fbpx
কলকাতাহেডলাইন

ত্রাণ দূর্নীতির অভিযোগ এলে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে শো-কজের নির্দেশ অভিষেকের

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: ত্রাণবণ্টন নিয়ে যতজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ দলের কাছে এসেছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আরও কড়া পদক্ষেপ করার পথে হাঁটছে তৃণমূল।  খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, আর  ফের হুঁশিয়ারি দিলেন অভিষেক-পার্থ-সুব্রত।  ত্রাণবণ্টন নিয়ে যতজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ দলের কাছে এসেছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আরও কড়া পদক্ষেপ করার পথে হাঁটছে তৃণমূল। বৃহস্পতিবার দলীয় নেতৃত্ব পরিষ্কার নির্দেশ দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই প্রথমে শোকজ করা হবে। তারপর দলীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণ হলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। দরকারে বহিষ্কার।

ইতিমধ্যেই বিজেপি, সিপিএম ও কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সর্বদলীয় বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এই ত্রাণ বণ্টন নিয়ে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ জানানো হয়েছে। সেই কারণেই বুধবারই মুখ্যমন্ত্রী সকলকে সাত দিনের সময় দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে সব জেলার সভাপতিদের সঙ্গে ভিডিয়ো কনফারেন্সে ফের সেই বার্তাই দিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও দুই বর্ষীয়ান নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও সুব্রত বক্সী।

উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গের বিভিন্ন জেলায় দলের যে নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের নামের তালিকা তুলে দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট জেলা সভাপতিদের হতে। সূত্রের খবর, অভিযুক্তদের শোকজ করার পর ডেকে কথা বলবে দল। জানা গিয়েছে, রেশনের চাল থেকে ত্রিপল নিয়ে অনিয়ম করার মত ছোটখাটো অভিযোগও দল গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখবে। তা প্রমাণিত হলে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা।  আমফানের ত্রাণ কিংবা রেশন নিয়ে স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেই সঙ্গে সঙ্গেই পদক্ষেপ করার ব্যাপারে জেলা সভাপতির নির্দেশ দিল তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। জানা গিয়েছে, অভিষেক এই বৈঠকে সব জেলা সভাপতিকে নির্দেশ দিয়েছেন, কোনও নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ কানে এলেই জেলা সভাপতি তাঁকে শো-কজ করবেন। অভিযুক্ত নেতাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তার জবাব দিতে হবে। সেই জবাবে যদি জেলা সভাপতি সন্তুষ্ট না হন, তাহলে তা পাঠিয়ে দেবেন দলের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির কাছে। পরবর্তী পদক্ষেপ তাঁরাই করবেন।

আরও পড়ুন: রেশনের চাল অন্যত্র পাচারের অভিযোগে আটক টোটো চালক, বাজেয়াপ্ত চাল

এর মধ্যেই বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রচারে আরও জোর দেওয়ার কথা উঠে এল এদিনের বৈঠকে। তার জন্য জেলাস্তরে আরও এক দফার সাংবাদিক বৈঠকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ যোজনায় ঘোষণা হয়েছিল যে জেলায় ২০ হাজারের বেশি পরিযায়ী শ্রমিক এসেছেন, সেই জেলার জন্যই মিলবে আর্থিক অনুদান। বাংলার প্রত্যেক জেলায় এই সংখ্যক শ্রমিক ফেরার পরও বাংলা বঞ্চিত। সাংবাদিক বৈঠকে এ নিয়ে সরব হতে হবে। এছাড়া PM-CARES থেকে যে টাকা উঠবে তার থেকে দশ হাজার টাকা করে পরিযায়ী শ্রমিকদের হতে দেওয়ার দাবি তুলেছিল তৃণমূল। মেলেনি তাও। এই বিষয়কে সামনে রেখেও সরব হওয়ার পরিকল্পনা স্থির হয়েছে। বাংলার প্রাপ্য বকেয়া মেটানোরও দাবি তুলতে চায় রাজ্যের শাসকদল। বৃহস্পতিবার তৃণমূল ভবনে এক সাংবাদিক বৈঠকে বিধায়ক সমীর চক্রবর্তী দাবি করেছেন, পাঁচ হাজার কোটি টাকা উঠেছে এই ফান্ডে। বিজেপি ঘনিষ্ঠ কোনও সংস্থাকে দিয়ে এর অডিট করানোর অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে তৃণমূল যে অত্যন্ত কঠোর, তার একাধিক উদাহরণ তুলে অভিষেক জানান, এই নিয়ে দল কোনওরকম দুর্নীতি বা দলবাজি বরদাস্ত করবে না। প্রতিটি মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে হবে। যার প্রয়োজন তার নাম যেন কোনওভাবেই বাদ না যায়, তা দেখতে হবে জেলা সভাপতিদেরই।

 

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close