fbpx
কলকাতাহেডলাইন

কলেজের সমস্যায় ফিরহাদের নামে নালিশ, রাজ্যপালের দ্বারস্থ শোভন–বৈশাখী

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: মিল্লি আল আমিন কলেজের দীর্ঘকালীন সমস্যার জট কাটাতে রাজ্যপালের দ্বারস্থ হলেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষা বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। গত কয়েক মাস ধরেই এই কলেজে অচলাবস্থা চলছে বলে তাঁর অভিযোগ। এমনকী সেই সমস্যা আরও জটিল হয়েছে। তাই শুক্রবার বিকেলে আচার্য হিসাবে তাঁর দ্বারস্থ হলেন তিনি। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলে কোনও লাভ হয়নি। শুক্রবার বিকেলে রাজভবনে যান বৈশাখী, সঙ্গে ছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায় । কলেজের টিচার-ইনচার্জ অর্থাৎ বৈশাখীকে ইঙ্গিত করে ফিরহাদ হাকিমের মন্তব্য অত্যন্ত অশালীন, দায়িত্বজ্ঞানহীন – এই মর্মে রাজ্যপালের কাছে নালিশ জানান তিনি।

বেশ কয়েকমাস ধরেই অচলাবস্থার মুখে মিল্লি আল আমিন কলেজ। যার জেরে অধ্যক্ষার পদ থেকে ইস্তফাও দেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সম্প্রতি পরিস্থিতি আরও  খারাপ হয়। অভিযোগ, ছাত্রীরা পরীক্ষায় বসতে পারছেন না, বেতন ঠিকমতো পাচ্ছেন না অধ্যাপকরা। এসবের প্রতিবাদে কয়েকদিন ধরে কলেজের সামনে ধরনায় বসেছেন একদল পড়ুয়া। বৃহস্পতিবার সেখানে তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে যান কলকাতার মহানাগরিক ফিরহাদ হাকিম। পড়ুয়াদের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেও তিনি টিচার-ইনচার্জকে সমূলে উৎখাত করার মতো অসংবেদনশীল মন্তব্যও করেন। এই মন্তব্যকে রীতিমতো অশালীন, অপমানজনক এবং সাম্প্রদায়িক বলে চিহ্নিত করেছেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন রাজ্যপালের কাছে গিয়ে তিনি তা নিয়েই নালিশ জানিয়েছেন বলে খবর।

রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাতের পর বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বৈশাখী বেশ উষ্মার সঙ্গে বক্তব্য পেশ করেন। তাঁর কথায়, ‘রাজ্যের একজন মন্ত্রী কীভাবে এমন মন্তব্য করতে পারেন? এখানে আমি বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেই কি সমূলে উৎখাত করার কথা বলা হয়েছে? আমার জায়গায় যদি খাতুন পদবিযুক্ত কেউ থাকতেন, তাহলেও কি উনি একই কথা বলতে পারতেন? পারতেন না। কারণ, তাহলে ভোটব্যাংকে বড় সমস্যা হয়ে যেত।” বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করেন, ফিরহাদ হাকিমের এ ধরনের মন্তব্যের জবাব জনগণই দেবে। তাঁর মতে, এই কৃতকর্মের জন্য তাঁর কাছে নয়, বরং রাজ্যবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত ফিরহাদ হাকিমের।

আরও পড়ুন: গায়ের রং কালো বলে মারধর করে বধূকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ, গ্রেফতার স্বামী

কিছুদিন আগেই কলেজের বাইরে ধর্নায় বসা পড়ুয়াদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন কলকাতার মহানাগরিক ফিরহাদ হাকিম। তিনি পড়ুয়াদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। এমনকী অধ্যক্ষাকে সমূলে উৎপাটিত করার ডাক দেন তিনি। তাঁর সেই মন্তব্যকে অশালীন বলে দাবি করে রাজ্যপালের কাছে এদিন নালিশ ঠুকেছেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। এমনকী বন্ধুর নামে এইসব বলা হচ্ছে বলে তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন, ‘‌আমার ৪০–৪২ বছরের রাজনৈতিক জীবন। ৩০ বছরের বেশি সময় আমি জনপ্রতিনিধি হিসাবে কাজ করছি। এই মন্তব্য একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি তথা জনপ্রতিনিধি কী করে করতে পারেন আমার জানা নেই। এই ধরণের দায়িত্বজ্ঞাহীন মন্তব্য আমি ব্যথিত। ফিরহাদের মিল্লি আল আমিন কলেজের দায়িত্ব পাওয়ার পেছনে আমার অবদান ছিল। ওর আত্মসমালোচনা করা উচিত।’‌তিনি আরও জানান যে রাজ্যপাল সহমর্মিতার সঙ্গে সব শুনেছেন, উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে পালটা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন ফিরহাদ হাকিমও। তাঁর কথায়, ”যে যা বলছে বলুক, আমি আমার কাজ করে যাব। দু’দিন আগে ভ্যাকসিনের ট্রায়ালে অংশ নিয়েছি, তবু রাস্তায় নেমে মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। তাই কে কী বলল, তাতে কিছু আসে যায় না। মানুষই সব বিচার করবেন।”

 

Related Articles

Back to top button
Close