fbpx
দেশহেডলাইন

বানভাসি তেলেঙ্গানা, মহারাষ্ট্রে মৃত অন্তত ৭৭! উদ্ধার কার্যে নেমেছে সেনা

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: কোথাও জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে মানুষ। খড়কুটোর মত ভেসে গিয়েছে গাড়ি। রাস্তা যেন খরস্রোতা নদী। নিম্নচাপের জেরে প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা ও মহারাষ্ট্র। প্রবল এই বর্ষণে, তেলেঙ্গানা, মহারাষ্ট্র মিলিয়ে মোট ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষ করে পুনের বেশ কিছু এলাকায় বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

দিন তিনেকের বৃষ্টিতে বিপর্যন্ত হায়দরাবাদ। বর্ষণের রাতেই ১১ জনের মৃত্যুর খবর আসে তেলেঙ্গানায়। এরপর ঘরছাড়া মানুষের আর্তনাদ , উঠে আসতে শুরু করেছে একের পর এক মৃত্যুর খবর। মঙ্গলবার থেকে হায়দরাবাদ সহ গোটা তেলেঙ্গানা রাজ্যজুড়ে ভারী বৃষ্টি চলছে। তাই জেলা প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয় তেলেঙ্গানা সরকার।তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর রাও জানিয়েছেন এই ঝোড়ো তাণ্ডবের জন্য তাঁর রাজ্যে ৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে প্রত্যেকে পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। যাঁদের ঘর পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, তাঁদের জন্য নতুন বাড়ি তৈরি করা হবে এবং যাঁদের বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তাঁদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়ে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য অবিলম্বে ১ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সেনাও উদ্ধারকাজ শুরু করে দিয়েছে। সরকারি দফতরে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বেসরকারি ইনস্টিটিউটগুলিও দু-দিনের জন্য বন্ধ। বৃহস্পতিবার আর ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই আশ্বস্ত করেছে আবহাওয়া দফতর।

তেলেঙ্গানার উপর দিয়ে যখন নিম্নচাপ যাচ্ছিল তখন তার শক্তি ছিল মারাত্মক। তাই সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত তেলাঙ্গানা। সেখানে ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে বৃষ্টির জেরে। মহারাষ্ট্রের দিকে যাওয়ার সময় এটি দুর্বল হয়ে পড়ে। তবে এই নিম্নচাপ উত্তর-পশ্চিমে চলে যাবে এবং আরব সাগরে পৌঁছবে। পরবর্তীতে গুজরাটের উপকূলে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে নিম্নচাপ আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা। দক্ষিণ গুজরাতেও সতর্কতা জারি হয়েছে।

আরও পড়ুন: নির্বাচনের আগেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হলেন বিহারের পঞ্চায়েত মন্ত্রী

অন্যদিকে, মুম্বইয়ের একাধিক এলাকা জলমগ্ন।মহারাষ্ট্রে ২৭ জনের মৃত্যু আর ২০,০০০ মানুষকে সরানো হয়েছে । মঙ্গলবার থেকেই পুনের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। ইন্দপুরে জলের তোড়ে ভেসে যান ২ জন। তাঁদের উদ্ধার করা হয়েছে। রাজ্য প্রশাসন, সেনাবাহিনী, নৌ ও বিমানবাহিনীকে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরেকে পশ্চিমী মহারাষ্ট্র ও মারাঠওয়াদের ভারী বৃষ্টিপাত এবং বন্যার কারণে কোনও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় তত্‍পর থাকতে নির্দেশ দিয়েছে। মুম্বইতেও তুমুল বৃষ্টি হচ্ছে। যার জেরে জলমগ্ন হয়েছে বাণিজ্যনগরীর অসংখ্য রাস্তাঘাট। ভারতীয় সেনাবাহিনী, বায়ুসেনা, নৌসেনা এবং মহারাষ্ট্রের সরকারি আধিকারিকদের যে কোনও পরিস্থিতির সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার জন্য তৈরি থাকার আবেদন জানিয়েছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে।

গত ৩ দিনের বৃষ্টিতে মহারাষ্ট্রের সোলাপুর, সাঙ্গলি ও পুনে জেলায় ২৭ জন মারা গিয়েছেন। ১৪ জন নিহত হয়েছেন সোলাপুর জেলায়, ন’জন সাঙ্গলি এবং ৪ জন পুনে জেলায় মারা গিয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় পাখারপুরের মন্দির শহরে দেওয়াল ধসে ছয় ব্যক্তি মারা যান। ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির দাপটে সব রাজ্যেই ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।আগামী ৪৮ ঘণ্টা ভারী বৃষ্টি হবে মহারাষ্ট্রের ঘাট এলাকা, কোঙ্কন উপকূল এবং দক্ষিণ গুজরাতে। মত্‍সবীবীদের সমুদ্রে যেতে বারণ করা হয়েছে আবহাওয়া দফতরের তরফে। দক্ষিণ গুজরাতেও সতর্কতা জারি হয়েছে।ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির দাপটে সব রাজ্যেই ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রবল বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সাহায্য দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী ইদ্ধব ঠাকরে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন।

 

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close