fbpx
বাংলাদেশহেডলাইন

করোনায় প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীরের মৃত্যু, শোকপ্রকাশ হাসিনার

১৯৪৯ সালে ভর্তি হন বর্তমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটে। তবে তা ছবি আঁকার তাড়নায় নয়, কমিউনিষ্ট পার্টির নির্দেশে দলীয় একটি সেল তৈরী করতে।

যুগশঙ্খ প্রতিবেদন, ঢাকা : মহামারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হলেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীর।শনিবার সকালে ঢাকার একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

তার মেয়ে মুনীর বশীর সাংবাদিকদের জানান, শনিবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি।

প্রখ্যাত চিত্রশিল্পীর মৃত্যুতে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোক। অতীত কিংবা বর্তমানকে বিশ্বাস করতেন না মুর্তজা বশীর। তার বিশ্বাস ছিল ভবিষ্যতে। তিনি বলতেন মৃত্যুর পরও বেঁচে থেকে সময়কে অতিক্রম করতে পারাই জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। সেই অর্জনের পেছনেই হয়ত তাড়িত হয়ে একজন মুর্তজা বশীর বৃত্তাবদ্ধ হননি শুধু চিত্রশিল্পী পরিচয়ে। ভাষা সংগ্রামী মুর্তজা বশীর ছিলেন একাধারে কবি, গল্পকার, ঔপন্যাসিক। এমনকি চলচ্চিত্র অঙ্গনেও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

উপমহাদেশের প্রখ্যাত ভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ঘরে জন্ম নেয়া ছেলেটির নাম রাখা হলো আবুল খায়ের মুর্তজা বশীর উল্লাহ। কিন্তু বাবার নামে পরিচিত হতে চায় না ছেলেটি। তাই বড় হয়ে নিজের নাম রাখলেন মুর্তজা বশীর।

যদিও বাবার মৃত্যুর পর বশীর লিখলেন, অসাধারণ এক স্মৃতিকথা। যার নাম‌ ‌‌‌’বাবা ও আমি’। ১৯৩২ সালে জন্ম নেওয়া বশীর ১৯৪৯ সালে ভর্তি হন বর্তমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটে। তবে তা ছবি আঁকার তাড়নায় নয়, কমিউনিষ্ট পার্টির নির্দেশে দলীয় একটি সেল তৈরী করতে।

যদিও জয়নুল আবেদীনের সেই ছাত্রটি পরবর্তীতে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়ে বের হন। এরপর শিল্পকলায় উচ্চতর শিক্ষার জন্য চলে যান ইতালিতে। এর আগে লড়াইএ নামেন ভাষা আন্দোলনে। আঁকতে থাকেন, আন্দোলনের দুর্দান্ত সব কার্টুন এবং ফেস্টুন।

১৯৭৩ থেকে ৯৮, টানা ২৫ বছর শিক্ষকতা করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায়। এরপরের ১২ বছর আঁকেন শতাধিক ছবির একটি সিরিজ। যার নাম বশীর দি উইংস।

শুধু রং তুলি নয় সাহিত্যক্ষেত্রেও রেখেছেন অবদান। চিত্রশিল্পে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বাধীনতা পুরস্কার, একুশে পদকসহ বহু জাতীয়-আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন গুনি এই শিল্পী।

আমরা চোখের সামনে যা দেখতে পাই, সেটাইতো সব নয়। অন্তর্লোকে যা থাকে তাইতো সারবস্তু। একজন বশীর তার তৃতীয় নয়ন দিয়ে সেই অদেখাকে দেখতে পান, তিনি আলোকিত করেন নিজেকে দেশকে আর ভবিষ্যত প্রজন্মকে। তাঁকে অতল শ্রদ্ধা।

একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীরের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘মুর্তজা বশীরের মৃত্যু দেশের শিল্প ও সংস্কৃতি জগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তার সৃষ্টি ও কর্ম তরুণ প্রজন্মের জন্য চিরকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।’ রাষ্ট্রপতি মরহুম মুর্তজা বশীরের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশের চিত্রকলার বিকাশে মুর্তজা বশীর যে অনন্য অবদান রেখেছেন তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাবে।’ প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

Related Articles

Back to top button
Close