fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মালদা বিস্ফোরণে নিহত স্কুল পড়ুয়া কারখানার শ্রমিক আজিজুল

মিল্টন পাল,মালদা: ভিন রাজ্য শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালায় বাবা। তাই বাবার সংসারে সাহায্য করতে প্লাস্টিক কারখানায় কাজ শুরু করেছিল ক্লাস সেভেনের পড়ুয়া আজিজুল রহমান। স্কুল বন্ধ থাকায় কাজ করে মায়ের হাতে তুলে দিত টাকা। আজিজুলের রোজগার করায় কিছুটা হলেও সাচ্ছন্দ হয়েছিল সংসারের।

লকডাউনে মুম্বাইয়ে আটকে পড়েছিল বাবা মোস্তাফা শেখ। লকডাউনে ভিনরাজ্যে কাজ হারিয়ে ছিল বাবা। তখন চরম সমস্যায় পড়েছিল পরিবার। সেই সময়েই পরিবারের বড় ছেলে আজিজুল স্থানীয় প্লাস্টিক কারখানায় কাজ শুরু করেছিল। স্কুল বন্ধ থাকায় নিয়মিত কাজ শুরু করে। এদিকে বাবা মোস্তাফা শেখ বর্তমানে মুম্বাইয়ে শ্রমিকের কাজ করছেন। কালিয়াচকের সুজাপুর নাজিরপুরে বাড়ি আজিজুল রহমানের। গ্রামের পাশেই সুজাপুরে প্লাস্টিক কারখানা রয়েছে। সেখানে প্লাস্টিক বাছাই ও কাটার কাজ করে এলাকার বহু যুবক। সেখানে কিছু অল্প বয়সের ছেলেরাও কাজ করে। তাদের মধ্যে আজিজুল রহমান। বর্তমানে নাজিরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র। প্রতিদিনের মত বৃহস্পতিবার সকালে বাড়িতে খাওয়া দাওয়া করে কারখানায় কাজে গিয়েছিল আজিজুল রহমান। বেলা ১১ টা নাগাদ বিস্ফোরণ ঘটে কারখানায়। খবর পেয়ে ছুটে যায় পরিবারের লোকেরা। ঘটনাস্থলে আজিজুলকে দেখতে না পেয়ে ছুটে আসে মালদা মেডিকেলে।

কিন্তু বিস্ফোরণে মৃতদেহ গুলি ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিকৃত হয়ে যায় দেহ। তাই দেহ চিহ্নিত করতে প্রথমে সমস্যায় পড়েন পরিবারের লোকেরা। জামা, প্যান্ট ও শরীরের গঠন দেখে দেহটি চিহ্নিত করে। মেডিকেলের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়ে পরিবার পরিজনেরা। আজিজুলের এক আত্মীয় লিলি বিবি জানান, স্কুলে পড়াশোনা করত আজিজুল। লকডাউনে স্কুল বন্ধ তাই কারখানায় কাজ শুরু করে। অভাবি সংসারে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে কাজ শুরু করে। এদিন আমরা খবর পেয়ে প্রথমে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সেখানে দেখতে না পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসি। এখানে দেহ চিহ্নিত্ করি। মোস্তাফা শেখের বড় ছেলে আজিজুল রহমান। আজিজুলের আরও তিন ভাই রয়েছে। সবার বড় আজিজুল।

তাই একটু বড় হতেই সে কাজ শুরু করে। পরিবারের লোকেরা জানান, আজিজুল পড়াশোনাতেও ভাল ছিল। নিয়মিত স্কুলেও যেত। স্কুল ছুটি থাকলে কাজে যেত। সেই টাকায় নিজের পড়াশোনার খরচ চালাত। তারপর কিছু টাকা বাঁচলে মায়ের হাতে তুলে দিত। এইভাবেই সংসারের কিছু কিছু করে সাহায্য করত। তবে লকডাউনে স্কুল বন্ধ থাকায় দীর্ঘদিন টানা কাজ শুরু করে। প্লাস্টিক কারখানায়  ১৮০ টাকা করে মজুরি দেয়। প্রতিদিন সকাল ৭ টা থেকে বিকেল ৪ টে পর্যন্ত কাজ হয়। মাঝে খাওয়ার জন্য কিছু সময় দিত। সেলিনা বিবি আজিজুলের এক আত্মীয় জানান, পড়াশোনাতেও ভাল ছিশ আজিছুল। স্কুল বন্ধ থাকায় কাজ করছিল। গরীব সংসারে কিছু আর্থিক সাহায্য করছিল। তার মৃত্যুতে শোকাহত আমরা।

Related Articles

Back to top button
Close