fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

করোনা আবহে ভক্তকূলকে বাদ দিয়ে ১৪৪ ধারা জারি রেখে সম্পন্ন জগন্নাথদেবে স্নানযাত্রা

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: করোনা আর একদিকে লকডাউনের মধ্য দিয়ে আজ ৫ জুন পালিত হল জগন্নাথদেবে স্নানযাত্রা। হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে জ্যৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে আয়োজিত হয় এই উৎসব। জগন্নাথভক্তদের কাছে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব হিসেব পালিত হয়ে থাকে। এই দিনটিকে জগন্নাথের জন্মতিথি মনে করা হয়। পুরীতে স্নানযাত্রা উপলক্ষে জগন্নাথ, বলভদ্র, সুভদ্রা, সুদর্শন চক্র ও মদনমোহন বিগ্রহকে জগন্নাথ মন্দির থেকে স্নানবেদিতে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তাদের প্রথাগতভাবে স্নান করানো হয় এবং ভক্তদের দর্শনের জন্য সুন্দর বেশভূষায় সজ্জিত করা হয়।

জগন্নাথের ভক্তদের বিশ্বাস, সেদিন যদি তারা পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে দেবতাকে দর্শন করতে যান, তবে তাদের সকল পাপ থেকে মুক্ত হতে পারবেন। প্রতি বছর সেই বিশ্বাসকে সামনে রেখে অসংখ্য ভক্ত স্নানযাত্রা উপলক্ষ্যে পুরীর মন্দির দর্শনে যান।

স্নানযাত্রার দিন মন্দিরের উত্তর দিকের কূপ থেকে জল এনে মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে তার শুদ্ধিকরণ করা হয়। তারপর ১০৮টি কলসে সেই জল নিয়ে বিগ্রহগুলিকে স্নান করানো হয়।
সেই দিন সন্ধ্যাবেলা স্নানপর্বের সমাপ্তির পর জগন্নাথ ও বলভদ্রকে গণেশের রূপে সাজানোর জন্য হস্তীমুখ-বিশিষ্ট মস্তকাবরণী পরানো হয়। জগন্নাথের এই রূপটিকে বলা হয় ‘গজবেশ’।
প্রথাগত বিশ্বাস অনুসারে, স্নানযাত্রার পর জগন্নাথ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই সময় তাকে রাজবৈদ্যের চিকিৎসাধীনে গোপনে একটি সংরক্ষিত কক্ষে রাখা হয়।

জগন্নাথের এই অসুস্থতার পর্যায়টি ‘অনসর’ নামে পরিচিত। এই সময় ভক্তেরা দেবতার দর্শন পান না। তাদের দর্শনের জন্য বিগ্রহের পরিবর্তে মূল মন্দিরে তিনটি পটচিত্র রাখা হয়। এই সময় ভক্তেরা ব্রহ্মগিরি অলরনাথ মন্দিরে যান। ভক্তদের বিশ্বাস অনসর পর্যায়ে জগন্নাথ অলরনাথ রূপে অবস্থান করেন। কথিত আছে, রাজবৈদ্যের আয়ুর্বেদিক পাঁচন খেয়ে পক্ষকালের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠেন। তারপর ভক্তেরা আবার তাকে আবার দর্শন করতে পারেন।

তবে এবছর করোনা আবহে সবই বাদ। তবে ভক্তকূলক বাদ দিয়েই আয়োজন করা হল জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা।

দেড়শো দুইশো বছর কেন বিগত পাঁচশো বছরের ইতিহাসে এই প্রথম শ্রীক্ষেত্র বা পুরীতে প্রভু জগন্নাথের স্নানযাত্রা সমাপন হল কোনও ভক্তগণ ছাড়াই।সমস্ত নিয়ম অনুযায়ী এই মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। তবে এবারে এই স্নানযাত্রা দেখতে নেই ভিড়। শুধু দৈত্যপতিরা, পান্ডারা ও শয়ে শয়ে পুলিশ, পুরীর মহারাজরাই ছিলেন। বেলা সাড়ে ১০টার মধ্যেই সেই স্নানযাত্রার সমাপন ঘটেছে বলেই জানা গিয়েছে।

কার্যত গোটা পুরী শহর জুড়ে ১৪৪ ধারা জারি রেখে এদিন সম্পন্ন করা হয় স্নানযাত্রার পর্ব। এদিন ভোর ৪টে থেকে শুরু হয় স্নানযাত্রার পর্ব। তবে রাত থেকেই মন্দিরচত্বরে মোতায়েন ছিল ৩৮ পল্টন পুলিশকর্মী। ছিলেন ৬জন অতিরিক্ত পুলিস সুপার পদমর্যাদার অফিসারও। কড়া নিরাপত্তার জাল দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় গোটা মন্দির চত্বর। পুরী শহরের বিভিন্ন প্রান্তে রাত থেকেই শুরু হয়ে যায় নাকা চেকিং। করোনার আবহে মন্দির চত্বরে যাতে কোনও জমায়েত না হয় সেই দিকে যেমন কড়া লক্ষ্য রাখা হয়েছিল ঠিক তেমনি মন্দিরে আসার সব পথ ব্যারিকেড করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

Related Articles

Back to top button
Close