fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণদেশপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

করোনা মোকাবিলায় কেন্দ্রের ‘আরোগ্য সেতু’ অ্যাপের ব্যবহারে পিছিয়ে ভারত! প্রশ্নের মুখে সচেতনতা

সুজয় অধিকারী: আরোগ্য সেতু, করোনা মোকাবিলার অ্যাপ লঞ্চ হয়েছে ৬ দিন আগে। আর এখন তার ডাউনলোড সংখ্যা প্রায় এক কোটির মতো। এই অ্যাপ-এর আকার খুব বড় নয়। প্রায় ৩-এমবির মত। এর মাধ্যমে মানুষ জানতে পারবে তার করোনা হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না। অ্যাপটি ফোনে ইন্সটল করার সঙ্গে সঙ্গেই প্রাথমিক কিছু তথ্য অ্যাপটিতে দিতে হবে।

যেমন ব্যবহারকারীর নাম, বয়স, লিঙ্গ, কোন শারীরিক অসুস্থতা আগে থেকেই আছে কিনা বা বিদেশ থেকে ফিরেছে কিনা বা কেউ বিদেশ বা বাইরের রাজ্য থেকে ফেরা ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছে কিনা। এ সমস্ত ইনফরমেশন প্রথমে চেয়ে নেওয়া হবে। ব্যবহারকারী যদি সঠিক তথ্য দেয় তাহলে তার মাধ্যমে ওখানে ফলাফলে বলে দেয় যে ব্যবহারকারীর করোনা আক্রান্তের সম্ভাবনা আছে কিনা। এমনকী এই অ্যাপটা ইন্সটল করার সঙ্গে সঙ্গেই ফোনের ব্লুটুথ, জিপিএস কানেকশন অন করার পারমিশন নেওয়া। এর থেকে ব্যবহারকারী ব্যক্তি যদি কোনও করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি আসে তাহলে এটি থেকে ফোনে নোটিফিকেশন আসতে থাকে।

আরও পড়ুন: করোনা আক্রান্ত হাওড়া হাসপাতালের সুপার

এছাড়াও অ্যাপের মধ্যে করোনা মোকাবিলার জন্য যাবতীয় সতর্কবার্তা দেওয়া আছে। সঙ্গে কিছু হেল্পলাইন নম্বর দেওয়া আছে যেখানে ফোন করে গ্রাহকরা প্রয়োজনীয় তথ্য নিতে পারেন। এই অ্যাপটির আরও একটি সুবিধা হল এটি ভারতীয় ৯ টি আলাদা আলাদা ভাষায় কাজ করে। যাতে যে কোনও এলাকার, যে কোনও রকম শিক্ষায় অবস্থানকারী মানুষ এই অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন। এখনও পর্যন্ত অ্যান্ড্রয়েড ও অ্যাপেল ব্যবহারকারীদের জন্য আরোগ্য সেতু অ্যাপ রাখা হয়েছে।

প্রায় ১৪০ কোটি ভারতীয় করোনার জন্য লকডাউনে পড়ে আছে। এরপর কিছু সাধারণ মানুষের চাকরি চলে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। পুরো বিশ্বে আর্থিক মন্দা আসার সম্ভাবনা এত কিছুর পরেও এই অ্যাপ ডাউনলোড এর সংখ্যা মাত্র ১ কোটি। তাহলে বাকি স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা কি নিশ্চিত যে তাদের করোনা সংক্রমণের সম্ভাবনা নেই!

সঙ্গে আরেকটি প্রশ্ন উঠে আসে চিনের দেখানো পথেই কি ভারত চলেছে? চিনে লকডাউনের সময় দেশের নাগরিকদের কিছু নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছিলেন চিনা সরকার। তার মধ্যে একটি অন্যতম হল স্মার্টফোনের মধ্যে একটি অ্যাপের ব্যবহার যা ভারতের করোনা কবচ অ্যাপ বা আরোগ্য সেতুর মতোই। সেখানে প্রায় সব নাগরিককে এই অ্যাপ ফোনে রাখা আবশ্যিক করা হয়েছিল।

যে নাগরিক বা ব্যক্তি এই অ্যাপ ব্যবহার করবে না তারা পাবলিক ট্রান্সপোর্ট যেমন বাস-ট্রেন, ট্রাম এসব পরিষেবা পাবে না। সে সময় দেখা গিয়েছিল চিনে প্রায় সমস্ত স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা এই অ্যাপ ব্যবহার নিয়ে যথেষ্ট সচেতন ছিলেন। আর আজ এই সচেতনতার তার ফল ভোগ করছে চিন। চিনে করোনা রোগ প্রথম দেখা দিলেও তারা এ সমস্ত পদ্ধতি মেনে করোনা ভাইরাসকে প্রায় দমন করতে পেরেছে।

আরও পড়ুন: লকডাউন ওঠার আগেই দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার পেরোবে !

কিন্তু ভারতে লকডাউনের পরেও যেখানে মানুষ লকডাউন না মেনে পাড়ার মোড়ে আড্ডা দিচ্ছে, সভা -সমিতি করছে, জমায়েত করছে এমনকি অনুদান দেওয়ার নাম করে ও একটু ফাঁকে ঘুরে আসার সুযোগ খুঁজছে। সেখানে মানুষ কি ভারত সরকারের লঞ্চ করা আরোগ্য সেতু অ্যাপ ব্যবহার করবে? আর করলেও এ রকম সচেতন নাগরিকের সংখ্যা কত হবে?

বিশেষজ্ঞদের কথায়, লক ডাউন সফল করতে রাস্তায় যেরকম একদল লাঠিয়াল পুলিশকর্মী নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। সে রকম আরোগ্য সেতু অ্যাপ ব্যবহারকেও আবশ্যিক করার জন্য ভারত সরকারের কিছু ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

Related Articles

Back to top button
Close