fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

করোনায় মৃত ব্যক্তির দেহ পোড়ানোকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি বাঁশবেড়িয়ায়

তাপস মণ্ডল, হুগলি: করোনায় মৃত ব্যক্তির দেহ পোড়ানোকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি হল চুঁচুড়া থানার বাঁশবেড়িয়া গন্ধেশ্বরী গঙ্গাঘাট এলাকায়। সোমবার গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটেছে চুঁচুড়া থানার বাঁশবেড়িয়া গন্ধেশ্বরী গঙ্গাঘাট এলাকায়। এই ঘটনায় ওই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি সপ্তগ্রামের বিধায়ক তথা মন্ত্রী তপন দাশগুপ্ত, বাঁশবেড়িয়ার বিদায়ী পুরপ্রধান তথা প্রশাসক অরিজিতা শীল, চুঁচুড়ার এসডিও ও চুঁচুড়া থানার আইসির মধ্যে একটি বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, করোনায় মৃতদেহ গুলি বাঁশবেড়িয়ার গন্ধেশ্বরী ঘাটে পোড়ানো হবে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী  ২৫ জুলাই শনিবার গভীর রাতে পুলিশ ও ওই এলাকার এক প্রভাবশালী ব্যাক্তির লোকজন মিলে একটি করোনা রোগীর মৃতদেহ পুড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ। সোমবার ফের ওই খানেই করোনায় মৃত এক ব্যক্তির মৃতদেহ পোড়ানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় মানুষজনের বিক্ষোভের মুখে পড়ে পুলিশ। এই ঘটনায় ধুমধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয় ওই এলাকায়। এরপর পুলিশ ও ওই এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তির লোকজন মিলিতভাবে ওই এলাকার সাধারন মানুষজনকে ব্যাপক লাঠিচার্জ করেন বলে অভিযোগ।
ওই এলাকার স্থানীয় মানুষজন অভিযোগ করে বলেন, যেখানে করোনা রোগীর মৃতদেহ পোড়ানো হচ্ছে সেটা অত্যান্ত জনবহল এলাকা। পাশাপাশি ওই এলাকায় দুটি মন্দির রয়েছে। সেখানে রোজ বহু মানুষ পুজো দিতে আসেন। একই সঙ্গে ওই গঙ্গাঘাটে শ্রাদ্ধ-শান্তির কাজের জন্যে মানুষজন ভীড় জমায়। সর্বোপরি ওই শ্মশানঘাটটি রাস্তা সংলগ্ন এলাকায়। মারাত্বক ছোঁয়াচে এই মহামারি করোনা রোগীদের পোড়ানো হচ্ছে। এটা অত্যান্ত বিপদজনক। যদিও বিদায়ী পুরপ্রধান তথা বাঁশবেড়িয়া পুরপ্রশাসক এই রকম একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই খবর পুরসভার অন্যান্ন সদস্যরা জানেন না বলে অভিযোগ। পাশাপাশি পুরসভায় এই বিষয়ে কোনও মিটিংও হয়নি বলে খবর মিলেছে। গোটাটাই পুরপ্রশাসকের একক সিদ্ধান্তে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার গোটা বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জেলা প্রশাসনের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে ওই এলাকার বিধায়ক তথা মন্ত্রী তপন দাশগুপ্ত ও বাঁশবেড়িয়া পুরসভার প্রশাসক অরিজিতা শীলকে একাধিক বার ফোন করা হলেও তারা কেউই ফোন ধরেনিনি। তাই তাদের প্রতিক্রীয়াও জানা জায়নি।
এই প্রসঙ্গে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার হুমায়ুন কবির বলেন, সরকারী সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী গন্ধেশ্বরী ঘাটে মৃতদেহ পোড়ানো হয়েছে। এই নিয়ে স্থানীয়রা বিক্ষোভ দেখালে লাঠি উচিয়ে তাদের সড়িয়ে দেওয়া হয়।

Related Articles

Back to top button
Close