fbpx
কলকাতাহেডলাইন

এক ধমকে ঘরে ফিরল বেচা, পদত্যাগ বাতিল

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এক ধমকেই দুপুরের ইস্তফা সন্ধ্যায় প্রত্যাহার করে নিলেন তৃণমূল বিধায়ক বেচা রাম মান্না। এমনটাই খবর বেচারাম মান্না অনুগামী সূত্রে। ব্লক সভাপতি পরিবর্তন নিয়ে সম্প্রতি বিদ্রোহী হয়ে বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়ছিল বেচা। কিন্তু দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর ধমকেই বাতিল হয়ে গেল ইস্তফার পরিকল্পনা।

সেই সঙ্গে হরিপাল এবং সিঙ্গুরে বেচা- অনুগামীদের গণ-পদত্যাগের পরিকল্পনাও আপাতত বাতিল হয়ে গেল। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিধান সভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে বিধায়ক পদের ইস্তফা তুলে দিয়ে ছিলেন বেচারাম। সেই খবর ছড়াতেই বেচারামকে তৃণমূল ভবনে ডেকে পাঠান দলের রাজ্য সভাপতি তথা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুব্রত বক্সী। সেখানে বক্সী বেচারামকে ‘ধমক’ দেন বলে খবর। সে ‘ধমক’ অবশ্য হুঁশিয়ারি ছিল না, ছিল ‘অভিভাবক সুলভ ধমক’— দাবি বেচা-ঘনিষ্ঠদের। রাজ্য সভাপতির সঙ্গে সেই কথোপকথনেই বেচারামের মান ভাঙে। নেতৃত্বের নির্দেশে তিনি ইস্তফা প্রত্যাহার করে নেন।

সিঙ্গুরে তৃণমূলের ব্লক সভাপতি পরিবর্তন নিয়ে গোলমালের সূত্রপাত। সিঙ্গুরের বিধায়ক তথা রাজ্যের আর এক প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের অনুগামী হিসেবে পরিচিত মহাদেব দাসকে সরিয়ে সম্প্রতি বেচার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত গোবিন্দ ধাড়াকে সভাপতি পদে বসায় জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। তাতে বিদ্রোহী হয়ে ওঠেন রবীন্দ্রনাথ। দল ছাড়ার হুমকিও দিয়ে দেন। সিঙ্গুরের জনপ্রিয় ‘মাস্টারমশাই’-এর ক্ষোভ সামলাতে হস্তক্ষেপ করেন খোদ দলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার রাতে তিনি বেচার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন বলে বেচা ঘনিষ্ঠরা জানান।

অবিলম্বে মহাদেব দাসকে ব্লক সভাপতি পদে ফেরানোর নির্দেশ দেওয়া হয় বেচাকে। তিনি ওজর-আপত্তি তোলার চেষ্টা করায় তাঁকে সতর্ক করে বলা হয় যে, দলকে যেন বেচা ‘ব্ল্যাকমেল’ করার চেষ্টা না করেন। বেচারামের ঘনিষ্ঠদের দাবি অন্তত সে রকমই। বেচা যে সামনের ভোটে হরিপালে টিকিট পাবেন না, সে বার্তাও দিয়ে দেওয়া হয় বলে খবর। তাতেই প্রাক্তন মন্ত্রী কান্নায় ভেঙে পড়েন। বিধায়ক পদে অবিলম্বে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পিছু হঠেছেন হরিপালের বিধায়ক।

Related Articles

Back to top button
Close