fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

নদীয়ার জাগুলি মোড় থেকে কৃষ্ণনগর পর্যন্ত বেহাল ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক, বাড়ছে দুর্ঘটনা, যানজট

অভিষেক আচার্য, কল্যাণী: ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক। সড়কপথে কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গের লাইফলাইন এই সড়ক। নদীয়ার জাগুলি মোড় থেকে কৃষ্ণনগর পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা বেহাল। প্রানের ঝুঁকি নিয়ে নিত্যদিন কয়েক হাজার গাড়ি যাতায়াত করছে এই সড়কের ওপর দিয়ে।  জাগুলির চারমাথা মোড় সর্বদাই থাকে ব্যস্ততার শিখরে। এখানকার জাতীয় সড়কের চেহারা অনেকটাই কঙ্কালের মতো। ছোট থেকে বড় সব ধরণের গর্তের দেখা মিলবে এখানে। যানজট ও দুর্ঘটনা এখানকার মানুষের কাছে জলভাত। সৌজন্যে, সড়কের বেহাল দশা। পণ্যবাহী এক লরির চালক বলেন, কৃষ্ণনগর থেকে জাগুলি মোড় পর্যন্ত জাতীয় সড়কের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। রীতিমত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয়।

দিন হোক কিংবা রাত, এই জাতীয় সড়ক দিয়ে দূরপাল্লার সরকারি ও বেসরকারী বহু বাস যাতায়াত করে। রাতের অন্ধকারে গর্তের পরিমাপ বোঝা দুস্কর হয়ে ওঠে চালকদের। এর ফলে দুর্ঘটনা ঘটে অহরহ। বাস চালকদের বক্তব্য, রাস্তা খারাপের দরুন বাসে বসা যাত্রীদের অবস্থা তথৈবচ। ১২ঘন্টার রাস্তা লেগে যাচ্ছে ১৪ ঘন্টা। ভয়ঙ্কর অবস্থা।  জাতীয় সড়কের বেহাল দশা দেখে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। রাস্তার কঙ্কালসার নিজের চোখে দেখতে কয়েকবছর আগে তিনি নিজে এই পথ দিয়ে কলকাতা ফিরেছিলেন। সেই সময় রাস্তায় নেমে আমজনতার প্রশ্নের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছিলেন, রাস্তাটি কেন্দ্র সরকারের অধীনে এখানে রাজ্যের কিছু করার নেই।

আরও পড়ুন: রাজনীতির ঊর্ধ্বে দেশ, আগামী দু’দিন সব রাজনৈতিক কর্মসূচি বাতিল করলো বিজেপি

এরপর ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের সবচেয়ে দুর্দশাগ্রস্ত জাগুলি থেকে কৃষ্ণনগর পর্যন্ত অংশের দু’ধারে প্রচার শুরু করে দিয়েছিলেন তৃণমূল কর্মীরা৷ তাঁদের হাতে প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুনে লেখা ছিল, ‘এই সড়কের দায়িত্ব মোদি সরকারের, রাজ্যের নয়৷’ সূত্রের খবর, ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের সংস্কারের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে৷ কিন্ত্ত কাজ শুরু না-হওয়ায় ওই কাজে বরাতপ্রাপ্ত ঠিকাদার পিছিয়ে গিয়েছেন৷ এখন নতুন ঠিকাদার খোঁজা হচ্ছে৷ তাই কাজ শুরু করতে দেরি হচ্ছে৷ কিন্ত্ত এই যুক্তিতে সন্ত্তষ্ট নন সাধারণবাসী।

বর্ষা আসন্ন। এমনিতেই কয়েক ঘন্টার বৃষ্টিতে জল জমে সড়কের গর্তগুলি ছোট পুকুরের চেহারা নেয়। দূর থেকে বোঝা মুস্কিল কোনটা গর্ত আর কোনটা পুকুর। বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাস্তা খারাপের দরুন প্রতিদিন বাইক,টোটো দুর্ঘটনা হামেশাই হয়। ভারী যানবাহন উল্টে যায়। গাড়ি খারাপের অভিযোগ মিলবে ভুরি ভুরি। তা সত্ত্বেও রাস্তা সারাইয়ের কোনো উদ্যোগ নেই সরকারের। পুলিশ সূত্রের খবর, জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনার প্রবণতা বেড়েছে।  যদিও কয়েক মাস আগে জমিজট কাটিয়ে জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু করোনা আবহে আপাতত সেই কাজ বন্ধ। কবে ফের শুরু হবে সড়কের কাজ তার উত্তর মেলা বড়ই দুষ্কর।

Related Articles

Back to top button
Close