fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

‘জঙ্গলমহলকে ফের অশান্ত করার চেষ্টা চলছে, আমি তা হতে দেব না’: কড়া হুঁশিয়ার মুখ্যমন্ত্রীর

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: ‘অনেক কষ্ট করে রক্তাক্ত জঙ্গলমহলকে শান্ত করেছি। অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। ফের মাওবাদীরা মাথাচাড়া দিচ্ছে। কেউ কেউ টাকা দিয়ে তাদের সাহায্য করছে। কোনওমতেই জঙ্গলমহলকে আবার অশান্ত হতে দেব না।’ জঙ্গলমহলের জেলা সফরের দ্বিতীয় দিনে ঝাড়গ্রামে প্রশাসনিক বৈঠক থেকে হুঁশিয়ার দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রশাসন-পুলিশকে নির্দেশ দিলেন কারা অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছে তা দেখে কড়া ব্যবস্থা নিতে। বুধবার নিজের কথা রেখে মাও হামলায় নিহত চার জনের পরিবারের সদস্যকে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন মমতা। সেইসঙ্গে আদিবাসী মাহাতো-কুরমি-লোধা-শবর জনজাতির উদ্দেশে মমতার আহ্বান, ‘যা বলবেন সব করে দেব। কিন্তু আমাকে ভুল বুঝবেন না। মা-মাটি-মানুষের সরকারের পাশে থাকুন।’

তাঁর এই বার্তা যে ঝাড়গ্রামের পুলিশ সুপার, ওসি, আইসি থেকে পুলিশের একেবারে তলার স্তর পর্যন্ত যাবে তা জানেন তিনি। সেই কারণেই বেশ রাগত স্বরেই এই কথা বলেন তিনি। উল্লেখ্য, দিন কয়েক আগে বেলপাহাড়ি, বাঁশপাহাড়ি, ভুলভেদা-সহ একাধিক জায়গায় মাওবাদী পোস্টার উদ্ধার হয়েছিল। এছাড়া, অভিযোগ ছিল পর্যটকদের ফোনও ছিনতাই করেছে মাওবাদীরা। এরপরেই প্রশাসনের অন্দরে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।মুখ্যমন্ত্রী এদিন সেই প্রসঙ্গের কথা না তুললেও জঙ্গলমহলে শান্তি ফেরানোর উপর জোর দেন। ডিজি’র উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘বেলপাহাড়ি শান্ত জায়গা, আমায় নতুন করে শেখাচ্ছে। সেখানে বোম ফেলে এল, পোস্টার লাগিয়ে দিয়ে এল। এটা কারা করেছে জানি। এটা করেছে একটা রাজনৈতিক দলের লোক। মাওবাদীদের পুরনো কয়েকজনকে নিয়ে এখানে ঘুরে গিয়েছে। ঝামেলা করার জন্যই এই পরিকল্পনা করা হয়েছে। এটা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।’

প্রসঙ্গত, এদিন মমতার নিশানায় ছিল বিজেপি। নাম না করে গেরুয়া শিবিরকে বিঁধে তিনি বলেন, ‘আজকে সারা দেশে আদিবাসী-দলিতরা সবচেয়ে বেশি অত্যাচারিত। আমি সবাইকে মানুষ হিসাবে মনে করি। সম্মান দিই। আদিবাসীদের উন্নয়নের জন্য আমার সরকার সবসময় পাশে থাকবে।’ এরপরই তিনি পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তাদের উদ্দেশে বলেন, আমি খবর পাচ্ছি, ‘আবার মাওবাদীদের উসকানি দেওয়া হচ্ছে। অনেক কষ্ট করে রক্তাক্ত জঙ্গলমহলকে শান্ত করেছি। অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। কোনওমতেই জঙ্গলমহলকে আবার অশান্ত হতে দেব না।’ মুখ্যমন্ত্রী এও অভিযোগ করেন, ‘বাইরে থেকে লোক এসে অশান্তি পাকানোর ষড়যন্ত্র করছে। মুম্বই থেকে লোক আসছে টাকা নিয়ে। এখানকার গেস্ট হাউস গুলো ভাড়া নিচ্ছে। আপনারা দেখতে পাচ্ছেন না?’

আরও পড়ুন: ২০০১ থেকে ২০১৯… NOT OUT প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইনিংস

রাজ্য সরকারের পথশ্রী প্রকল্পের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পথশ্রী প্রকল্পের কাজে বাধা দেবেন না। টেন্ডার নিয়ে কোনও গন্ডগোল যেন না হয়। সব পঞ্চায়েত, সব রাজনৈতিক নেতৃত্বকে বলছি। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে কেউ টাকা চাইলে সোজা থানায় যান। সরকার জনগণের। কোনও রাজনৈতিক দলের নয়।’ অবৈধ বালি পাচার নিয়েও এদিন সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। ঝাড়গ্রামের বনভূমি কর্মাধ্যক্ষের অভিযোগ শুনেই রণমূর্তি ধারণ করেন মমতা। পুলিশ সুপার ও জেলাশাসককে নির্দেশ দেন, ‘বারবার কেন বলতে হয় এক কথা! কতবার বলেছি যারা এসব কাজ করছে তাদের চিহ্নিত করুন। কাদের এত ইন্টারেস্ট! স্ট্রং অ্যাকশন নিন। প্রয়োজনে কয়েকজনকে অ্যারেস্ট করুন। তবে শিক্ষা পাবে। যে কেউ এসব কাজ করবে তাদের কাউকে ছাড়ব না।’মুখ্যমন্ত্রী এই বার্তা দিয়ে স্পষ্ট করে জানান, জেলার পুলিশকে আরও সক্রিয় হতে হবে। তথ্য জোগাড় করতে হবে। তা না হলে এই ধরনের ঘটনা ঘটবেই। সরকারি টাকার নয়ছয় করে রাজ্যের সমস্যা বাড়ানো হবে, এই ভাবনা বরদাস্ত করা হবে না বলেও কড়া বার্তা সরকারি কর্মীদের দেন মুখ্যমন্ত্রী।

মঙ্গলবার পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রশাসনিক সভা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । সেখান থেকে তিনি বলেন, “ঝাড়গ্রামে হাতির তাণ্ডবে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, পশ্চিম মেদিনীপুরেও ঘটে। সেই কারণে সরকারের তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, হাতির হানায় মৃতের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য করা হবে। পাশাপাশি, মৃতের পরিবারের একজন চাকরিও পাবেন হোমগার্ড পদে।” পাশাপাশি মাওবাদী হামলায় মৃত অথবা ১০ বছর ধরে নিখোঁজের পরিবারের একজনকে চাকরি অথবা ৪ লক্ষ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলেও ওইদিন ঘোষণা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

 

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close