fbpx
কলকাতাহেডলাইন

তৃণমূলের বিরুদ্ধে এবার বিস্ফোরক অতীন ঘোষ, দলের প্রতি ‘বেসুরো’ চিন্তার ভাঁজ শীর্ষ নেতাদের কপালে

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: তৃণমূলে বিক্ষুব্ধদের তালিকায় কি এবার নতুন সংযোজন অতীন ঘোষ? শুভেন্দুর সঙ্গে দলের তিক্ত টানাপোড়েনের মধ্যেই এবার মুখ খুললেন কলকাতা পুরসভার প্রশাসক মণ্ডলীর সদস্য এবং প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র।নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে ততই দলের অন্দরেই অসন্তোষের সুর মাথা চারা দিয়ে দাঁড়াছে। শুভেন্দুর সঙ্গে দলের তিক্ত টানাপোড়েনের মধ্যেই এবার মুখ খুললেন কলকাতা পুরসভার প্রশাসক মণ্ডলীর সদস্য এবং প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র। তাঁর মতে, শুভেন্দুর মতো ‘জননেতা’ দল ছাড়লে দলের ক্ষতি হবে। পাশাপাশি তিনিও যে দলে ক্রমশ কোণঠাসা হচ্ছেন, সেই অনুভূতির কথা রাখঢাক না রেখেই জানিয়েছেন। তৃণমূলের নির্বাচনী স্ট্র্যাটেজিস্ট প্রশান্ত কিশোরকে নিয়েও নিজের অসন্তোষ ব্যক্ত করেছেন অতীন ঘোষ।কারও নাম না করলেও দল পরিচালনার ক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাঁদের উপর নির্ভর করেন, তাঁদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অতীন ঘোষ। একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্যে তৃণমূলের অস্বস্তি অনেকটাই বাড়িয়ে দিলেন তিনি।

এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় শুভেন্দু অধিকারী । গত সপ্তাহে তিনি মন্ত্রিত্ব ত্যাগের পর থেকে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন তিনি নিজে। বিভিন্ন অরাজনৈতিক সভা, সমাবেশে হাজির হলেও এ নিয়ে একটি কথাও বলছেন না। আর তাঁকে নিয়েই এই মুহূর্তে যত আলোচনা, গুঞ্জন। তৃণমূলের দীর্ঘদিনের সদস্য শুভেন্দু অধিকারীর এই পদক্ষেপের পর দলের অন্দরে বিক্ষোভ, অসন্তোষের সুর যেন বেড়েই চলেছে। কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক মিহির গোস্বামী ইতিমধ্যেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, বারাকপুরের বিধায়ক শীলভদ্র দত্ত শুভেন্দুকে সমর্থন জানিয়ে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। দলের নানাস্তরের নেতারাও একইভাবে সমর্থন জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারীকে।

উত্তর কলকাতা থেকে প্রায় তিন দশক ধরে কাউন্সিলর নির্বাচিত অতীন দীর্ঘদিন ধরেই মেয়র পদপ্রার্থী ছিলেন। যদিও তাঁর ভাগ্যে শিকে ছেঁড়েনি। জোটেনি অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও। সেই ক্ষোভের কথাই এবার শোনা গেল অতীন ঘোষের গলায়। শুক্রবার তিনি বলেন, ‘এত বছরের রাজনৈতিক জীবনে কখনও দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলিনি। অনেক বঞ্চনার স্বীকার হতে হয়েছে, রাজনৈতিক ভাবে কোণঠাসা করা হয়েছে। আমাদের মতো কর্মীরা আশা করে দলের শৃঙ্খলা যাঁরা প্রকাশ্যে ভঙ্গ করবেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তা না হওয়ায় ক্ষোভগুলো প্রকাশ্যে আসছে, বেড়ে যাচ্ছে।’ দলে নতুনদের দাপটে যে পুরোনরা কোণঠাসা, তাও স্পষ্ট অতীনের কথায়। তিনি বলেন, ‘দলের দরজা হাট করে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে যাঁরা দলকে, নেত্রীকে চূড়ান্ত আক্রমণ করেছেন, তাঁরাও দলে এসে এখন নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এগুলো যন্ত্রণা দেয়। ফলে আমাদের মতো যাঁরা দলটা শুরু থেকে করছেন তাঁদের অনেকেই দলের কাজকর্মে হতাশ।’ মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বৃত্তে দলের যাঁরা থাকেন, তাঁেদর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই তৃণমূল নেতা। তিনি বলেছেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি কিছু মানুষের উপরে নির্ভর করেন। তাঁরা যদি নিজেদের দায়িত্ব ঠিক মতো পালন করতেন তাহলে দলের আজকে এই অবস্থা হত না।’

আরও পড়ুন: কিষাণ নিধিতে বাধা কেন? মমতাকে প্রশ্ন দিলীপের

টিম পিকে’কে নিশানা করে অতীন ঘোষের কটাক্ষ, ”কোনও পেশাদারির আওতায় থেকে রাজনীতি করার অভিজ্ঞতা নেই। রাজনীতিতে পথপ্রদর্শক ছিলেন দলের সিনিয়র নেতারা।” মিহির গোস্বামী দল ছাড়া নিয়েও তাঁর প্রশ্ন, ”কেন এত ভাল একজন সদস্য দল ছেড়ে দিলেন? দলই বা তাঁকে আটকাল না কেন?”

তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে অতীন ঘোষ দলের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। তিনি দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্যও। কিন্তু এই মুহূর্তে তাঁর এই ‘বেসুর’ কলকাতার তৃণমূল নেতাদের কপালে যথেষ্ট চিন্তার ভাঁজ ফেলছে। দলের অন্দরে যে ক্ষোভ, অসন্তোষের পাহাড় জমেছে, তা এবার বোঝার সময় এসেছে।

 

Related Articles

Back to top button
Close