fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

রণক্ষেত্র বারাবনি, বিজেপির মিছিলে হামলা চালানোর অভিযোগ, চললো বোমা ও গুলি, আহত

শুভেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, আসানসোল: আসানসোলের বারাবনিতে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিজেপির “আর নয় অন্যায়”র মিছিলে সশস্ত্র হামলা চালানোর অভিযোগ উঠলো। যা সংঘর্ষের চেহারা নেয়। এই রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার সকালে গোটা এলাকা রনক্ষেত্রের চেহারা নেয়। ঘটনাটি ঘটেছে বারাবনির থানার জামগ্রাম পঞ্চায়েতের খড়াবোড় ৪ নং কালি মন্দিরের কাছে। এই ঘটনায় মোট ১৩ জন আহত হয়েছেন। তারমধ্যে একজন স্কুল পড়ুয়া আছে। দুই পক্ষের দাবি, অন্য পক্ষ তাদের উপরে বোমা, বন্দুক ও লোহার রড ও লাঠি হামলা চালায়। খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী এলাকায় আসে। দুপুরের পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে। দলের মিছিলের যোগ দিতে সেখানে পৌঁছানোর কথা ছিলো বিজেপির জেলা সভাপতি ও যুব মোর্চার সভাপতির।

বিজেপির পক্ষ থেকে জেলা সভাপতি লক্ষ্মণ ঘোরুই ও রাজ্য নেতা কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় এদিন দুপুরে আসানসোল জেলা হাসপাতালে দাবি করেন, তাদের ৬ জন এই হামলায় আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনের গুলি লেগেছে। ৬ জনের নাম হলো কালিচরন দাস, নিত্যানন্দ অধিকারী, প্রকাশ বাউরি, চন্দন বাউরি, পাপ্পু রায় ও সাধন রাউত। তার মধ্যে গুলিবিদ্ধ কালিচরন দাসকে আসানসোল জেলা হাসপাতাল থেকে দূর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বাকিরা আসানসোল জেলা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

জেলা সভাপতি বলেন, আমরা এদিন ” আর নয় অন্যায় ” নিয়ে বারাবনির জামগ্রামে প্রচার চলছিলো। সেই সময় তৃণমূল কংগ্রেসের দূষ্কৃতিরা বোমা ও গুলি নিয়ে হামলা চালায়।    বোমা বিস্ফোরণে গোটা এলাকা কেঁপে উঠে।  এদিকে তৃনমুল কংগ্রেস ও  বিজেপি একে অপরের দিকে বোমা ফাটানো ও গুলি চালানোর অভিযোগ তুলছে। এই ঘটনায় ৫ টি মোটরবাইকে ভাঙচুর করে, তাতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর এলাকাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিজেপির অভিযোগ, ” আর নয় অন্যায়ে” র প্রচারে বিজেপি মিছিল বের করেছিল। তখন তাদের মিছিলটিতে আক্রমণ করা হয়। একই সঙ্গে তৃনমুল কংগ্রেসের অভিযোগ করেছে  বিজেপির তরফে দুয়ারে সরকারের সরকারি শিবিরে আক্রমণ করা হয়েছে।

তৃনমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি জিতেন্দ্র তেওয়ারি বলেন, বিজেপি এইভাবে রাজ্য জুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আজকের ঘটনা তার প্রমাণ। যাদের জেলে থাকা উচিত তারা এখন  বিজেপিতে রয়েছেন। বিজেপির মিছিল থেকে বারাবনিতে বিশৃঙ্খলা করা হয়েছে। যারা বোমা হামলা ও গুলি চালিয়েছে পুলিশের  উচিত তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া।

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের মাফিয়ারাই আক্রমণ করছে বলে অভিযোগ করেন আসানসোলের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতি মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র আরো অভিযোগ করে বলেন যে, তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি অসিত সিং মাফিয়াদের সুরক্ষা দিয়েছেন। তার নেতৃত্বেই বিজেপির মিছিলে হামলা ও গুলি চালানো হয়। তৃনমুল কংগ্রেস জেনে গেছে যে তারা আর ক্ষমতায় ফিরছে না। বাংলার মানুষেরা ২০২১ সালে তাদের উপড়ে ফেলবে। সুতরাং তারা এই সব করছেন।

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি অরিজিৎ রায়ের নেতৃত্বে এলাকায় বোমা ও বন্দুক নিয়ে হামলা করা হয়। তাতে উসকানি দিয়েছেন জেলা সভাপতি। সাধারণ মানুষেরা দুয়ারে সরকারের শিবিরে  পরিসেবা নিতে এলাকায় ছিলেন। তখন এই হামলা হয়। আমরা পুলিশের কাছে হামলাকারীদের গ্রেফতার করার দাবি জানিয়েছি।

আসানসোল জেলা হাসপাতালে ভর্তি থাকা ৫ জনের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। দূর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি কালিচরন দাসের শারীরিক অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। পরে হাসপাতালে আসেন জেলা যুব মোর্চার সভাপতি অরিজিৎ রায়, মহিলা নেত্রী আশা শর্মা সহ অন্যান্যারা।

অরিজিৎ রায় বলেন, পুলিশের সামনেই মিছিলে হামলা হয়েছে। বাইরের লোক ও কয়লা মাফিয়াদের এনে তৃনমুল কংগ্রেস হামলা করেছে। আমি সেখানে ছিলাম না। জামুড়িয়ার মিছিলে ছিলাম। মানুষ এর জবাব আগামী বিধানসভা নির্বাচনে দেবেন। এই প্রসঙ্গে আসানসোল দূর্গাপুর পুলিশের ডিসিপি (পশ্চিম) বিশ্বজিৎ মাহাতো বলেন, কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। কে কাদের উপরে হামলা করেছে তাও পরিষ্কার নয়। তবে বিজেপির মিছিলের অনুমতি ছিল না। গোটা ঘটনার তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

Related Articles

Back to top button
Close