fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

গলায় পা চাপিয়ে স্ত্রীকে খুনের চেষ্টা, গ্ৰেফতার স্বামী, পলাতক শাশুড়ি

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: ব্যাপক মারধোর করার পর দু’পা দিয়ে গলার উপর দাঁড়িয়ে শ্বাসরোধ করে স্ত্রীকে প্রাণে মারার চেষ্টার অভিযোগে গ্ৰেফতার হলেন স্বামী। ধৃতের নাম সেখ আহম্মদ আলি।পূর্ব বর্ধমানে জামালপুর থানার বত্রিশবিঘা গ্রামে ধৃতের বাড়ি। জামালপুর থানার পুলিশ সোমবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে আহম্মদ কে গ্ৰেফতার করে। ঘটনার পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছে বধূর শ্বশুর সেখ আব্বাস আলি ও শাশুড়ি তানুজা বেগম। আশঙ্কাজনক অবস্থায় বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বছর ২২ বয়সী নির্যাতিতা বধূ ফতেমা বেগম। অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন বধূর বাবার বাড়ির সদস্যরা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে , বধূ ফতেমা বেগমের বাবার বাড়ি হুগলীর আরামবাগের খানাকুলের আনন্দনগরে। বছর পাঁচ আগে পেশায় ব্যবসায়ী বত্রিশবিঘা গ্রামের যুবক সেখ আহম্মদ আলির সঙ্গে বিয়ে হয় ফতেমার। দম্পতির বছর তিন বয়সী একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। বধূর বাবা ফিরোজ এদিন লিখিত অভিযোগে জামালপুর থানার পুলিশকে জানিয়েছেন , বিয়ের পর কয়েক বছর তাঁর মেয়ে সুখেই সংসার জীবন কাটাচ্ছিল। কিন্তু মেয়ের সুখের সংসারে ছন্দপতন ঘটে বছর দুই আগে জামাই সেখ আহম্মদ দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে। তখন থেকেই ফতেমার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যান চালানো শুরু করে জামাই আহম্মদ আলি ও তাঁর মা তনুজা বেগম। তাদের পরিবারের অন্যরাও তাতে সায় দেয় । সোমবার বেলায় শ্বশুর বাড়িতে ফতেমার উপর অমানুষিক নির্যান চালায় জামাই আহম্মদ আলি ও তাঁর মা তনুজা বেগম । তারা কিল, চড় ,ঘুঁষি মেরেই খান্ত হয়নি। জামাই আহম্মদ এদিন দু’পাদিয়ে ফতেমার গলার উপর দাঁড়িয়ে পড়ে শ্বাসরোধ করে ফতেমাকে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফতেমা এখন বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। জামাই ও শাশুড়ি সহ শ্বশুর বাড়ির সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন বধূর বাবা ফিরোজ সা ও মা মোসলেমা বেগম।

বধূ ফতেমা বেগম এদিন হাসপাতালে বেডে শুয়ে বলেন, বেশ কয়েকদিন ধরে তাঁর স্বামী তাঁর উপর অমানুষিক নির্যাতন চালাচ্ছে। স্বামীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে তিনি সম্প্রতি পুলিশেরও দ্বারস্থ হয়েছিলেন। পুলিশের লোকজন স্বামীকে সতর্ক করলেও তিনি সেইসবের কোন তোয়াক্কা করেন না। ফতেমা বলেন, বিয়ের সময়ে তার বাবার বাড়ি থেকে দেওয়া সব সোনার গহনা দেড় বছর আগে তাঁর স্বামী বন্ধক দেয়। সেই সব গহনা ছাড়ানোর কথা এদিন বেলায় তিনি তাঁর স্বামীকে বলেন। তার জন্য তাঁর স্বামী ও শাশুড়ি মিলে তাঁর উপর চড়াও হয়ে ব্যাপক মারধোর শুরু করে। মারতে মারতে হঠাৎতই তাঁর স্বামী তাঁকে মাটিতে ফেলেদিয়ে দু’পাদি তাঁর গলার উপর দাড়িয়ে পড়ে। তাঁর দম আটকে আসতে থাকে। ওই অবস্থায় কোনরকমে নিজেকে স্বামীর হাতথেকে মুক্তকরে শ্বশুরবাড়ি থেকে থানার উদ্দেশ্যে ছোটা শুরু করেন। পথে স্থানীয় সেলিমাবাদ গ্রামের কাছে পৌছে তিনি জ্ঞান হারিয়ে রাস্তায় পড়ে যান।

ফতেমা বলেন, সেলিমাবাদ গ্রামের দুই মহিলা তাঁকে উদ্ধার করে জামালপুর ব্লক স্বাস্থকেন্দ্রে নিয়ে যান। হাসপাতালের বেডে শুয়েই ফতেমা বলেন , “তাঁর শরীর খুব খারাপ লাগছে। দম আটকে আসছে । প্রাণে আর বাঁচবো কিনা জানিনা ।” ফতেমাকে উদ্ধারকরী মহিলা তাহেরা বিবি ও রুপালি বেগম বলেন, ফতেমার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক বলে হাসপাতালের চিকিৎসক তাঁদেরও জানিয়েছেন ।

জামালপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, বধূ নির্যাতনের ধারায় মামলা রুজু করে অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর এক অভিযুক্তের খোঁজ চলছে। অভিযুক্তরা কেউ রেহাই পাবেনা বলে পুলিশ জানিয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close