fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

আর্ন্তজাতিক এটিএম লুট কাণ্ডে গ্রেফতার মূল পাণ্ডা

মিল্টন পাল, মালদা: আর্ন্তজাতিক এটিএম লুট কাণ্ডের মূল পান্ডা গ্রেফতার। মালদার রতুয়া  থেকে গ্রেফতার করলো কালিয়াচক থানার পুলিশ। বুধবার গোপন সূত্রের খবর পেয়ে রতুয়া থানার বাহারাল মোড়ে অভিযান চালায় কালিয়াচক থানার পুলিশের বিশেষ একটি দল।
বাহারাল স্ট্যান্ডের কাছ থেকেই এটিএম লুটের মূল ওই চক্রিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এটিএম লুটের রাকেট দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে আসছিলো ধৃত ওই ব্যক্তি বলে প্রাথমিক তদন্তে এমনটা জনতে পেরেছে পুলিশ । বৃহস্পতিবার ধৃতকে ১৪  দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার জন্য মালদা আদালতে আবেদন জানিয়েছে কালিয়াচক থানার তদন্তকারী পুলিশ কর্তারা। পাশাপাশি জেলা পুলিশের এটা বড় সাফল্য বলেও দাবি করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে,  ধৃতের নাম ধরমবির শর্মা । তার বাড়ি উত্তর প্রদেশের মথুরা জেলার যোশি থানার কচিকলোনি এলাকায়। গোটা দেশে পৃথক পৃথক ভাবে বিগত দিনে যত এটিএম লুট হয়েছে, তার পিছনে মূল মাথা হিসাবে ধৃত এই ব্যক্তি কাজ করে এসেছে বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। বিভিন্ন রাজ্যে এটিএম লুটের রেকেট চালাত ধৃত ধরমবির শর্মা বলেও প্রাথমিক জেরাতে এরকমই বিভিন্ন তথ্য জানতে পেরেছে পুলিশ।
উল্লেখ্য,  ১৯ আগস্ট মাসে কালিয়াচক থানার সুজাপুরের ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এটিএম থেকে প্রায় আট লক্ষ টাকা লুট করে পালায় দুষ্কৃতীরা। ২০ আগস্ট সকালে বিষয়টি জানার পর তদন্তে ওই এলাকায় যায় এলাকায় ছুটে যান পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) দীপক সরকার সহ জেলা পুলিশের পদস্থ কর্তারা। এরপরই বিভিন্ন সূত্র ধরে এটিএম লুঠ কাণ্ডের মূল চক্রের সন্ধান পায় পুলিশ। তবে শুধু সুজাপুর নয়, মালদায় বিগত দিনে যত এটিএম লুঠ হয়েছে, তার পিছনে ধৃতের দলবল জড়িত রয়েছে বলেও জানতে পেরেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে,  বুধবার গভীর রাতে চাচোল মহাকুমার রতুয়া থানার বাহারাল মোড় গাড়ি ধরার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিল অভিযুক্ত ব্যক্তি। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কালিয়াচক থানার পুলিশের বিশেষ একটি টিম সাদা পোশাকে ওই এলাকায় অভিযান চালায় এবং অভিযুক্তকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে এটিএম লুটের ঘটনা ঘটেছে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার একাধিক এলাকায় এটিএম লুটের ঘটনার বিগত দিনে ঘটেছে। এতে যথেষ্ট অস্বস্তিতে পড়ে ছিল রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসন বিভিন্ন সূত্র ধরে শুরু হয় তদন্ত।
প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানতে পেরেছে, উত্তরপ্রদেশ , রাজস্থান,  হরিয়ানার দুষ্কৃতীদের নিয়ে একটি এটিএম লুটেরা রেকেট তৈরি করেছিল অভিযুক্ত ধরমবির শর্মা । তাদের মাধ্যমেই এরাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এই এটিএম লুঠের কারবার চলছিল। এটিএম মেশিন খোলার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত পারদর্শী কিছু যুবকদের এই টিমে সামিল করা হয়েছিল। বিনিময় দেওয়া হতো মোটা কমিশনও। কালিয়াচক সুজাপুরের এটিএম লুটের ঘটনার পরই পুলিশের টনক নড়ে যায়। সিসিটিভির ফুটেজ দেখেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। আর তাতেই উঠে আসে উত্তরপ্রদেশের ধরমবির শর্মার নাম।
পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জানিয়েছেন, রতুয়া থেকে কালিয়াচক থানার পুলিশ এটিএম কার্ডের এক পান্ডাকে গ্রেপ্তার করেছে।প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে সুজাপুরের এটিএম লুঠ কাণ্ডের পর থেকেই রতুয়াতে গা ঢাকা দিয়েছিল অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি।ধৃতের সঙ্গে কারা কারা যুক্ত রয়েছে তার তদন্ত শুরু হয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close