fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

পাল্টা ছক নয়াদিল্লির, সমুদ্রপথে চিনকে ‘ব্লক’ করবে ভারত-অস্ট্রেলিয়া পার্টনারশিপ

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: নয়াদিল্লি ও ক্যানবেরার মধ্যে যৌথ বাণিজ্যিক সম্পর্ক মজবুত করতে বৃহস্পতিবার পদক্ষেপ নিল দুই দেশের প্রশাসন। সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে এদিন ভিডিও কনফারেন্স মারফত মুখোমুখি হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অস্ট্রেলিয়ান প্রাইম মিনিস্টার স্কট মরিসন। ‌ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত নানান বিষয়ে আলোচনা হওয়ার পাশাপাশি এই ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় দুই রাষ্ট্রনেতার। এই দিনে আলোচনার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন এটাই সঠিক সময় এবং সুযোগ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার।‌

আঞ্চলিক ক্ষেত্র এবং আন্তর্জাতিক স্তরে ভারত-অস্ট্রেলিয়ার দ্বিপাক্ষিক অবদান কতটা বাড়তে পারে সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ান প্রাইম মিনিস্টার স্কট মরিসনের সামনে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুধুমাত্র ভারত মহাসাগরীয় না প্রশান্ত মহাসাগরীয় ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ও আন্তর্জাতিক স্তরে ভারত-অস্ট্রেলিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক দ্বিপাক্ষিক অবদান কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর মরিসনের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মোদি। উল্লেখ্য ২০০৯ সাল থেকে ভারত অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে একটি স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং সেই স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ অনুযায়ী এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারত অস্ট্রেলিয়া যৌথ নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করবে প্রতিরক্ষা, যৌথ মেরিটাইম রিসার্চ নিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা করবে দিল্লি ও ক্যানবেরা। বাণিজ্য ক্ষেত্রে ২০১৮-১৯ আর্থিক বর্ষে ভারত অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে ২১ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। গত দু বছরে কমপক্ষে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট অন ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ডে বিনিয়োগ করেছে অস্ট্রেলিয়া। পাশাপাশি প্রায় সমসাময়িক ১০ বিলিয়ন ডলার অস্ট্রেলিয়াতে বিনিয়োগ করেছে ভারত। বীমা এবং পেনশন ক্ষেত্রেও ভারত-অস্ট্রেলিয়া যৌথভাবে ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। দু’দেশের মধ্যে আর্থিক ক্ষেত্রে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ভারসাম্য থাকায় ভারত-অস্ট্রেলিয়ার স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ আর ও সুদৃঢ় করে তুলেছে বলে মনে করছে কূটনীতিক মহল।

 

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের আগ্রাসন রুখতে ২০১৫ সালে ভারত অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে একটি যৌথ মেরিটাইম সিকিউরিটির দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয়েছিল।

সেই চুক্তি অনুযায়ী এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় ভারত সাগরের ভারত-অস্ট্রেলিয়া যৌথভাবে নিজেদের নৌবাহিনীর শক্তিকে ব্যবহার করবে। ২০১৯ সালের ভারত অস্ট্রেলিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া অসি-ইন্ডেক্স অনুষ্ঠিত হয়েছিল বঙ্গোপসাগরে। সীমান্ত পারের সন্ত্রাস এবং পাকিস্তান ইস্যুতেও বরাবরই ভারতের পাশে থেকেছে অস্ট্রেলিয়া। কতবছর রাষ্ট্রপুঞ্জে মাসুদ আজহার কে বিশ্ব সন্ত্রাসবাদ ঘোষণায় ভারতের পক্ষে সাওয়াল করেছিল স্কট মরিসন প্রশাসন।

সম্প্রতি লাদাখে চিনের আগ্রাসনে প্রতিষ্ঠায় উত্তপ্ত হয়েছে ভারত চীন সম্পর্ক। অপরদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনা নৌবাহিনীর আগ্রাসনকে নিয়ে উদ্বিগ্ন অষ্ট্রেলিয়াও। তাই করোনা আবহে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ‘ব্লক’ করতে নয়াদিল্লি ক্যানবেরার মধ্যে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল।

Related Articles

Back to top button
Close