fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

অযত্নে বাংলাদেশ ভবন, দিল্লির কাছে ১০ কোটি চাইছে ঢাকা, বিশ্বভারতীকে চিঠি কেন্দ্রের

নিজস্ব সংবাদদাতা,বোলপুর: বাংলাদেশ ভবনের জন্য অতিরিক্ত ১০ কোটি কেন চাওয়া হচ্ছে তা জানতে চেয়ে বিশ্বভারতীকে চিঠি  দিয়েছে কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক। সোমবার এই চিঠি নিয়ে বাংলাদেশ ভবনে বৈঠকে বসেন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। এদিন বাংলাদেশ ভবনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ভবনের সঠিক ভাবে রক্ষনাবেক্ষন না হওয়ার জন্য ভবনের বিভিন্ন জায়গায় যেমন ফাটল তৈরি হয়েছে তেমনে জল পড়ার সমস্যাও রয়েছে। ভবনের দ্বায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা জানিয়ে দেন অতিরিক্ত ১০কোটি টাকা না পেলে বাংলাদেশ ভবন পরিচালনা করা সম্ভব নয়। আগামী সাত দিনের মধ্যে এই বিষয়ে মন্ত্রককে চিঠি দিতে চলেছে বিশ্বভারতী কতৃপক্ষ।
বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের অর্থ সাহায্যে প্রায় ২৫কোটি টাকা খরচ করে শান্তিনিকেতনের দক্ষিনপল্লীতে তৈরি হয়েছে বাংলাদেশ ভবন।

২০১৯সালে এই ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভবনটি তৈরি করেছে ভারতের ন্যাশনাল কনস্ট্রাকশন কোম্পানি। বাংলাদেশ সরকার এই ভবন পরিচালনার জন্য ১০কোটি টাকার একটি করপাস ফান্ড দিয়েছে। ব্যাঙ্কে এই টাকা রাখা হয়েছে, প্রতি বছর প্রায় ৭৭লক্ষ টাকা সুদ হিসাবে পাচ্ছে বিশ্বভারতী কতৃপক্ষ। কিন্তু এত বড় ভবন এত কম টাকায় রক্ষনাবেক্ষন সম্ভব নয়। ২০১৮ সালে বিশ্বভারতী বাংলাদেশ ভবনের জন্য ভারত সরকারের কাছে আরও ১০কোটি টাকা করপাস ফান্ড চেয়ে আবেদন করে।

বর্তমানে বাংলাদেশ ভবনের পরিচালনার খরচ চালাতে হিমসিম খাচ্ছে বিশ্বভারতীর কর্তৃপক্ষ। ভবন খোলা থাকলে প্রতিমাসে বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে প্রায় ৭০ হাজার টাকা। বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গিয়েছে এই ভবন তৈরির সময় পরিকল্পনা এবং নকশায় বেশ কিছু গলদের অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে শীততাপ নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থা এমন ভাবে করা হয়েছে যে, ভবনের গ্রান্থাগার বা মিউজিয়াম শীততাপ রাখতে গেলে গোটা ভবনের শীততাপ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে যায়। এর ফলে ব্যাপক বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে।

অভিযোগ, প্রায় দুকোটি টাকা দিয়ে যে মিউজিক সিস্টেম বসানো হয়েছে তা রক্ষানাবেক্ষন হচ্ছে না। এই ধরনের মিউজিক সিস্টেম ঠিক রাখতে হলে প্রতিদিন অন্তত দুঘন্টা করে বাজাতে হয়,কিন্তু সেটা করা হয় না। একই ভাবে একাধিক সিসিটিভি কাজ করছে না, লিফট চলে না। অভিযোগ, এমনকি বর্তমানে যাদের উপর এই ভবন পরিচালনার দ্বায়িত্ব রয়েছে তাদের কর্মপদ্ধতি নিয়েও একাধিক প্রশ্ন উঠেছে।
এই বিষয়ে  মুখ খুলতে নারাজ বিশ্বভারতীর মুখপত্র অনির্বান সরকার।

Related Articles

Back to top button
Close