fbpx
দেশবিনোদনহেডলাইন

মোরে সাইয়া, মে লাগু তরে বাইয়া

মনীষা ভট্টাচার্যঃ শব্দ যখন সুরের জামা পরে তখন তা গান হয়। সভ্যতার আদি পর্ব থেকেই গান মানুষকে আকর্ষণ করেছে। যখন লেখনীর আবিষ্কার হয়নি তখন মূলত সুরের মাধ্যমে সকলেই হয়ে উঠেছিলেন শ্রুতিধর। ধীরে ধীরে জন্ম নিয়েছে সা থেকে নি সপ্তসুর। তৈরি হয়েছে গান যা শাস্ত্রীয়সংগীত নামে পরিচিত। পরবর্তীতে এই শাস্ত্রীয়সংগীত থেকেই সৃষ্টি হয়েছে অন্যান্য গানের। গান নিয়ে এত কথা কারণ পৃথিবীর এই বেসুর বেরঙিন সময়ে, সুরে সুরে রাঙিয়ে দিতে আমাজন প্রাইম ভিডিও নিয়ে এসেছে নতুন সিরিজ ‘বন্দিশ ব্যান্ডিটস’। এই মিউজিকল ড্রামায় রয়েছে ক্লাসিক্যাল বনাম পপ সং-এর  লড়াই, ভালবাসা, বিরহ, হার-জিৎ, সর্বোপরি বিশুদ্ধ সংগীতের উপলব্ধি।

শাস্ত্রীয়সংগীত মানেই অনেক বিধি নিষেধ, অনেক নিয়ম, অনেক পরীক্ষা। আসলে সনাতন সংগীতকে রক্ষা করার দায়ে সংগীতগুরুরা একটু কঠোর হয়ে যান বৈকি। তাঁরা মনে করেন সাধনা ছাড়া কিছুই  হবার নয় শাস্ত্রীয়সংগীতে। তাই শিষ্যকে বাঁধতে হবে কঠিন অনুশাসনে। শুধু শেখা নয়, নিয়মিত অভ্যাস, সুরের ওপর ‘পকড়’ যতক্ষণ না সম্পূর্ণ হচ্ছে, যতক্ষণ না সুরের পূর্ণ উপলব্ধি হচ্ছে, ততক্ষণ রেওয়াজ করে যেতে হবে।

গুরুর কাছ থেকে প্রশংসা পেতে সকল শিষ্যই চায়, কিন্তু গুরু মনে করেন প্রশংসা শিষ্যের জন্য ক্ষতিকর, শিষ্যের নিষ্ঠায় ব্যাঘাত করতে পারে। অথচ গুরুর হাসি মুখ, গুরুর হাততালিই শিষ্যের কাছে শ্রেষ্ঠ পুরষ্কার। ১০পর্বের এই সিরিজ দেখতে দেখতে শাস্ত্রীয়সংগীতের মিঠিবোলে অবগাহন করবেন আপনি। জানতে পারবেন ক্লাসিক্যাল গানে শুদ্ধ স্বর প্রয়োগের জন্য কী না করতে হয়।

আরও পড়ুন:স্টিম থেকে বুলেট ট্রেন,পরম্পরা তুলে ধরবে নয়া রেল মিউজিয়াম: পীযূষ গোয়েল

পণ্ডিত রাধেমোহন রাঠোর (নাসিরুদ্দিন শাহ) যোধপুর ঘরানার উত্তরাধিকার খুঁজছেন। তাঁর নিজের ছেলেদের মধ্যে তিনি দেখতে পাননি সেই প্রতিভা। নাতি রাধেকে (ঋত্বিক ভৌমিক) মনে  হয়েছে উপযুক্ত। দীর্ঘদিন সংগীত শিক্ষার পর এবার পালা নাড়া বাধার (গট বন্ধন)। ১০ মিনিট দেরিতে আসায় পণ্ডিতজি ফিরিয়ে দিয়েছেন। তারপর চলেছে সেই অপরাধের শুদ্ধিকরণ। কিন্তু তবু শেষরক্ষা হয় না। ইতিমধ্যে রাধের জীবনে আসে পপ সিংগার তমন্না (শ্রেয়া চৌধুরী)।

আজকের হাল ফ্যাশানের মেয়ে তমন্না মিউজিক কম্পোজ করে আর সেই মিউজিক ইউটিউবে রিলিজ করে। কত লক্ষ ভিউ হল তাই দিয়ে নির্ধারিত হয় শিল্পীর জনপ্রিয়তা। এই  তমন্নার সঙ্গে ডুয়েট গানে জনপ্রিয়তা পায় রাধে। সঙ্গে আসে বেশ কিছু টাকা। পন্ডিতজিকে লুকিয়ে এই কাজ করতে গিয়ে তাকে মুখ লোকাতে হয় মুখোশে। কিন্তু সেখানেও সমস্যা উপস্থিত হয়। সেই সব সমস্যার সম্মুক্ষীণ হয়ে রাধে কী যোধপুর ঘরানাকে বাঁচাতে পারবে? তমন্নার সঙ্গে প্রেমটাও কি সফল হবে? তৈরি হবে কি মাস্কম্যান আর তমন্নার ‘বন্দিশ ব্যান্ডিটস’?

সব প্রশ্নের উত্তর রয়েছে প্রায় ৮-৯ ঘণ্টার এই সিরিজে। আনন্দ তিওয়ারির পরিচালনায় এই সিরিজের স্ট্রিমিং শুরু হয়েছে গত ৪ আগস্ট থেকে। ছবির গল্পে যেমন নাটকীয়তা থাকা দরকার তেমন এ গল্পেও আছে। তবে নাটকীয়তার পরতে পরতে যেভাবে গান মিশে রয়েছে তা এক  অন্যরকম থ্রিলিং-এর জন্ম দিয়েছে। যাঁরা ক্লাসিক্যাল সংগীতের সঙ্গে যুক্ত তাঁরা এ সিরিজ খুবই উপভোগ করবেন, যাঁরা নন তাঁরাও মোহিত হয়ে শংকর মহাদেবন, জাভেদ আলি, আরমান মালিক, জোনিতা গান্ধি সকলের গান শুনবেন। যেকোনও গান গাইতে গেলে যে কিছু টেকনিকলিটি জানতে হয়, তা এই সিরিজ আপনাকে শেখাবে।

আরও পড়ুন:জনগণ চাইছে এই অবস্থার পরিবর্তন হোক, আর সেটা বিজেপির হাত ধরেই হোক: দিলীপ ঘোষ

 

ঋত্বিক ভৌমিক ও শ্রেয়া চৌধুরী দু’জনেই দুজনকে পাল্লা দিয়েছেন। নাসিরুদ্দিন শাহের অভিনয় নিয়ে কিছু বলা ধৃষ্টতা। ৬ নং পর্ব থেকে শেষ পর্যন্ত নজর কেড়েছেন অতুল কূলকার্নি (দিগ্বিজয়)এবং শুরু থেকেই শিবা চাড্ডা (মোহিনি)। সিরিজটির সংগীত পরিচালনার দায়িত্বে আছেন শংকর-এহেসন-লয়। শ্রীরাম গণপত্যর ক্যামেরায় রাজস্থানের সৌন্দর্য যেন বেড়েছে। ভিউয়ার্সদের লাইক নয়, চটজলদি জনপ্রিয়তা নয়, হারিয়ে যাওয়ার ভয় নয়, আজকের এই দ্রুততার যুগেও সাধনাই একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত-এই বার্তা দিয়েই শেষ হয়েছে এই সিরিজ।

Related Articles

Back to top button
Close