fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

রায়গঞ্জ রামকৃষ্ণ আশ্রমকে অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিল বেলুর মঠ

শান্তনু চট্টোপাধ্যায়, রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জের উকিল পাড়ায় অবস্থিত  রামকৃষ্ণ আশ্রমকে অধিগ্রহনের সিদ্ধান্ত নিল  বেলুড় মঠ রামকৃষ্ণ মিশন কর্তৃপক্ষ।  সুত্রের খবর ইতিমধ্যেই এবিষয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে।  এই খবরে স্বাভাবিক ভাবেই খুশী  বর্তমান আশ্রম পরিচালকবৃন্দ থেকে শুরু করে  রামকৃষ্ণ আশ্রমের শিষ্যরা।

উল্লেখ্য বেলুড় মঠের নির্দেশ মতো গত ১২ এপ্রিল আশ্রম কর্তৃপক্ষ  তাদের যাবতীয়  নথিপত্র জমা করেছিলেন। এরপর ১০ জুন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। এর আগে বেলুড় মঠ থেকে প্রতিনিধিরা  দফায় দফায় আশ্রমে এসে ঘুরে গেছেন। আলোচনা করেছেন বর্তমান আশ্রমের ট্রাস্টি বোর্ডের সঙ্গে। এর আগে থেকে উকিল পাড়ায় অবস্থিত  রামকৃষ্ণ আশ্রম ও রামকৃষ্ণ স্কুলকে বেলুড় মঠের হাতে তুলে দেবার দাবি উঠেছিল। কিন্ত নানাবিধ কারনে তা আর হয়নি। তবে  বেলুড় মঠের অধীনে চলে আসায় বিদ্যাভবনের অধিকাংশ শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী এবং ছাত্র- ছাত্রী ও অভিভাবকেরা চাইছেন তাদের শিক্ষা নিকেতন বেলুড় মঠের নিয়ন্ত্রণে আসুক। কারন বেলুড় মঠের অধীনে বিদ্যালয়টি চলে আসলে জেলায় শিক্ষাক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন হবে।

এদিকে আশ্রম অধিগ্রহণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রায়গঞ্জের ভক্তদের মধ্যে যথেষ্ট উদ্দীপনা দেখা গিয়েছে। রায়গঞ্জ রামকৃষ্ণ আশ্রমের সভাপতি তথা প্রধান শিক্ষক শুভেন্দু মুখোপাধ্যায় জানান, ১৯৪৮  সালের শুরুতে অবিভক্ত  দিনাজপুর আশ্রমের  শ্রীমৎ স্বামী গদাধরনন্দজী মহারাজ তিনি এখানে আসেন। সেই সময় গদাধরনন্দজী মহারাজকে রামকৃষ্ণ মঠ মিশনের জন্য জমি দান করেন মহারাজা জগদীশ নাথ রায় বাহাদুর। বেলুড় মঠের নামেই জমি রেজিস্ট্রি হয়।

কিন্ত আশ্রম পরিচালনার জন্য সেসময় ট্রাস্টি বোর্ড গঠিত হয়। শুভেন্দু বাবু আরও বলেন,  মালদা, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং  ও কোচবিহারে রামকৃষ্ণ আশ্রম বেলুড় মঠ অধিগ্রহণ করেছে। মালদা থেকে জলপাইগুড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত অংশের মধ্যে এবার রায়গঞ্জের আশ্রমটিও এর অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছে। ঠাকুর,  মা ও স্বামীজির ভাবানুদর্শে শাখা খোলার জন্য রামকৃষ্ণ মিশনের প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টের কাছে আমরা বারবার আবেদন করেছি। সবকিছু ঠিক থাকলে বেলুড় মঠ থেকে সন্ন্যাসীরা এসে সমস্ত দায়িত্ব বুঝে নেবেন। রায়গঞ্জ রামকৃষ্ণ আশ্রমের পরিবর্তে নাম হবে রামকৃষ্ণ মিশন রায়গঞ্জ। এটি আমাদের ক্ষেত্রে বড় প্রাপ্তি।” আশ্রম সূত্রে জানা গিয়েছে পুজোর পরে সম্ভবত পরিকাঠামো খতিয়ে দেখে মিশন কর্তৃপক্ষ অধিগ্রহনের বিষয়ে সবুজ সংকেত দেবে।

Related Articles

Back to top button
Close