fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

লাগামছাড়া সংক্রমণ রুখতে রাজ্যের ১১ টি অঞ্চলকে চিহ্নিত করে গণহারে অ্যান্টিবডি টেস্টের প্রস্তুতি শুরু রাজ্যের

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে কিছু জায়গায় যে গোষ্ঠী সংক্রমণের জেরে লাগামছাড়া ভাবে সংক্রমণ বাড়ছে, এ কথা নবান্নে স্বীকার করে নিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। অচিরেই এই জায়গাগুলিতে বিশেষ ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে, এমনটা আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্যকর্তারাও। তাই রাজ্যের এরকম ১১ টি অঞ্চলকে চিহ্নিত করে সেখানে গণহারে অ্যান্টিবডি টেস্টের প্রস্তুতি শুরু করল সরকার। এলাকাগুলির মধ্যে রয়েছে কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা ও হাওড়ার একাধিক জায়গা। এই গণহারে অ্যান্টিবডি টেস্টের কথা আইসিএমআর-কে জানিয়ে তবেই মাঠে নামছে রাজ্য প্রশাসন।

প্রাথমিক ভাবে তিনটি গোষ্ঠী সংক্রামিত এলাকাকে চিহ্নিত করেছিল রাজ্য প্রশাসন। কিন্তু দু’দিনের মধ্যেই সংখ্যাটা ৪ গুণ বেড়ে যায়। এই ঘটনা জানিয়ে লাগামছাড়া সংক্রমণে রাশ টানতে সংশ্লিষ্ট সব অঞ্চলে সেরো-সার্ভে করার জন্য আইসিএমআর-কে অনুরোধ করেছে রাজ্য। তাই অ্যান্টিবডি টেস্ট করে সহজ ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে যাতে গোষ্ঠী সংক্রমণের আকার বুঝতেই এবার রাজ্যের ১১ টি অঞ্চল চিহ্নিত করে গণ-অ্যান্টিবডি টেস্টের পথে নামছে রাজ্য। রাজ্যের স্বাস্থ্য-অধিকর্তা ডা. অজয় চক্রবর্তী এদিন বলেন, ‘গোষ্ঠী সংক্রমণের পরিস্থিতি বুঝতে আইসিএমআর-কে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। খুব দ্রুত সংক্রমণ চিত্র সামনে আসবে।’

স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে খবর, রাজ্যে আইসিএমআরের নোডাল এজেন্সি হল নাইসেড। একমাত্র এই সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে অ্যান্টিবডি টেস্ট সম্ভব। দেড় মাস আগেই কলকাতা পুরসভার তিনটি ওয়ার্ডে নাইসেড ও রাজ্য স্বাস্থ্যদফতর একযোগে করোনার প্রভাব বুঝতে অ্যান্টিবডি টেস্ট শুরু করেছিল। তখন ধরা পড়েছিল, মহানগরের প্রায় ১৭% নাগরিকের মধ্যে করোনা ভাইরাসের প্রভাব স্পষ্ট।

স্বাস্থ্য দফতরের ইঙ্গিত, উত্তর দমদমের নিমতা বা কলকাতার রাজাবাজার-মানিকতলা এবং দক্ষিণের বারুইপুর ছাড়াও উত্তর শহরতলির বরানগর, দক্ষিণের রাজপুর-সোনারপুর ও হাওড়ার কয়েকটি এলাকায় লাগামছাড়া সংক্রমণের প্রাথমিক ইঙ্গিত মিলেছে। তবে এখন সেই চিত্র আরও ব্যাপক হারে বদলে গিয়েছে। তাই এখনকার সংক্রমণ পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যেই গণ-অ্যান্টিবডি টেস্টের জন্য জোর দিচ্ছে রাজ্য প্রশাসন।

Related Articles

Back to top button
Close