fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

দেউলিয়া-খন্যাডিহি বেহাল রাস্তা, সদ্য বর্ষায় দূর্ঘটনায় প্রহর গুনছে পথচলতি মানুষ

বাবলু ব্যানার্জি, কোলাঘাট: বছরান্তে রাস্তা সংস্কার করেও সেই রাস্তার ভগ্নদশা আজ এলাকার মানুষের কাছে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। কেন বারবার কোলাঘাট ব্লকের গুরুত্বপূর্ণ দেউলিয়া খান্যাডিহি পাকা রাস্তাটি ভগ্নদশায় পরিণত হচ্ছে। রুটি রোজগার যোগান দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়া এই রাস্তা টি সংস্কার করা না হলে তারা পথে নামতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বর্ষা এখনো নামেনি। তবুও যখন বৃষ্টিপাত হয়, রাস্তার উপরে জল জমে থাকলে স্বভাবতই বিরক্তিও ঘ্যানঘ্যানানি শেষ থাকছেনা মানুষজনের। প্রায় ৬ কিলোমিটার রাস্তায় বেশিরভাগটাই দুপাশে জল নিকাশের কোন ব্যবস্থা নেই। এই বিষয়ে পূর্ত দপ্তরের নজরে আনলেও এখনো পর্যন্ত তেমন ব্যবস্থা নিতেও দেখা যায়নি।

পুলশিটা, বৃন্দাবনচক, খন্যাডিহি গ্রাম পঞ্চায়েত ছাড়া কোলাঘাট ব্লকের পার্শ্ববর্তী গ্রাম পঞ্চায়েতের মানুষজন এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে, পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর ব্লকের খুকুড়দহ গ্রাম পঞ্চায়েতের দূর্বা চটি নদী পেরিয়ে যাতায়াত করতে দেখা যায় মানুষজনকে এই রাস্তা দিয়েই। গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তা দিয়েই ক্ষেত্রহাট, দেউলিয়া, খন্যাডিহি হাইস্কুল থেকে জুনিয়র, প্রাইমারি স্কুলের বেশ কয়েক হাজার ছাত্রছাত্রী যাতায়াত করে। বাইপাস রাস্তা হিসাবে গভীর রাত থেকে ফুলচাষী থেকে সবজি বিক্রেতাদের যেতে হয় এই রাস্তা দিয়ে। এক সময় রাষ্ট্রীয় পরিবহন দপ্তরের দুটি বাস চলাচল করত। আজ থেকে তিন মাস আগে পর্যন্ত দুটি বেসরকারি বাস চলত। ট্রেকার টোটো চললেও এই ভগ্নদশা রাস্তার জন্য আর গাড়ি চালাবেন না বলে শোনা যাচ্ছে।

নিত্য এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াতকারী বৃন্দাবনচক জুনিয়র হাই স্কুলের শিক্ষক সুকুমার বন্দোপাধ্যায় বলেন রাস্তাটির এমনই ভগ্নদশা স্কুলে যাওয়ার সময় গাড়ি কে পাস দেওয়ার জন্য সাইডে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। রাস্তার পাশে কোন জায়গা না থাকায় বিভিন্ন সময় অপরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়। স্কুলে সঠিক সময়ে পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও সমস্যা দেখা দেয়। রাস্তাটি অবিলম্বে সংস্কারের প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দের জেরে গ্রাম পঞ্চায়েতের অচলাবস্থা, আন্দোলনে স্থানীয়রা 

রাস্তাটি নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ যে থামছে না তা এক কথাতেই পরিষ্কার। এলাকার মানুষজন এর বক্তব্য এই রাস্তার বহন ক্ষমতা যা তার থেকে বহু গুণ ক্ষমতা সম্পন্ন ট্রাক গুলি ইমারতি ভান্ডারের জন্য ব্যবহার করা হয়। স্থানীয় পুলশিটা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান গোবিন মান্নাকে ধরা হলে তিনি বলেন বিষয়টি দেখা হচ্ছে, কবে এলাকার মানুষ সুরাহা পাবে তা তিনি পরিষ্কারভাবে বলেননি।

এলাকার মানুষদের দাবি বহু গুণ ক্ষমতা সম্পন্ন ট্রাক গুলিকে বন্ধ করতে হবে এই রাস্তার উপর দিয়ে চলাচল করার ক্ষেত্রে।
দেউলিয়া খন্যাডিহি রাস্তা উন্নয়ন কমিটির সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়েক বলেন সংস্কারের জন্য সরকারের বহুবার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে, কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি। সাধারণ মানুষের স্বার্থে রাস্তার উন্নয়নের জন্য তাদের প্রচেষ্টার খামতি থাকবে না। রাস্তা সংস্কারের বিষয়ে তমলুক ডিভিশনের পূর্ত দপ্তরের এক ইঞ্জিনিয়ারকে ধরা হলে তিনি বলেন বর্ষার আগেই সংস্কারের কাজ শেষ হবে,বর্তমানে সংস্কার চলছে। তবে যে স্থান গুলি একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে চলাচল করার উপযোগী করে দেওয়া হচ্ছে,যাতে মানুষের কোনো অভিযোগ না থাকে।

Related Articles

Back to top button
Close