fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

কলকাতার বড় বাজার এলাকায় সবথেকে বেশি পরিমাণে মানুষের দেহের তৈরি হয়েছে অ্যান্টিবডি: সমীক্ষা 

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায় ,কলকাতা: কলকাতার বড় বাজার এলাকায় সবথেকে বেশি পরিমাণে মানুষের দেহের তৈরি হয়েছে এন্টি বডি, বলছে সমীক্ষা। এই সমীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন কলকাতার ৯,০৪১ জন এবং পশ্চিমবঙ্গের ২২ হাজার ৫৮৯ জন। তাদের রক্ত পরীক্ষা করে দেখা হয় রক্তে কোভিডের অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কিনা। এর দ্বারাই বোঝা যায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কোনও সময়ে এই ভাইরাস এর সংস্পর্শে এসেছিলেন কিনা। এই সমীক্ষা চালিয়েছে বেসরকারি সংস্থা থাইরোকেয়ার।
সমীক্ষায় ধরা পড়েছে, কলকাতা শহরের পোস্তা বড়বাজার এলাকার মানুষের দেহে কোভিডের সর্বাধিক অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। বড়বাজারের প্রায় ৪৭ শতাংশ মানুষের দেহে কোভিডের অ্যান্টিবডি ধরা পড়েছে। আহিরীটোলা-শোভাবাজার এলাকায় এই হার ৪৬ শতাংশ। বেহালায় অ্যান্টিবডি রয়েছে ৪২ শতাংশ মানুষের দেহে। কাকুরগাছিতে তা ৩৮ শতাংশ। অন্যদিকে গোটা রাজ্যে সর্বাধিক অ্যান্টিবডি দেখা গিয়েছে দার্জিলিং জেলার মানুষের দেহে। দার্জিলিংয়ের প্রায় ৪১ শতাংশ মানুষের দেহে মিলেছে কোভিডের অ্যান্টিবডি। সবচেয়ে কম অ্যান্টিবডি মিলেছে বাঁকুড়া জেলার মানুষের দেহে। সেখানে ৬.৩ শতাংশ মানুষের দেহে অ্যান্টিবডি পাওয়া গিয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী গোটা দেশে যে পরিমাণ করণা আক্রান্তের সংখ্যা জানা গিয়েছে, আসলে তার থেকে বেশি মানুষ সংক্রমিত হচ্ছেন প্রতিদিন। ঠিক কত শতাংশ মানুষ সংক্রমিত হচ্ছেন তা জানার জন্য প্রত্যেক বড় শহর ও রাজ্যে সমীক্ষা চালানো হচ্ছে বেসরকারি সংস্থা দ্বারা। কলকাতা শহর ও পশ্চিমবঙ্গেও সেই সার্ভে চালিয়ে দেখা গিয়েছে, গড়পড়তা ২৬ শতাংশ কলকাতাবাসীর দেহে তৈরি হয়েছে করোনার অ্যান্টিবডি। অর্থাত্‍ শহরের প্রতি চারজনের একজন গড়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বা হচ্ছেন। যাদের মধ্যে বেশিরভাগই উপসর্গহীন।

কলকাতা শহরে এই হার যখন ২৬ শতাংশ তখন বাকি জেলাও হলে গোটা পিছিয়ে নেই। এই সমীক্ষায় উঠে এসেছে, অন্তত ২৩ শতাংশ বঙ্গবাসীর দেহে ইতিমধ্যেই করোনার অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে গিয়েছে। যা তাদের পরবর্তী কোভিড আক্রমণ থেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই হার জাতীয় গড় হারের তুলনায় কম। সেরো সার্ভের ফলাফল জানাচ্ছে, গোটা ভারতে এই মুহূর্তে গড়ে ২৭ শতাংশ মানুষের দেহে কোভিডের অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।

সমীক্ষার এই ফলাফল দেখে কিছুটা হলেও আশা জেগেছে চিকিত্‍সক মহলের মনে। কেননা এই বিরাট সংখ্যক মানুষ করোনা ভাইরাসের সংস্পর্শে এলে ও তাদের কোনও উপসর্গ ধরা পড়েনি। নিজে থেকেই কোনও চিকিত্‍সা ছাড়া তারা সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এটি একটি ইতিবাচক দিক। তবে একই সঙ্গে এই উপসর্গহীন করোনা আক্রান্তরা এই ভাইরাসটির সবচেয়ে বড় বাহক বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে যিনি আক্রান্ত হচ্ছেন তিনি বুঝতে না পারলেও তার সংস্পর্শে আসা অন্য কোনও ব্যক্তি যার প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বিগত পাঁচ-ছয় সপ্তাহ ধরে কলকাতা এবং পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে এই সমীক্ষা চালিয়ে ফলাফল প্রকাশ পেয়েছে বেসরকারি সংস্থা।

গোটা ভারতে বর্তমানে ২৭ শতাংশ মানুষের দেহে অ্যান্টিবডি ধরা পড়ার অর্থ হল, প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এবং তারা সেরে উঠেছেন। এই ৩০ শতাংশ মানুষের দেহে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে গিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৮০ হাজার মৃত্যু হয়েছে দেশে। করোনায় মৃত্যুর এই হারই যদি বজায় থাকে তবে ৯০ শতাংশ ভারতীয়ের দেহে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে গিয়ে প্রায় ২ লক্ষ ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যু হবে ভারতে (যদি না ততদিনে ভ্যাকসিন বাজারে আসে)। এবং ২০২১ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ৯০ শতাংশ ভারতবাসীর দেহে কোভিডের অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে যাবে। এমনটাই জানিয়েছেন এই সমীক্ষার বিশেষজ্ঞরা।

Related Articles

Back to top button
Close