fbpx
কলকাতাহেডলাইন

মেট্রো চালু হতেই কলকাতার অন্তত ৭০ টি রুটে ফের গড়াল তিনচাকা

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: লকডাউন ঘোষণার পর থেকে অটো চলাচল বন্ধই ছিল। লকডাউনের চতুর্থ পর্যায়ের ঘোষণার সময়ই মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২৭ মে থেকে অটো চলতে শুরু শহরের অলিগলিতে। দীর্ঘ লকডাউন আর আনলকের প্যাঁচে অটো প্রায় যেন থমকে গিয়েছিল রাস্তায়। লকডাউন শেষ করে আনলকের দিনগুলিতে অটোর অভাব বোধ করে যাত্রার। তুলনামূলক কম সংখ্যায় চলছিল, যার ফলে পিছিয়ে পড়েছে অটো। যে যান ছিল করোনা অতিমারির আগে মেট্রো স্টেশনে যাওয়া বা বাড়ি ফেরার জন্য এক মাত্র পরিবহণ, এখন অটো যাত্রী পাচ্ছে না।

প্রায় ছ’মাস ধরে তিন চাকার বাহনটির জায়গা হয়েছিল গ্যারেজে অথবা পড়ে থাকত রাস্তায়। এতদিন তাঁদের পরিবারের অনেকের মুখেই দু’বেলা দু’মুঠো ভাত ওঠেনি। অবশেষে মুখ তুলে চেয়েছেন বিশ্বকর্মা। তাঁর পুজোর আগেই তাই ঘুরতে শুরু করল বহু রুটের তিনচাকা । যেগুলো কিনা মেট্রো বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বসে গিয়েছিল। সোমবার শহরের লাইফ-লাইন মেট্রো চালু হয়ে যাওয়ায় প্রাণ ফিরে পেল অটো। যে তিন চাকার যান দৌড়তে গিয়েও ব্রেক ধরতে হচ্ছিল, সোমবার দ্রুতগামী হয়ে উঠল।মেট্রোর অনুমতি মিললেও সোমবার বিশেষ ভিড় ছিল না। ফলে অটোচালকরাও যাত্রী খুব একটা পাননি। তা সত্ত্বেও আশায় তাঁরা।

উত্তরে নোয়াপাড়া, দমদম থেকে দক্ষিণে নিউ গড়িয়া, নজরুল, গীতাঞ্জলি। মেট্রো বন্ধ হওয়ার পর থেকেই স্টেশন-লাগোয়া রুটগুলো অধিকাংশই হয়ে যায় বন্ধ। আনলক শুরু হওয়ার পর কিছু অটো রাস্তায় নামলেও যাত্রী হচ্ছিল না। তাই কোথাও দ্বিগুণ, কোথাও তিনগুণ ভাড়া হাঁকছিলেন চালকরা। কিন্তু সোমবার থেকে মেট্রোর চাকা গড়ানোয় পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে। এদিন সকাল থেকেই পুরনো রুটগুলো আবার পুরনো মেজাজে ফিরেছে। আগের তুলনায় যাত্রী এদিন সেভাবে হয়নি, তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি যে বদলাবে, তা বেশ টের পাচ্ছেন অটোচালকরা। একেকটি মেট্রো স্টেশনকে কেন্দ্র করে চারদিক মিলিয়ে অন্তত ছয় থেকে দশটি করে অটো রুট। অর্থাৎ একেক স্টেশনেই প্রায় একশো অটোচালকের জীবন-জীবিকা জড়িয়ে, যাঁরা এদিন থেকে ফের একটু স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন। ধরা যাক, নোয়াপাড়া স্টেশন । এই স্টেশনকে কেন্দ্র করেই রয়েছে, নোয়াপাড়া-টবিন রোড, নোয়াপাড়া-ডানলপ, নোয়াপাড়া-বনহুগলি, নোয়াপাড়া-অনন্যার মতো বেশ কিছু রুট। যেগুলো যাত্রী না পেয়ে প্রায় মাছি তাড়াচ্ছিল এতদিন। অধিকাংশই গাড়ি নামাচ্ছিলেন না। এদিন থেকে ফের তিন চাকার যান নিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন তাঁরা।

আরও পড়ুন: ধর্ষকদের ওপর কেমিক্যাল ব্যবহার করে নপুংসক বানিয়ে দিন, দাবি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর

এক অটোচালক জানাচ্ছেন, টালিগঞ্জ থেকে যাদবপুরের অটো চালিয়ে আগে পকেটে আসত ৪০০ টাকা, এখন তার পরিমাণ হয়েছে ১০০ টাকা। সোমবার মেট্রোর চাকা ঘুরতেই তার পরিমাণ বেড়ে হল দেড়শো টাকা। স্বেচ্ছায় কেউ বেশি ভাড়া দিলেও, অতিরিক্ত টাকার দাবি করতে পারছেন না অনেক চালকই। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে যা ভাড়া তার চেয়ে দ্বিগুন-তিগুন ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছিল যাত্রীদের। মেট্রো চালু হওয়ায় যাত্রী সংখ্যা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পাওয়ায় যাত্রী ভোগান্তি কিছুটা হলে লাঘব হবে মনে করছে সাধারণ মানুষ। এক অটোচালক জানাচ্ছেন, এবার একটু প্যাসেঞ্জার হবে বলে মনে হচ্ছে। খুব দরকার যাত্রীর সংখ্যা বাড়া। যাত্রীদের আনাগোনা না বাড়লে পেট চালাবো কী করে?’

ভিন্ন অভিজ্ঞতার সাক্ষী হাজরা থেকে বেহালা অটো চালকের মত। তাঁদের কাছে মেট্রোরেল শহরে বুকে উত্তর থেকে দক্ষিণ গেলেও স্কুল ও কলেজ যাত্রীদের আনাগোনা না হলে আশাপূরণ হওয়া কষ্টকর। হাজরা থেকে খিদিরপুরের চালকদের মত, এত কম রোজগারের পরেও মেট্রোরেল যে কিছু পকেট ভরাবে তা আশা করা যায়। তবে মেট্রোরেল নানা সমস্যার জন্য হয়তো যাত্রী কম প্রথম দিনে। সমস্যার সমাধান হলে অটোর যাত্রী বাড়বে বলে আশাবাদী অটোচালকরা।

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close