বড় সমস্যা। বর্ষার শুরুতে ভাঙন রোধের কাজ না হওয়ায় আতঙ্কে গঙ্গা নদী তীরবর্তী গ্রামের বাসিন্দারা। বর্তমানে আর যা মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে কালিয়াচক ৩ ব্লকের শোভাপুর- পারদেওনাপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দাদের। দ্রুত ওই এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধের কাজ না করা হলে, ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের গঙ্গা পাড়ের তিনটি গ্রাম ভাঙ্গনের জেরে নদীগর্ভে তলিয়ে যাবে। আশ্রয়হীন হয়ে পড়বেন কয়েকশো পরিবার।
গ্রামবাসীন্দারা জানান,তিনটি গ্রামের কমপক্ষে কুড়ি হাজার মানুষের বসবাস। গঙ্গা নদীর তীরবর্তী এই তিনটি গ্রাম ধিরে ধিরে অনেকটাই গঙ্গার ভাঙ্গনে তলিয়ে গিয়েছে। এরইমধ্যে বর্ষার মরশুম শুরু হয়েছে। কিন্তু নতুন করে গঙ্গার পাড় মেরামতির কাজ যদি শুরু না করে প্রশাসন। তাহলে ওই তিনটি গ্রাম নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় গ্রামের বাসিন্দারা।

মন্ডলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা দেবিকা মন্ডল বলেন, সরকার যাতে আমাদের এলাকার গঙ্গানদীর পার মেরামতি করে দেয় । নইলে এবার ভাঙ্গনে বাড়ি-ঘর সব তলিয়ে যাবে। ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে কোথায় যাব, কি করব কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। লকডাউন অনেক ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। ভিন রাজ্য ফেরত বাড়ির পুরুষেরা কর্মহীন রয়েছে। আর এই অবস্থায় যদি ভাঙ্গনে ঘরবাড়িটুকুও চলে যায় তাহলে বাঁচবো কি করে। রাজ্য সরকার আমাদের জন্য যতটা পেরেছে সহযোগিতা করেছে। তাই সরকার এবং প্রশাসনের উদ্দেশ্যে অনুরোধ করেছি এই এলাকার গঙ্গা নদীর পাড় যেন মেরামতি করা হয়। তাহলে ভাঙ্গনের কোন আশঙ্কা থাকবে না।

আরও পড়ুন: মালদার চাঁচলে বেহাল নিকাশি, রাস্তায় ধানের চারা পুঁতে প্রতিবাদ

পারঅনুপনগর গ্রামের বাসিন্দা ভবেশ দাস বলেন, বিগত দিনে এই এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধের কাজ ফারাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ করেছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন আগেই ওরা হাত তুলে নিয়েছে। এরপর রাজ্য সরকারের সেচ দপ্তর আমাদের এলাকার নদীভাঙন মেরামতের কাজের দায়িত্ব নেয়। কিন্তু কাজ এখনো শুরু হয় নি । খুব কষ্টের মধ্যে আছি। অল্প অল্প করে নদীরপাড় কাটতে শুরু করেছে। জানি না কি হবে । তবে বাঁধ মেরামতি না করা হলে এলাকার তিনটি গ্রাম নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। আমাদেরকেই আশ্রয়হীন হয়ে থাকতে হবে। তাই সরকার এবং প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করেছি যে ভাবেই হোক মেরামতির কাজ যেন করা হয়। নইলে কয়েকশো পরিবার আশ্রয়হীন হয়ে পড়বে।

বৈষ্ণব নগরের বিজেপি দলের বিধায়ক স্বাধীন সরকার বলেন, ফারাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ এর আগে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেছিল। কিন্তু রাজ্য সরকারের নানান জটিলতার কারণে আপাতত সেই কাজের দায়ভার সেচ দপ্তর নিয়েছে। কিন্তু সেচ দপ্তর এখনো এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধে কাজ শুরু করতে পারে নি। ফলে নদীর পাড় এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কে রয়েছে। আমরা চাই এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শুরু করুক।

জেলা তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি দুলাল সরকার বলেন, সেচ দপ্তর ভাঙ্গন প্রতিরোধের কাজ নিয়মিতভাবে করছে। ফলে বহু এলাকায় ভাঙন ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। কিন্তু অদ্ভুতভাবে ফারাক্কা ব্যারেজ নিজেদের দায়িত্ব ভুলে, ভাঙন প্রতিরোধের কাজ করা থেকে সরে গিয়েছে। এর ফলে নদী তীরবর্তী এলাকার বহু মানুষ বিপাকে পড়েছেন । কেন্দ্র সরকারের অধীনস্থ ফারাক্কা ব্যারেজের উদাসীনতার জন্যই মানুষের জীবন এখন সংকটে । তবে রাজ্য সরকার বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে। সেচ দপ্তরের মালদার এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার প্রণব কুমার সামন্ত জানিয়েছেন, ভাঙ্গনের সম্ভাবনা যে সব এলাকায় রয়েছে। আপাতত অস্থায়ী ভাবে বাঁধ মেরামতির কাজ শুরু করা হয়েছে।আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত যাতে বাঁধের কাজ শেষ করা যায়।

Related Articles

Back to top button
Close