পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মুসলিমের সম্প্রদায়ের হাতে তৈরী প্রতিমা পূজিত হন কুমারপুকুরে হিন্দু মন্দিরে

শ্যাম বিশ্বাস উত্তর চব্বিশ পরগনা: বসিরহাট মহকুমার হাসনাবাদের কুমারপুকুরে মুসলিমের সম্প্রদায়ের হাতে তৈরী প্রতিমা পূজিত হন হিন্দু মন্দিরে। মুসলিম পরিবারের সন্তান অলি চৌদালী, স্বপ্নদেশ পেয়ে মায়ের মূর্তি তৈরি করেন, হিন্দু মন্দিরে পুজো করার জন্য। বিংশ শতাব্দীর সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে এ এক অনন্য নজির। গত বছর চৌধুরী পরিবারের শেষ সদস্য মাদার চৌদালী মারা গিয়েছেন। তার আত্মীয় হাজরা গাজী বলেন মায়ের স্বপ্নাদেশে এই চৌধুরী বাড়িতে ঠাকুর তৈরি হত। এখানে বিচালী, ইচ্ছামতী নদী থেকে মাটি এনে কাঠামো তৈরি করে, রং তুলি দিয়ে মায়ের আবক্ষ মূর্তি তৈরি করে, ঢোল, কাশি, ঘন্টা বাজিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্যে দিয়ে কুমারপুকুর বাজারে মন্দিরে ঠাকুর নিয়ে যাওয়া হত। সেখানে মা পূজিত হতেন সব সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে।

এক মিলনক্ষেত্র তৈরি হত কুমোরপুকুর প্রাঙ্গণে। পাশাপাশি সন্দেশখালির শেয়ার অঞ্চলে প্রতিবছরের মাঘী পূর্ণিমার শেষ শনিবারে কালী পুজো হয়, পুজো উপলক্ষে একটা বলি দেয়া হয় প্রাচীন রীতিনীতি মেনে, মাংস রান্না করে নিরামিষ ভাবে পুণ্যার্থীদের দেওয়া হয়। পুজো ঘিরে পূণ্যার্থীদের আনাগোনা হয়। ওপার বাংলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এই কুমারপুকুরের প্রাঙ্গণ আসতো। সেই পরম্পরা আজও বজায় আছে। সীমান্তের বেড়াজাল হলেও বৈধভাবে এখনও ওপার বাংলা থেকে পুণ্যার্থী এখানে ভিড় জমায়।

প্রতিবছর মাঘী পূর্ণিমার শেষ শনিবারে মা পূজিত হন। সব সম্প্রদায়ের মানুষ এখানে এসে ভিড় জমান এবং সেখানে পুজোর অনুষ্ঠানে মেতে ওঠেন। পুজোর কটা দিন চলে বাল্য ভোজন ও পরমান্ন ভোগ বিতরণ। সব মিলিয়ে এই কালী পুজো বাংলার সব সম্প্রদায়ের মানুষের সম্প্রীতির মেলবন্ধন তৈরি করে। রাজ্য ও রাজ্যের বাইরে এমনকি ওপার বাংলা থেকে সব সম্প্রদায়ের মানুষ এসে এই মন্দিরে তাদের নিজের মনোবাঞ্ছনা পূর্ণ হওয়ার জন্য মানত করে যান।

এই মন্দির কমিটি প্রধান পৃষ্ঠপোষক উত্তর ২৪ পরগণা জেলা পরিষদের শিক্ষা ও ক্রীড়ার কর্মাধ‍্যক্ষ ফিরোজ কামাল গাজী। ফিরোজ কামাল গাজী বাবু বলেন, “আমরা সব সম্প্রদায়ের মানুষকে নিয়ে মহামিলনের ডাক দিয়েছি। আমরা এখানে নিজেরা এসে গর্বিত মনে করছি। কুমারপুকুর প্রাচীন কালী মন্দির নবরূপে সংস্কার করার জন্য প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা দিয়ে সাজিয়ে তুলেছি। সব সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে এ এক অনন্য নজির।”

এর পাশাপাশি তিনি বলেছেন মন্দিরের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে তার জন্য মুক্ত মঞ্চ তৈরি করার জন্য অর্থের প্রয়োজন। সব মিলিয়ে আজকের এই প্রাচীন কুমারপুকুরের কালীমাতা মন্দির সম্প্রীতির এক আলাদা নজির।

Related Articles

Back to top button
Close