fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পূর্ব বর্ধমানে চাষের জমিতে অবাধে চলছে ন্যাড়া পোড়ানো, উদ্বিগ্ন কৃষি ও পরিবেশবিদরা

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: বেপরোয়া মনোভাব দেখিয়েই চলেছে চাষিরা। কৃষি ও পরিবেশ দফতরের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই পূর্ব বর্ধমান জেলার সর্বত্র অবাধে চলছে চাষের জমিতে ন্যাড়া পোড়ানো। এর ফলে পরিবেশ দূষণ যেমন মাত্রা ছাড়াচ্ছে তেমনই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে জমিতে থাকা উদ্ভিদের খাদ্য উপাদান। এই ঘটনায় রীতিমত উদ্বিগ্ন কৃষি ও পরিবেশবিদরা

শীত পড়তে না পড়তেই দূষণের ধোঁয়াসায় ঢাকা পড়ে গিয়েছে দেশের রাজধানী শহর দিল্লী। কলকাতাতেও বেড়ে চলেছে দূষণের মাত্রা। দূষণ জনিত এমন পরিস্থিতি থেকে নিস্কৃতি পাবার জন্য কৃষি দফতর ও পরিবেশবিদরা জমিতে ন্যাড়া পোড়ানো থেকে চাষীদের বিরত হবার কথা বারে বারে বলে চলেছেন। ন্যাড়া পোড়ানো যে বেআইনি তা নিয়ে জনগনকে ওয়াকিবহাল করতে সরকারী ভাবে প্রচারের কোনও খামতি নেই। স্কুলের ছাত্র ছাত্রীরাও পথে নেমে প্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু এতসব কিছুর পরেও জমিতে ন্যাড়া পোড়ানো বন্ধে চাষীরা কোনও আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

রাজ্যের শস্যগোলা বলে পরিচিত পূর্ব বর্ধমান জেলা। এই জেলার চাষিরাই যে শুধু জমিতে ন্যাড়া পোড়াচ্ছেন এমনটা নয়। অন্য জেলার চাষিরাও নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জমিতেই ন্যাড়া পোড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ। আবহাওয়া ও পরিবেশ দফতরের কর্তারা মনে করছেন এমনটা চলতে থাকলে দিল্লির মত এই বাংলার গ্রামীন এলাকা দূষণের ধোঁয়াসায় ঢাকা পড়াটা শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র।

শীতের শুরু থেকেই দূষণের ধোঁয়াশায় ঢাকা পড়ে দিল্লি। ধোঁয়াশার কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে দিল্লির জনজীবন। এই ঘটনা নিয়ে নড়েচড়ে বসেন আবহাওয়া ও পরিবেশ দফতর। তারা ধোঁয়াসার কারণ অনুসন্ধানে আশরে নামেন। সবদিক খতিয়ে দেখে পরিবেশবিদরা নিশ্চিত হন দূষণের কারণেই ধোঁয়াশায় ঢাকা পড়েছে দিল্লি শহর। এই ক্ষেত্রেও মুখ্য কারণ হিসাবে সামনে আসে চাষের জমিতে ন্যাড়া পোড়ানোর ঘটনা। অনুসন্ধানকারী পরিবেশবিদরা জানতে পারেন, শীত শুরুর প্রক্কালে দিল্লির গুরগাঁও সহ পার্শবর্তি এলাকার চাষীরা কম্বাইন হারবেস্টার মেশিনের সাহায্যে জমির ফসল কাটা ও ঝাড়ার কাজ সেরেছেন। ঝাড়াই কাজ শেষে হবার পর ফসলের অপ্রয়োজনীয় অংশ অর্থাৎ ‘ন্যাড়া’ জমিতে জড়ো করে তাতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন সেখানকার চাষীরা। ওই ন্যাড়া পোড়ানোর ধোঁয়া শীতের জলীয় বাষ্পের সঙ্গে মিশে ধোঁয়াশায় পরিণত হচ্ছে। আর সেই ধোঁয়াশায় সমগ্র দিল্লি শহর ঢাকা পড়ায় সেখানকার বাসিন্দারা শ্বাস কষ্টে ভুগছেন। চোখও জ্বলা করছে।

কৃষি দফতরের কর্তারা জানাচ্ছেন, দিল্লির এমন ঘটনা সামনে আসার পরেও হুঁশ ফেরেনি এই রাজ্যের বিশেষত শস্যগোলা পূর্ব বর্ধমান জেলার চাষীদের। বিশ্ব উষ্ণায়ন ও পরিবেশ দূষণ রোধে হাজারো সচেতনতা প্রচার চালান হলেও সচেতন হতে চাইছেন না চাষীরা। শীত পড়তেই জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে আমন ধান কাটা ও ঝাড়ার কাজ । হারভেস্টার মেশিন দিয়ে আমন ধান গাছ কেটে ধান ঝেড়ে নেবার পর এই জেলার চাষিরাও অবশিষ্ঠাংশ অর্থাৎ ‘ন্যাড়া’ জমিতেই পোড়াচ্ছেন। ন্যাড়া পোড়ানো বেআইনি ঘোষণা হওয়া সত্ত্বেও চাষিরা বেপরোয়া ভাবেই জমিতে ন্যাড়া পুড়িয়ে যাচ্ছেন। পরিবেশবিদরা বলছেন, জমিতে ন্যাড়া পোড়ানোর রেওয়াজ চাষিরা বন্ধ না করলে আগামীদিনে দিল্লির পুনরাবৃত্তি এ রাজ্যেও ঘটবে। পরিবেশবিদরা এমন বার্তা দেবার পর থেকেই জমিতে ন্যাড়া পোড়ানো বন্ধে লাগাতার সচেতনতা প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে জেলার কৃষি দফতর। কিন্তু হাজারো সচেতনতা প্রচার সত্ত্বেও সচেতন হতে চাইছেন না চাষিরা। জেলার সর্বত্রই চলছে অবাধে ন্যাড়া পোড়ানো।

কলকাতা হাইকোর্টের সিনায়র আইনজীবী জয়দীপ মুখোপাধঋায় বলেন, ‘প্রশাসন জমিতে ন্যাড়া পোড়ানো বেআইনি ঘোষনা করেছে। কিন্তু আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যারা জমিতে ন্যাড়া পোড়াচ্ছে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসন আইন মাফিক কোনও ব্যবস্থা নিতেই পারে। জয়দীপ বাবু আরও বলেন, ন্যাড়া পোড়ানোর ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কৃষি দফতর আইনমাফিক কড়া ব্যবস্থা না নিলে আগামীদিনে দিল্লির পরিণতি এই বাংলাতেও যে ঘটবে তা নিশ্চিৎ ভাবেই বলা যায়।

Related Articles

Back to top button
Close