fbpx
কলকাতাহেডলাইন

বরফরাজ্য আণ্টার্কটিকার বেতার তরঙ্গ ধরে বিজ্ঞানীদের শাবাশি পেলেন বাংলার বাবুল

শরণানন্দ দাস, কলকাতা: পৃথিবীর শীতলতম,শুষ্কতম মহাদেশ আন্টার্কটিকা। চারিদিকে বরফের রাজ্য, এখানকার তুন্দ্রা অঞ্চলেই একমাত্র বিভিন্ন ধরনের ছত্রাক, শৈবাল, ব্যাকটেরিয়া, উদ্ভিদের দেখা মেলে। পেঙ্গুইন আর সিল মাছেদের সঙ্গী করে এই দুর্গম বরফের রাজ্যে মানবসভ্যতার স্বার্থে গবেষণা করে চলেছেন বিজ্ঞানীরা। বছরে একবার এঁরা নিজেদের গবেষণা ও পরীক্ষা নিরীক্ষার বিষয়ে বেতার সম্প্রচার করেন। এই সম্প্রচার সাধারণ শ্রোতারা শুনতে পাননা। দেশ বিদেশে মুষ্টিমেয় ‘ডিক্সাররা’ এই সম্প্রচার শোনার অপেক্ষায় থাকেন। বহু বছরের চেষ্টায় এবার ওই নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সির বেতার সম্প্রচার রেকর্ড করার দুর্লভ সম্মান পেলেন বারাসতের বাসিন্দা রেডিও ‘ডিক্সার’ বাবলু গুপ্ত।এই দুর্লভ কৃতিত্বের জন্য তাঁকে শংসাপত্র পাঠিয়ে সম্মান জানিয়েছে আন্টার্কটিকার বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান কেন্দ্র LRA 36 থেকে।

এবার প্রথমে বুঝে নেওয়া যাক’ ডিক্সার’ কাকে বলে? বাবলু গুপ্ত জানালেন, ডিক্সার হল দূরের দেশের বেতার সম্প্রচার শোনার পদ্ধতির নাম। আর যাঁরা দূর দেশের এই সম্প্রচার শোনেন তাঁদের বলা হয় ‘ ডিক্সিং’ । এঁদের সাধারণ বেতার শ্রোতার সঙ্গে প্রযুক্তিগত কিছু পার্থক্য রয়েছে। দূরদেশের সম্প্রচার শোনার জন্য কিছু নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করতে হয়। তারজন্য কিছু অ্যান্টেনাসহ যন্ত্রাংশ প্রয়োজন হয়।

বাবলু গুপ্ত বলেন, ‘ এবার ৮ আগস্ট রাত সাড়ে ১০ টা থেকে ৯ আগস্টের ২৪ ঘণ্টা সময়সীমার মধ্যে ১৫৪৭৬ কিলোহার্ৎজে আন্টার্কটিকার বিজ্ঞানীরা রেডিও সম্প্রচার করেন। বহু চেষ্টার পর ৯ তারিখ ভোর ৫ টা থেকে সাড়ে ৫ টার মধ্যে আমি স্প্যানিশ ভাষায় সম্প্রচার শুনতে পাই। প্রায় ২১ হাজার কিলোমিটার দূরের এই বেতার সম্প্রচার রেকর্ড করে আমি ই মেলে আন্টার্কটিকায় পাঠাই। সেই রেকর্ডিং শোনার পর আমাকে সম্মান জানিয়ে ওঁরা শংসাপত্র পাঠিয়েছেন। এটা আমার পক্ষে অত্যন্ত গৌরবের।’

আরও পড়ুন: লকডাউনে গত ৪ মাসে কাজ হারিয়েছেন দু’কোটি মানুষ, বেকারত্ব নিয়ে ফের মোদি সরকারকে আক্রমণ রাহুলের

কীভাবে এই নেশা মাথায় চাপল? বাবলুবাবু বলেন, ‘ সালটা ১৯৬৯, আমার একটা কঠিন অসুখ হয়। অনেকদিন বিছানায় পড়ে থাকতে হয়েছিল। বাড়িতে ফিলিপসের একটা রেডিও সেট ছিল। সারাদিন রেডিও শুনতাম। এভাবেই একদিন রেডিও অস্ট্রেলিয়া স্টেশন ধরে ফেলি। সেবার মেলবোর্ন অলিম্পিকের সব খেলার ধারাবিবরণী শুনেছিলাম রেডিও অস্ট্রেলিয়ায়। ব্যাস নেশা ধরে গেল। তারপর দেখলাম আমি একা নই, এমন ‘ পাগল’ আরও আছে। আমরা ১৯৭৬ এ সংগঠন গড়লাম ‘ ইণ্ডিয়ান ডিক্সার ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল’। সেযুগে ইমেল, ইন্টারনেটের সুযোগ ছিল না। তাই কেউ যদি যোগাযোগ করতে চান, সেইজন্য পোস্টবক্স নম্বর চালু করি – ‘ ইণ্ডিয়ান ডিক্সার ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল জিপিও পোস্ট বক্স নম্বর ৬৪৬। আজ এতদিনে এমন একটা স্বীকৃতি পেয়ে আমি খুব খুশি। ‘ বাবলু বাবু ‘ ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিও ক্লাবেরও সদস্য। ওঁর দৌলতে বাঙালির মাথায় নতুন পালক। এমন ছকভাঙা কিছু মানুষ আছেন বলেই পৃথিবীটা বোধহয় পুরনো হয়নি।

Related Articles

Back to top button
Close