fbpx
অন্যান্যপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

কলার পানামা রোগ ও তার প্রতিকার

নিজস্ব প্রতিনিধি: সারা ভারতবর্ষেই কলার চাষ হয়। দক্ষিণে এর চাষ বেশি হলেও পশ্চিমবাংলাতে ও এর চাষ যথেষ্ট। কলাগাছের অন্যতম একটি ক্ষতিকর রোগ পানামা রোগ। এটি মূলত ছত্রাকবাহিত রোগ। ছত্রাকটির নাম ফুসারিয়াম অক্সিস্পোরিয়াম এফএসপি কিউবেন্স। এই ছত্রাকটি মূলত মাটিতে অবস্থান করে। গাছের পরিতক্ত অংশে জীবাণু মৃতজীবী হিসাবে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারে। মাটির আদ্রতা, গঠন ও অম্লতার উপর জীবাণু বেঁচে থাকা নির্ভর করে। চারাগাছের মাধ্যমে মূলত এই জীবাণু বিস্তার লাভ করে। ক্ষতিগ্রস্ত শিকড় দিয়ে জীবাণু খুব সহজে গাছের টিস্যুর মাধ্যমে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়তে পারে।

 

এই ছত্রাকের আক্রমণে প্রথমে আক্রান্ত গাছের নীচে পুরোনো পাতার কোণায় হালকা হলুদবর্ণের দাগ পড়ে। এই হলুদ দাগ পাতার মধ্যশিরা বরাবর এগিযে যেতে থাকে। পরে গাঢ় বাদামী হতে শুরু করে এবং পাতা শুকিয়ে যায়। ধীরে ধীরে আক্রান্ত গাছের উপরের পাতা হলদে হতে শুরু করে এবং এক সময় পাতা ভেঙে গিয়ে ঝুলে পড়ে। এই রোগের আক্রমণে গাছের কাণ্ডের মাঝ বরাবর ভেঙেও যায়। কলাগাছকে আড়াআড়ি ভাবে কাটলে ভেতরে বাদামী দাগ দেখতে পাওয়া যায়। এবার বলা যাক কীভাবে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। প্রথমেই বলি কলাগাছের চারা সুস্থ হতে হবে, কারণ এটি মাটি বাহিত রোগ। যে গাছ এই রোগে আক্রান্ত হবে তাকে মাটি সহ সম্পূর্ণ তুলে ফেলতে হবে এবং পুড়িয়ে ফেলতে হবে। জমিতে সঠিক পর্যায়ে জলনিকাশি ব্যবস্থা রাখতে হবে। মাটিতে অম্লের পরিমাণ বেশি হলে গাছ লাগানোর আগে ২০-২৫ মণ চুণ মাটির সঙ্গে মিশিযে দিলে ভালো হয়। মনে রাখতে হবে

অম্লযুক্ত মাটিতে এই ছত্রাকের প্রাদুর্ভাব বেশি। গাছের চারা লাগানোর আগে প্রতিটি চারাকে কার্বন্ডিজম গ্রুপের ছত্রাকনাশকে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রেখে রোপণ করতে হবে। এছাড়া গাছ লাগানোর ৭-১০ দিন বাদে প্রতি লিটার জলে গ্রাম কার্বন্ডিজস মিশিয়ে গাছের গোড়ায় এবং সমস্ত গাছে প্রয়োগ করলে এই রোগের কবল থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

 

Related Articles

Back to top button
Close