fbpx
পশ্চিমবঙ্গ

পঞ্চায়েত অফিসে পূর্ত কর্মাধ্যক্ষের দেহ উদ্ধারকে ঘিরে চাঞ্চল্য রায়নায়, তদন্ত

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: পঞ্চায়েত সমিতির অফিস চত্ত্বর থেকে উদ্ধার হল পূর্ত কর্মাধ্যক্ষের ঝুলন্ত মৃতদেহ । মৃতের নাম চৌধুরী মোস্তফা হোসেন ওরফে মিঠু।‌ বয়স ৪২।সোমবার বিকালে পূর্ব বর্ধমানের রায়না ১ পঞ্চায়েত সমিতি অফিসের ঘটনা । গলায় দড়ির ফাঁস লাগানো অবস্থায় সমিতির খাদ্য কর্মাধ্যক্ষের দপ্তরের বারান্দায় থাকা সিলিং ফ্যানে ঝুলছিল খাদ্য কর্মাধ্যক্ষের ঝুলন্ত দেহ ।

খবর পেয়ে রায়না থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে দেহ উদ্ধার করে রায়না ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যায় । সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পূর্ত কর্মাধ্যক্ষক চৌধুরী মোস্তফা
হোসেনকে মৃত ঘোষনা করেন । এই ঘটনা জানাজানি হতেই রায়নার প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে ।

পুলিশ ও ব্লক প্রশাসনের কর্তাদের কথায় জানা গিয়েছে ,রায়না থানার সেহারা গ্রাম পঞ্চায়েতের আউসারা গ্রামে চৌধুরী মোস্তফা হোসেনের বাড়ি । বর্তমানে তিনি তাঁর স্ত্রী রেশ্মী বিবি ও নাবালিকা কন্যা রিদ্ধিকে সঙ্গে নিয়ে বর্ধমান শহরের সরাইটিকর এলাকার বাড়িতে থাকতেন । মৃতর দাদা আজম চৌধুরী জানিয়েছেন ,পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ হওয়ার আগে তাঁর ভাই মিঠু বর্ধমান আদালতে আইনজীবীর পেশায় যুক্ত ছিলেন। তখনই বর্ধমানের সরাইটিকরে জমি কিনে বাড়ি করে পরিবার নিয়ে থাকা শুরু করে ।সেই বাড়ি আরো বিশাল করার কাজও চলছে । আজম চৌধুরী জানান ,গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমৃলের হয়ে প্রতিদ্বন্দিতা করে মিঠু জয়ী হন ।দল তাঁকে রায়না ১ পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ মনোনিত করে।পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ পদে দায়িত বুঝে নেবার পর দু’বছরে মাথায় মিঠুর এমন মৃত্যুর কারণ কারণ কি থাকতে পারে তা বুঝে উঠতে পারছেন না পরিবার সদস্যরা ।তবে এই মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে প্রশাসন ও রায়নার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে ।

সপ্তাহের প্রথম দিন সোমবার নির্দিষ্ট সময়ে রায়না ১ পঞ্চায়েত অফিসে নিজের দপ্তরে হাজির হয়েছিলেন মোস্তফা হোসেন । বিকালে অফিস ছুটি হয়ে যাবার পর অফিস কর্মী খাদ্য কর্মাধ্যক্ষের অফিস ঘর বন্ধ করতে যান। তখনই ওই অফিস কর্মী দেখেন গলায় নাইলন দড়ির ফাঁস লাগান অবস্থায় খাদ্য কর্মাধ্যক্ষের দপ্তরের সামনে বারান্দায় থাকা সিলিং ফ্যানে ঝুলছে মোস্তফা হোসেনের মৃতদেহ। সামনেই পড়ে থাকে প্লাস্টিকের একটি টুল ।

এদিকে এমন ঘটনা দেখেই ওই অফিস কর্মী চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করেদেন ।ওই কর্মী ঘটনা কথা বিডিও সৌমেন বনিককেও জানায় ।খবর দেওয়া হয় রায়না থানায় । ঘটনার কথা জানতে পেরে মহকুমা শাসক (দঃ) সুদীপ ঘোষ এবং রায়নার বিধায়ক নেপাল ঘোড়ুই, এসডিপিও আমিনুল ইসলাম খান পঞ্চায়েত সমিতি অফিসে পৌছান । বিডিও অফিসে তারা একপ্রস্থ রুদ্ধদ্বার বৈঠক সারেন ।পরে এনারা সকলে যান রায়না থানায় । সেখানের রাত প্রায় ৮ টা পর্যন্ত চলে বৈঠক । তবে কি নিয়ে ওই বৈঠক তা অবশ্য কেউই খোলসা করতে চাননি। সহকর্মীর মৃত্যু রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন বর্ধমান বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরাও ।

এসডিপিও আমিনুল ইসলাম খান জানিয়েছেন , এদিন বিকাল ৫ টার পর জানা যায় রায়না ১ পঞ্চায়েত সমিতি অফিসের বারান্দার পূর্ত কর্মাধ্যক্ষের দেহ ঝুলছে । সমিতি অফিসে অন্য সবার চেম্বার সেই সময়ে বন্ধ ছিল । তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে । ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে । তবে প্রাথমিক ভাবে মনেকরা হচ্ছে চৌধুরি মোস্তফা হোসেন সুইসাড করেছেন ।মৃতর কাছ থেকে কিংবা তার চেম্বারে খোঁজ চালিয়ে কোন সুইসাইড নোট পায়া যায়নি । মৃত্যুর কারণ এখনও কিছু জানা যায়নি । ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে এসডিপিও জানিয়েছেন । অন্যদিকে পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য রত্না মহান্ত বলেন , মিটিং থাকায় এদিন বিকালে পঞ্চায়েত সমিতি অফিসে কেউ থাকেনি । অফিসে পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ চৌধুরী মোস্তফা হোসেন একাই ছিলেন । তার সূযোগ নিয়ে এদিন তিনি গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন । রত্না মহান্ত জানান কেন এমন ঘটনা মোস্তফা হোসেন ঘটালেন তার কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না।

Related Articles

Back to top button
Close