fbpx
আন্তর্জাতিকবাংলাদেশহেডলাইন

শেখ হাসিনার স্বপ্ন বাস্তবায়ন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ‘পদ্মা সেতু’ দৃশ্যমান

যুগশঙ্খ প্রতিবেদন, ঢাকা: বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় নির্মাণাধীন পরিকাঠামো পদ্মা সেতু প্রকল্প শুরু হওয়ার পর দূর্নীতির অভিযোগে বিশ্ব ব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা অর্থায়নে অস্বীকৃতি জানানোর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজস্ব অর্থায়নেই পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন। এরপর এই সেতু তৈরি নিয়ে হয় তর্ক-বিতর্ক। তবে থামেনি শেখ হাসিনার স্বপ্ন বাস্তবায়ন।

বৃহস্পতিবার সেতুটির সর্বশেষ স্প্যানটি বসানো হয়েছে। সকল বাধা অতিক্রম করে অবশেষে দৃশ্যমান হয়েছে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘের পদ্মা সেতু। এই সেতু চালু হলে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৯ জেলার সঙ্গে সারাদেশের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন হবে।

পদ্মাসেতুর ৪২টি খুঁটি ও ৪১টি স্প্যান। প্রতিটি স্প্যান ১৫০ মিটার লম্বা। শধু নদীতে সেতু ৬.১৫ কিলোমিটার। দুই পাড়ের সঙ্গে সংযোগ মিলিয়ে সেতুটি সাড়ে ৯ কিলোমিটার। রোড ভায়াডাক্ট ৩.৮ কিলোমিটার। রেল ভায়াডাক্ট ০.৫৩২ কিলোমিটার।

অর্থাৎ সেতুর মোট দৈঘ্য ১০ দশমিক ৪৮২ কিলোমটার। নদী শাসন করা হচ্ছে ১৪ কিলোমিটার। সংযোগ সড়ক উভয়দিকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার।

চিনের মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি সেতুটি নির্মাণ কাজ করছে। নদী শাসন কাজ করছে চীনের সিনোহাইড্রো করপোরেশন। সংযোগ সড়ক নির্মাণ করেছে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশের আবুল মোনেম লিমিটেড। সেতু নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা। যার পুরোটাই দেশের নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হচ্ছে।

১৯৯৮ সালে যমুনা নদীতে বঙ্গবন্ধু সেতুর পর পদ্মায় সেতু নির্মাণের দাবি উঠেছিল। সেই দাবি থেকে কাজ শুরু হতে আরও এক দশক সময় লেগে যায়। এরপর বিশ্বব্যাংকের অর্থসহযোগিতা বন্ধ হয়ে যায়। দুনীতির অভিযোগ উঠে। অবশ্য দুনীতি প্রমাণিত না হওয়ায় মামলা খারিজ হয়।

২০১৩ সালে শেখ হাসিন সরকার এই সেতু দেশের নিজস্ব অর্থে সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৮ সালে। তবে নদীর তলদেশে মাটির গঠনগত বৈচিত্রের কারণে কাজ আরও পিছিয়ে যায়। সাড়ে ৪ বছর ধরে শুধু সেতুর খুঁটির কাজ চলে। আর ৩ বছর লাগে সেই খুটিতে স্প্যান বসাতে। অবশেষে ৪২টি খুঁটিতে ৪১টি স্প্যান তুলে দিয়ে সেতুর চালুর দিকে যাচ্ছে সরকার।

২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে সেতুর ওপরে সড়ক ও ভেতরে রেলপথের কাজ শেষ করে চালু করার লক্ষ্য রয়েছে হাসিনা সরকারের।

২০১৭ সালে পদ্মা সেতুর প্রথম স্প্যান বসানোর সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছিলেন আমেরিকায়্। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার জন্য সেখানে গেছিলেন তিনি। সপ্তাহখানেক পর দেশে ফিরে এলে বিমানবন্দরে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। আমেরিকান সময় রাত তিনটায় স্প্যান বসানোর খবর পান জানিয়ে ওই দিন শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘ওবায়দুল কাদের মেসেজ পাঠাল, তার সচিবও মেসেজ পাঠাল যে সুপার স্ট্রাকচারটা বসে গেছে।

আমি বললাম, আমাকে ছবি পাঠাও। সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত ছবি এবং ভিডিও ক্লিপ পাঠাল।’ তিনি আরও বলেছিলেন, ‘সত্যি কথা বলতে কি, আমরা দুই বোন ওখানে কেঁদেছিলাম। রেহানা, আমি…কী যে অপমান, কত কিছু যে হয়েছে, তা বলার মতো না।’

সেই দিন শেখ হাসিনা আরও বলেছিলেন, ‘পদ্মা সেতু যে নিজেদের টাকায় করতে পারব; তা অনেকে বিশ্বাস করতে পারেনি। অনেক সিনিয়র কেবিনেট মেম্বাররাও বিশ্বাস করতে পারেনি। সবাই বলতেন, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ছাড়া কেউ করতে পারবে না। আমি বলতাম, যত দিন না নিজেরা করতে পারব, তত দিন করবই না।’

Related Articles

Back to top button
Close