fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

দলীয় আভ্যন্তরীণ কোন্দলে পঞ্চায়েত প্রধানকে কালিমালিপ্ত করার অপচেষ্টা

জেলা প্রতিনিধি, হাঁসখালি: অতি সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত, পঞ্চায়েত প্রধানকে নাজেহাল করার প্রয়াসে তার দলের বর্তমান ও প্রাক্তনদের কেউ কেউ উঠে পড়ে লেগেছে এমনটাই অভিযোগ উঠেছে হাঁসখালি পঞ্চায়েত সমিতির অধীন ময়ুরহাট ১ নং গ্ৰাম পঞ্চায়েত প্রধান রামপদ ঘোষের বিরুদ্ধে। বিগত ২০১৪-১৫ আর্থিক বছরের রেশ টেনে তারই দায় চাপিয়ে দেওয়ার জঘন্য চক্রান্ত চলছে। বর্তমান প্রধান রামপদ ঘোষের বিরুদ্ধে, বাতাসে কান পাতলে তেমনটাই অভিযোগ শোনা যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বর্তমান প্রধান ওই সময়ে পঞ্চায়েতের কোন দায়িত্বে না থাকা সত্ত্বেও কেন জড়ানো হচ্ছে বর্তমান প্রধানের নাম এবং দীর্ঘ পাঁচ বছরের ব্যবধানে, তবে কি শুধু মাত্র ভাবমূর্তি নষ্ট করে ক্ষমতাচ্যুত করার অলীক কল্পনায় এই অবাস্তব প্রয়াস! দলেরই কিছু ক্ষমতালোভী সুবিধাবাদী চুনোপুটি নেতার ষড়যন্ত্রের শিকার হতে চলেছেন বর্তমান প্রধান, তেমনটাই মনে করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পঞ্চায়েত সদস্য-সদস্যা।

অভিযোগকারী নীলকমল সরকারের অসমাপ্ত ঘরের ছবি।

ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, ২০১৪-১৫ আর্থিক বছরে তৎকালীন ইন্দিরা আবাসের টাকা বন্টনকে কেন্দ্র করে তারকনগর দক্ষিণ পাড়ায় বাসিন্দা নীলকমল সরকারের নামে দুটি ঘর অনুমোদিত হয়। অভিযোগ, একটি ঘরের টাকা তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে (৭০হাজার) ঢুকে গেলেও অন্য টাকাটি নীলকমলবাবুর অজান্তে কে বা কারা তুলে নেয় বলে অভিযোগ।
তৎকালীন পঞ্চায়েত প্রধান ছিলেন যোগমায়া মজুমদার। বর্তমান প্রধান, তখনকার পঞ্চায়েত পরিচালন বোর্ডের কোন দায়িত্বে না থাকা সত্বেও শুধুমাত্র ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার প্রয়াসে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে তার নামে এবং দীর্ঘ পাঁচ বছর পর কেন এই অভিযোগ? কার ও মাধ্যমে প্রভাবিত কিনা, প্রশ্নের সদুত্তর মেলেনি অভিযোগকারী নীলকমলবাবুর কাছ থেকে। নীলকমলবাবুকে যুদ্ধের ঢাল করে অভিসন্ধি চরিতার্থের জঘন্য চক্রান্তে সামিল দলেরই একটি অংশ বলে অভিযোগ।

তৎকালীন প্রধানের ছায়া সঙ্গী, ব-কলমে তিনিই চালাতেন প্রধানের দায়িত্বভার, প্রয়াত প্রধান যোগমায়া মজুমদারের স্বামী কৃষ্ণপদ মজুমদার পুরোপুরি ঘটনাটি অস্বীকার করতে না পারলেও তার স্ত্রী যেহেতু প্রধান ছিলেন, তার উপর দায় চাপিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য মিনা সরকারের সাফ কথা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে বর্তমান প্রধান রামবাবুকে।১৩ জন মেম্বার নিয়ে গঠিত ময়ুরহাট ১ নং গ্ৰাম পঞ্চায়েত।

আরও পড়ুন:‘পথশ্রী অভিযান’ উদ্বোধনে এসে দলীয় কর্মীদের হাতে হেনস্থা তৃণমূল বিধায়িকা

প্রয়াত বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাসের পছন্দ অনুযায়ী রামপদবাবু কেই প্রধান নির্বাচিত করা হয়েছিল। যোগ্য দাবিদার অনেকেই ছিল, লড়াকু জননেতা সত্যজিৎ বিশ্বাসের পছন্দের উপর কেউ তখন কথা বলতে পারেননি, কিন্তু ক্ষোভ ছিল, সত্যজিৎ বিশ্বাস আততায়ীদের হাতে খুন হওয়ার পর, নেতৃত্বে শিথিলতা দেখা দেওয়ায় লালসা আবার মাথাচাড়া দিয়েছে, এবং তারই একটি বিক্ষিপ্ত ফলশ্রুতি স্বরূপ এই ঘটনা, এমনটাই মনে করেন এলাকার অনেকেই।

প্রধান হিসাবে যথেষ্ঠ সুনামের সঙ্গে কাজ করে চলেছে রামপদবাবুর নেতৃত্বাধীন ময়ুরহাট ১ নং গ্ৰাম পঞ্চায়েত, ব্লকের ১৩ টি গ্ৰাম পঞ্চায়েতের মধ্যে বিভিন্ন প্রকল্প রূপায়ণে প্রথম সারিতে অবস্থান এই পঞ্চায়েতের, তা সত্ত্বেও দলীয় গোষ্ঠী কোন্দলের শিকার আজ রামপদ ঘোষ।

Related Articles

Back to top button
Close