fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বেলপাহাড়ি গিয়ে মানুষের অভাব-অভিযোগের কথা শুনলেন ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক আয়েশা রানি

সুদর্শন বেরা, ঝাড়গ্রাম: শনিবার ঝাড়খন্ড সীমান্তবর্তী ঝাড়গ্রাম জেলার বিনপুর দুই ব্লকের বেলপাহাড়ি থানার অন্তর্গত বাঁশপাহাড়ি অঞ্চলের দলদলি গ্রামে জেলা প্রশাসনের অধিকারীদের সঙ্গে নিয়ে যান ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক আয়েশা রানি। তিনি খাটিয়াতে বসে দরিদ্র গ্রামবাসীদের অভাব-অভিযোগের কথা মন দিয়ে শোনেন । গ্রামবাসীরা জেলাশাসক কে খুব কাছে পেয়ে তাদের অভাব-অভিযোগের কথা বিস্তারিতভাবে জানান।

জেলাশাসক ওই গ্রামের দরিদ্র পরিবারগুলি কে তাদের যে সমস্যা রয়েছে তা দ্রুত সমাধান করার আশ্বাস দেন । জেলাশাসক কে এলাকার বাসিন্দারা বাড়ির মেয়ের মত খাটিয়াতে বসে কথা বলতে পারবেন তা তারা কোনওদিন ভাবেননি। ওই গ্রামের একের পর এক মানুষের কাছ থেকে অভাব-অভিযোগের কথা মন দিয়ে শুনেন জেলাশাসক। তিনি শিশুদের আদর করেন। যা দেখে অবাক এলাকার বাসিন্দারা। তারা কোনদিন এভাবে কাছ থেকে জেলাশাসককে দেখতে পাবেন তা কল্পনাও করতে পারেননি। কারণ তাদের কোনো প্রয়োজন হলে ঝাড়গ্রাম শহরে জেলাশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে কাগজপত্র জমা দিতে হতো ।

কিন্তু খোদ জেলাশাসক যে গ্রামে আসবেন তা তারা স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেন না। জেলাশাসক আয়েশা রানি গ্রামবাসীদের বলেন সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলবেন, প্রত্যেককে মাস্ক ব্যবহার করবেন, করোনা নিয়ে মানুষকে সচেতন করবেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন। একসময় মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত দলদলি। একবার মাওবাদীদের ল্যান্ড মাইন বিস্ফোরণে উড়ে গিয়েছিল স্বাস্থ্যকর্মীদের গাড়ি। মারা গিয়েছিলেন কয়েকজন। সেই দলদলি গ্রামে পায়ে হেঁটে গ্রামবাসীদের সাথে কথা বললেন তাদের সমস্যার কথা মন দিয়ে শুনলেন জেলাশাসক। যা বিরল ঘটনা বলে জানালেন ওই গ্রামের দরিদ্র পরিবারগুলির বাসিন্দারা ।

তারা ফের জেলাশাসক কে তাদের গ্রামে যাওয়ার আবেদন জানান। কারণ এই সময় জঙ্গলমহল জুড়ে চলছে বাঁধনা পরব এর প্রস্তুতি ।ঠিক সেই সময় ঝাড়খন্ড সীমান্তবর্তী দলদলি গ্রামে গিয়ে জেলাশাসক গ্রামবাসীদের সাথে কথা বলায় রীতিমতো ঝাড়গ্রাম জেলার দলদলি গ্রামের বাসিন্দারা খুবখুশি।

Related Articles

Back to top button
Close