fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

দুয়ারে সরকারের অজানা কথা, কাঁকসায় সরকারি সহায়তার ফর্ম নিতে হেঁটেই পঞ্চায়েতে ষাটোর্দ্ধ বৃদ্ধ বাবুলাল

জয়দেব লাহা, দুর্গাপুর: ‘দুয়ারে সরকার’। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে  সরকারি প্রকল্পের পরিষেবা নেওয়ার। আর ওই সরকারি সহায়তা নিতে পঞ্চায়েত গেলেন ষাটার্দ্ধো আদিবাসী বৃদ্ধ। ফর্ম নিয়ে হেঁটে বাড়ি ফেরার মাঝপথে দাঁড়িয়ে শোনালেন চরম বঞ্চনার কাহিনি। নজিরবিহিন ঘটনাটি কাঁকসার ত্রিলোকচন্দ্রপুর পঞ্চায়েতে।

অসহায় বৃদ্ধের নাম বাবুলাল মারান্ডি। আধার অনুযায়ী বয়স প্রায় ৬৫ বছর। বয়সের ভারে জর্জরিত। সোজা হয়ে চলার ক্ষমতা হারিয়েছে। লাঠি নিয়ে কুঁজিয়ে চলেন। কাঁকসার ত্রিলোকচন্দ্রপুর পঞ্চায়েতের সুন্দিয়াড়ার ৩২ নং সংসদের বাসিন্দা। মঙ্গলবার থেকে সারা রাজ্যের সঙ্গে কাঁকসার ত্রিলোকচন্দ্রপুর পঞ্চায়েতে শুরু হয়েছে ‘দুয়ারে সরকার’। পঞ্চায়েত অফিসে সরকারি নানান সুবিধা পাওয়ার আবেদন পত্র নেওয়া ও জমা দেওয়ার স্টল বসানো হয়েছে। স্বাস্থ্যসাথীর প্রকল্প থেকে জাতিগত শংসাপত্র, পুরোহিত ভাতা, কন্যাশ্রী সবরকম প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা পাওয়ার আবেদন পত্র দেওয়া নেওয়া শুরু হয়েছে। সকাল থেকে লম্বা লাইন। প্রশাসনিক কর্তাদের জোর তৎপরতা।

হাজির ছিলেন কাঁকসা বিডিও সুদীপ্ত ভাট্টাচার্য, দুর্গাপুর মহকুমাশাসক অর্ঘপ্রসন্ন কাজী, পশ্চিম বর্ধমান জেলাশাসক পুর্নেন্দু মাজি। কমপক্ষে হাজার পাঁচেক বাসিন্দার লম্বা লাইন। জেলাশাসকের নির্দেশে লাইনে থাকা সকলকে ফর্ম দেওয়া হয়। পঞ্চায়েত থেকে ফর্ম নিয়ে বাড়ী ফেরার পথে সাক্ষাৎ সুন্দিয়াড়ার বাবুলাল মারান্ডির। লাঠি হাতেই বাড়ির পথে হেঁটে চলছেন। পঞ্চায়েত অফিস থেকে বাড়ী প্রায় ৫-৬ কিলোমিটার হলেও প্রায় দেড় কিলোমিটার হেঁটে বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছান। মাঝপথে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞাসা করতেই বাবুলালবাবু শোনালেন বঞ্চনার কাহিনী। তিনি বলেন,” স্বাস্থ্যসাথীর ফর্ম আনতেই পঞ্চায়েতে গিয়েছিলাম।” সরকারি সুবিধা পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন,” বার্ধ্যক্যভাতা জোটেনি। আবাস যোজনার বাড়িও জোটেনি। তবে ছোটো রেশন কার্ড পেয়েছি।” আর এখানেই প্রশ্ন। পরিষেবা নিতে যখন ‘দুয়ারে সরকার’,  তখন ষাটোর্দ্ধো বৃদ্ধকে করোনা আবহে ভিড়ের মাঝে কেন পৌঁছাতে হল পঞ্চায়েতে? কেনইবা এতদিন বার্ধক্যভাতা, স্বাস্থসাথী পাননি?

স্থানীয় বিজেপি নেতা রমন শর্মা বলেন,” তৃণমূলের পায়ের তলার মাটি সরে গেছে। তাই নির্বাচনের আগে মানুষের মন জয় করতে এটা গিমিক। দুয়ারে সরকারের নামে মানুষকে ঠাকাচ্ছে। দুয়ারে সরকার, না সরকারের দুয়ারে? আগেও সাধারণ মানুষ পঞ্চায়েতে, ব্লকে গিয়েছে। সুযোগ সুবিধা পায়নি। এখনও যেতে হল। সরকার কোন বাসিন্দার দুয়ারে যায়নি। তাও আবার করোনা আবহে সামাজিক দুরত্বকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে বাবুলালের মতো অনেক বয়স্কককে আসতে হয়েছে ভিড়ে। আমার মনে হয় ওইসব বৃদ্ধদের আরও বিপাকে ফেলা হল। স্বাস্থবিধি লঙ্ঘন করা হয়েছে। তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

আরও পড়ুন: উদ্বাস্তুদের নিয়ে তৃণমূলের নোংরা রাজনীতির অধ্যায় শেষ হতে চলেছে: সায়ন্তন বসু

সুন্দিয়াড়া গ্রামের তৃণমূলকর্মী তপন লাহা বলেন,” বিষয়টি নজরে আছে। বাবুলালবাবু কুড়ি বছর আগে গ্যাঁড়াদহ গ্রামে থাকতেন। তারপর দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকের জেমুয়ার কালিগঞ্জে ছেলেদের কাছে চলে যায়। সেখানে ভোটার কার্ড, আধারকার্ড হয়েছে। তারপর বছরখানেক হল আবার সুন্দিয়াড়া গ্রামে এসেছে। তার ভোটারকার্ড, আধারকার্ড বদলের জন্য প্রক্রিয়া চলছে। খুব শীঘ্রই সমাধান হয়ে যাবে।”

পশ্চিম বর্ধমান জেলাশাসক পুর্নেন্দু মাজি বলেন,” কাজের শেষ নেই। কোনও কাজ ৮০ শতাংশ, কোন কাজ ৯০ শতাংশ হয়েছে। ১০০ শতাংশ পরিষেবা দেওয়ার জন্য পুরন করার জন্য দুয়ারে সরকার। বাকি যারা পাননি। তারাও আসুক, প্রয়োজনীয় নথী জমা দিয়ে পরিষেবা নিতে।”

 

Related Articles

Back to top button
Close