fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বারুইপুরে করোনার রিপোর্ট না আসায় দেহ সৎকারে আপত্তি শ্মশান কর্তৃপক্ষের

ফিরোজ আহমেদ,বারুইপুর: হাসপাতালের ডেড সার্টিফিকেটে বলা হয়েছে নিউমোনিয়ায় মৃত্যু। কিন্তু একই সাথে করোনার লালারস পরীক্ষাও হয়েছে। সেই রিপোর্ট না দেখানোয় দেহ সৎকার করতে অস্বীকার করল বারুইপুর পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কীর্তনখোলা শ্মশান কর্তৃপক্ষ। চললো মৃতের পরিবারের সাথে শ্মশান কর্মীদের টানাপোড়েন। শেষে পুরসভার প্রশাসক শক্তি রায়চৌধুরীর নির্দেশে দীর্ঘ সকাল থেকেই ৫ ঘন্টা পড়ে থাকার পর দুপুরে পরিবারের লোকজনই দেহ চুল্লিতে তুলে সৎকারের কাজ করল। শ্মশানের কর্মীরা হাত লাগায়নি। হিন্দু ধর্মে মতে দেহ ক্রিয়াকাজ ছাড়াই পোড়ান হয়। জানা গিয়েছে,জয়নগরের চালতাবেড়িয়া ১ পঞ্চায়েতের ধোসা হোগলডহরি এলাকার বছর ৩৭ এর বাসিন্দা উত্তম নস্কর জ্বর সর্দি কাশি নিয়ে ২৬ জুলাই বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি হয়।

ওইদিনই তার লালারস পরীক্ষা করা হয় করোনার জন্য। মঙ্গলবার রাত ১ টা নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়। ডেড সার্টিফিকেটে নিউমোনিয়া লেখা হয়। এরপর পঞ্চায়েতের কাছ থেকে পরিবারের লোকজন কাগজপত্র নিয়ে দেহ সৎকার করতে বারুইপুরের কীর্তনখোলা মহাশ্মশানে যায়। পরিবারের অভিযোগ,দেহ ঢুকতে দিতে আপত্তি জানায় শ্মশান কর্তৃপক্ষ। রাস্তায় পাশে তাদের দেহ নিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। শ্মশান কর্মীরা মৃতের করোনা রিপোর্ট দেখতে চায়।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয় রিপোর্ট হাতে পাওয়া যায়নি। তখন শ্মশান কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয় যে, করোনার রিপোর্ট নেগেটিভ না হলে দাহ করতে দেওয়া যাবে না। শ্মশান কর্মীদের বক্তব্য,মৃতের করোনা থাকলে সেই দেহ সৎকার করতে গেলে আমাদের সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আমাদের কোন পিপিই নেই। ওই পরিবারও মৃতের দেহে হাত দিতেই অস্বীকার করছিল। আমাদের তরফে জানানো হয়েছিল ট্রলিতে দেহ উঠিয়ে নিয়ে চুল্লিতে চলে যাক আমরা তাতে সাহায্য করবো। কিন্তু দেহ আমরা স্পর্শ করবো না। খবর পেয়ে বারুইপুর থানার পুলিশকে যেতে হয় শ্মশানে। এসবের মধ্যে ৫ ঘন্টা পড়ে থাকে দেহ। শেষে পুরসভার প্রশাসকের নির্দেশে দেহ সৎকার শুরু হয় দুপুর ১ টার পরে।

প্রশাসক শক্তি রায় চৌধুরীর জানান,মানবিকতার খাতিরে দেহ সৎকারের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু করোনার পজিটিভ যদি আসে আমাদের শ্মশান কর্মীদের অবস্থা কি হবে। শ্মশান কি করে চলবে? এদিকে ঘটনা নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে শ্মশান কর্মীদের মধ্যেও। এদিকে হাসপাতালে ২৬ জুলাই লালারস পরীক্ষার তিনদিন পেরিয়ে গেলেও কেন এখনও রিপোর্ট আসছে না সেই প্রশ্ন তুলে দিনভর নাকাল হতে হল পরিবারের লোকজনদের।

Related Articles

Back to top button
Close