fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

গোষ্ঠী সংঘর্ষে রণক্ষেত্র মঙ্গলকোট, গুলিবিদ্ধ ২ মহিলা সহ ৫

দিব্যেন্দু রায়, মঙ্গলকোট: বালিঘাটের কর্তৃত্বকে ঘিরে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল মঙ্গলকোটের বকুলিয়া গ্রাম। সোমবার বিকেলে দু’পক্ষের মধ্যে এনিয়ে ব্যাপক বোমাবাজি ও গোলাগুলি চলে। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন দুই মহিলা সহ মোট পাঁচজন। আহত দুই মহিলা হলেন দোলা মাঝি ও পিরু ধীবর। অপর তিন আহতের নাম পিন্টু সরদার, অসিত মাঝি ও কালু ধীবর। আহতদের সকলকে প্রথমে মঙ্গলকোট ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য আনা হয়। তার মধ্যে কালুকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয় । বাকিদের বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। এদিকে সংঘর্ষের ঘটনার পরেই বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌছে যায়। পুলিশ হামলাকারীদের সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেছে। তবে এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে জানা গেছে৷

জানা গেছে, মঙ্গলকোটের বকুলিয়া গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে অজয় নদ । বকুলিয়া গ্রামের কাছে একটা বৈধ বালিঘাট রয়েছে। বালি তোলার পর বালিবোঝাই গাড়িগুলি মূলত বকুলিয়া গ্রামের ভিতর দিয়েই যাতায়ত করে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তা খারাপ হয়ে যায়। এই কারনে রাস্তা মেরামতির জন্য বালিঘাটের ইজারাদারের কাছ থেকে টাকা নেয় গ্রামবাসীরা। টাকা তোলার জন্য জন্য গ্রামে একটা কমিটিও রয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, ইজারাদারদের কাছ থেকে টাকা তোলা নিয়ে গ্রামের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বেশ কিছু দিন ধরে বিবাদ চলছিল। এনিয়ে চাপা উত্তেজনা ছিল গ্রামে। এদিন বিকেলে এনিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বচসা থেকে সংঘর্ষ বেধে যায়। শুরু হয়ে যায় বোমাবাজি। মুড়িমুড়কির মত বোমা পড়তে থাকে। এমনকি বেশ কয়েক রাউণ্ড গুলিও চলে। গুলিবিদ্ধ হয়ে জখম হন দুই মহিলাসহ পাঁচজন। তাঁদের প্রথমে মঙ্গলকোট ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। পরে তাদের মধ্যে চারজনকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

এই ঘটনায় বিজেপির দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন মঙ্গলকোট ব্লক তৃণমূল সভাপতি অপূর্ব চৌধুরীর । তাঁর অভিযোগ, “বিজেপি বাইরে থেকে দুস্কৃতীদের নিয়ে এসেছিল। তারাই আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা করেছে। এতে আমাদের পাঁচজন কর্মী আহত হয়েছেন।”

অন্যদিকে বিজেপির পূর্ব বর্ধমানের সাংগঠনিক কাটোয়া জেলার সাধারন সম্পাদক রান প্রতাপ গোস্বামী বলেন, “মঙ্গলকোটে তৃনমুল বিধায়ক ও তৃণমূলের ব্লক সভাপতির মধ্যে দ্বন্দের কথা কারোর অজানা নয়। অজয়ের বালিঘাটগুলি থেকে তোলা আদায়ের জন্য এই দুই গোষ্ঠীর লোকজনের মধ্যে প্রায়ই লড়াই হয়। এদিনও দুই গোষ্ঠীর মধ্যেই সংঘর্ষ হয়েছে। নিজেদের অপরাধ ঢাকতে ওরা বিজেপির ঘারে দোষ চাপাতে চাইছে। এদিনের ঘটনায় বিজেপির কোনও ভুমিকা নেই ।”

Related Articles

Back to top button
Close