fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

মধ্যরাতে পুলিশি অভিযানে রণক্ষেত্র করুণাময়ী, টেট আন্দোলনকারীদের তোলা হল প্রিজন ভ্যানে, ছাড়া হল ভোরে

আজ সকাল ১০টায় শুনানি, অতর্কিতে অভিযানে ছত্রভঙ্গ আন্দোলন

যুগশঙ্খ, ওয়েবডেস্ক: রাত যত বাড়ছিল, ততই চরমে উঠছিল উত্তেজনা। টেট আন্দোলনকারীরা বলতে থাকেন, এখান থেকে আমরা কেউ সরব না। মার খেতেই এসেছি, মারুক আমাদের। আমৃত্যু আমাদের লড়াই চলবে। এর মধ্যেই, জল-খাবার কিছু না পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন অনেকেই। পাশের আন্দোলনকারীদের তাদের শুশ্রূষা করতে দেখা যায়। তার মধ্যেই পুলিশের অনুরোধ জানিয়ে চলতে থাকে মাইকে অ্যানাউন্সমেন্ট। একটা সময় পুলিশ নামে অভিযানে। টেনে হিঁচড়ে তাদের তাদের তোলা হল প্রিজন ভ্যানে। পুরো জায়গা ঘিরে রেখেছিল বিধাননগর থানার পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশকর্তারা। তাদের আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়।

আন্দোলনকারীদের দাবি, পুলিশ কতদিন আটক করে রাখবে! ফের ছাড়া পেলেই আন্দোলনে বসবেন তাঁরা। সেক্ষেত্রে আন্দোলন হবে আরও ব্যাপক। কারণ নিজেদের অবস্থান থেকে কোনওভাবেই সরতে নারাজ তাঁরা। এ দিন করুণাময়ী থেকে আটক করে বিক্ষোভকারীদের বিধাননগর উত্তর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। মাত্র কিছুক্ষণের মধ্যেই ৮৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা আন্দোলনকে পুলিশকর্তারা কার্যত লণ্ডভণ্ড করে দিতে সক্ষম হন পুলিশকর্তারা। তবে যেখানে সূর্য অস্ত যাওয়ার পরে মহিলাদের গ্রেফতারির ক্ষেত্রে নানা বাধা রয়েছে, অনুমতির প্রয়োজন হয়েছে। সেক্ষেত্রে কীভাবে মধ্যরাতে মহিলা বিক্ষোভকারীদের আটক করে নিয়ে যাওয়া হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এ দিন আটক করার পরে ছিঁড়ে ফেলা হয় বিক্ষোভকারী পোস্টার, ব্যানার। ভোরের দিকে নিউটাউন থানায় থাকা চাকরিপ্রার্থীরা ছাড়া পেলেও আন্দোলনের মূল তিন নেতার হদিশ নেই এখনও৷ অভিযোগে সরব চাকরিপ্রার্থীরা৷

এদিকে শুক্রবার সকাল দশটার সময়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব। কিন্তু সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারল না প্রশাসন। অভিযোগ তুললেন চাকরিপ্রার্থীদের আইনজীবী। আন্দোলনকারীদের কেন ই-মেলে নোটিস পাঠানো হয়েছিল, প্রশ্ন তুললেন আইনজীবী।

৯ অক্টোবর থেকে পর্ষদের অফিস এপিসি ভবনের সামনে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এই ধারা বলবৎ রয়েছে এই অফিস থেকে কিছুটা এগিয়ে এসে বেসরকারি হাসপাতালের সামনেও। কিন্তু সেখানে ধরনা চলছে। বৃহস্পতিবার সকালে এই মামলার শুনানি চলে বিচারপতি লপিতা মুখোপাধ্যায়ের বেঞ্চে। এর প্রেক্ষিতে আদালত নির্দেশ দিয়েছিল ১৪৪ ধারা মেনে চলতে হবে। এরপরও আন্দোলন চলছিল। পাল্টা হাইকোর্টে মামলা করেন আন্দোলনকারীরাও। পর্ষদের মামলা সংক্রান্ত কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে মামলা দায়েরের অনুমতি চান টেট উত্তীর্ণরা।

 

 

Related Articles

Back to top button
Close