fbpx
দেশহেডলাইন

এগিয়ে আয়ুর্বেদ, নাকি টাকা লুটের চেষ্টা!

সুজয় অধিকারী: অপেক্ষা শুধু একটা অনুমতির, তারপর বাজারে এসে যাবে ছড়িয়ে যাবে পতঞ্জলির করোলিন। আর বাজার জুড়ে নেওয়াটাও স্বাভাবিক। কারণ কোনো সংস্থা যদি দাবি করে আমরা ১০০ শতাংশ সফল করোনা রোগীদের সুস্থ করতে, বিশেষ করে পতঞ্জলির মত নামিদামি সংস্থা। দরকার নেই কোনও অ্যালোপ্যাথি ঔষধের। করোলিন প্রয়োগেই মিলবে সম্পূর্ণ সুস্থতা। এমনকি অ্যালোপ্যাথিক নামিদামি চিকিৎসকরাও নাকি পতঞ্জলির করোলিন ব্যবহার করে সফল হয়েছে সঙ্গে তাঁরাও নাকি করোনার প্রতিষেধক হিসাবে করোলিন প্রয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন। ওষুধ প্রয়োগের তিনদিনের মধ্যেই পাওয়া যাবে ৬৯ শতাংশ সুস্থতা আর এক সপ্তাহের মধ্যেই সম্পূর্ণ সুস্থ সঙ্গে শারীরিক দিক থেকেও তরতাজা হয়ে উঠবে করোনা রোগী।

 

 

 

এমনকি ২৮০ জন রোগীর শরীরে ট্রায়ালে সফলতা মিলেছে করোলিনের। দাম ও সাধের মধ্যে, ৫৪৫ টাকা। এখনো পর্যন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমতিপ্রাপ্ত কোনও ১০০ শতাংশ সফল চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার হয়নি করোনার। কিছু ওষুধ বাজারে এলেও তা সম্পূর্ণভাবে করোনা অসুস্থ করতে সফল, এমন দাবী করতে পারে না। আর বাকি ওষুধ শুধু সংক্রমণ ঠেকাতে কাজে আসে অর্থাৎ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কাজে লাগছে। যদি হোমিওপ্যাথির দিকে দেখা যায় তাহলে আর্সেনিক এলবাম ওষুধ প্রয়োগের পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। এতে শরীরে করোনা প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়তে পারে। অন্যদিকে অ্যালোপ্যাথির দিক থেকেও ফেবিফ্লুর মতো কিছু ওষুধের নাম উঠে আসে। কিন্তু তারা ১০০ শতাংশ সাফল্যের দাবি করতে পারে না। আর এদিকে রাতারাতি দাবি করল পতঞ্জলি! কিভাবে সম্ভব, আর কোথায় পেয়েছে করোনা রোগের ওষুধ তৈরির অনুমতি ? ওষুধ তৈরীর অনুমতির জন্য আবেদন পত্রে উল্লেখ ছিল সর্দি জ্বরের ওষুধের কথা। তার মধ্যেই করার ওষুধ!

 

 

যদিও আয়ুশ মন্ত্রকের তরফ থেকে বলা হয়েছে, ওষুধ যে কেউ তৈরি করতে পারবেন। তবে তার যাবতীয় নথিপত্র কেন্দ্রকে দিতে হবে আর কেন্দ্রের নজরদারির মধ্যে চলবে ঔষধ এর যাবতীয় পরীক্ষা ও প্রয়োগ। পতঞ্জলির করোলিন ওষুধের নাম ছড়িয়ে যাওয়ায় তামিলনাড়ুর আরো এক আয়ুর্বেদিক সংস্থা দাবি করছে তারা নাকি শত বছর পুরনো চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পূর্ণ সুস্থ করতে পারবে করোনা রোগীদের। যেখানে অতি প্রভাবশালী অ্যালোপ্যাথি ওষুধ এখনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যেই আটকে আছে, সেখানে একের পর এক আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগে করোনা রোগ দমনে দাবি করছে একাধিক সংস্থা। কতটা সত্য এই দাবি, সবই প্রমাণ হয়ে যাবে আয়ুস মন্ত্রকের করোলিন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরেই।

Related Articles

Back to top button
Close