fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

সিএএ অস্ত্রে একুশের যুদ্ধে ঝাঁপাতে তৈরি বঙ্গ বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ দিবসে গেরুয়া সংকল্প

রক্তিম দাশ, কলকাতা: সিএএকে হাতিয়ার করেই একুশের যুদ্ধে জয় আসবে এমনটাই মনে করছে বঙ্গ বিজেপি। আর তাই শাসক তৃণমূল সরকারে দুর্নীতি, কাটমানি ও সিন্ডিকেটের পাশাপাশি নাগরিকত্ব সংশোধিনী আইন পাশ হওয়ার ফলে রাজ্যে বাংলাদেশ থেকে আগত বিপুল সংখ্যক শরণার্থীর নাগরিকত্ব লাভের ফসলকে ভোটের বাক্সে পরিবর্তিত করতে ঝাঁপাচ্ছেন তাঁরা।

 

 

 

সিএএ-র প্রচারকে জোরদার করার লক্ষ্যে চলতি মাসের ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবসের দিনটি থেকে অভিযানে শুরু করছে গেরুয়া শিবির।
রাজ্যে সর্বত্রই সিএএ-র ফলে শরনার্থীরা যেতে সুবিধা পেতে চলেছেন এবং এই সংশোধন কেন প্রয়োজন ছিল তাও মনে করিয়ে দেওয়ার চন্য এই প্রচারের মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিজেপির উদ্বাস্তু সেলকে। জানা গিয়েছে, চলতি মাসের ২০ জুন ১৯৪৭ সালে তৎকালীন বঙ্গিয় আইনসভা ভেঙে পূর্ববঙ্গ আইনসভা ও পশ্চিমবঙ্গ আইনসভা তৈরি হয়েছিল।

 

 

 

বিজেপি ওই দিনটিকে প্রতিবছর পশ্চিমবঙ্গ দিবস রূপে বেশ কয়েকবছর ধরে পালন করে আসছে। তাঁদের বক্তব্য, দেশের বিভিন্ন  রাজ্যেও এরকম একটি নির্দিষ্ট দিবস রয়েছে। যে দিনটিতে রাজ্যগুলি গঠিত হয়েছিল, সেই দিনটিকেই পরবর্তীতে রাজ্য দিবস হিসাবে পালন করা হয়। যদিও পশ্চিমবঙ্গে সরকারিভাবে ২০ জুনকে পালন করা হয়না। দেশভাগের বেদনাময় স্মৃতিকে স্মরণ করে তৎকালীন সময়ে পশ্চিমবঙ্গ তৈরিতে প্রধান ভূমিকা রাখা শ্যামপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ছাড়াও  ঐতিহাসিক যদুনাথ সরকার, রমেশচন্দ্র মজুমদার,সুনীতি চট্টোপাধ্যায় , বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহা, কংগ্রেস নেতা অতুল্য ঘোষ প্রমুখের অবদানের কথাও তুলে ধরা হবে। এর পাশাপাশি থাকবে কেন সিএএ প্রয়োজন ছিল তাও প্রচারে আনবে বিজেপির উদ্বাস্তু সেল।

 

 

বঙ্গ বিজেপির উদ্বাস্তু সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মোহিত রায় বলেন,‘ আমরা যে রাজ্যে বসবাস করি তা কেন বঙ্গভাগ করে তৈরি করার প্রয়োজন ছিল। তা বর্তমান প্রজন্ম জানে না। বরঞ্চ এই বাংলা ভাগের জন্য শ্যামপ্রসাদকে দায়ি করা হয়। কিন্তু দেশভাগ যখন ধর্মের ভিত্তিকে হয়েছিল। তখন বাংলা যদি ভাগ না হতো তাহলে আমাদের অবস্থা আজ কি হতো তা বাংলাদেশের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। স্বাধীনতার পর থেকে পূর্ব পাকিস্তান বা পরবর্তী বাংলাদেশ হিন্দুদের সংখ্যা ৩০ থেকে আজ ৮ শতাংশে নেমে এসেছে। ৪৭ সালে বাংলা ভাগ হয়ে গঠিত হওয়া দুটি আইনসভাতেই অমুসলিম সদস্যরা বাংলাভাগের পক্ষে এবং পাকিস্তানে যোগদানের বিপক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, ১৯৪৭ সালে অমৃতবাজার পত্রিকা যে জনমত সমীক্ষা করেছিল তাতে ৯৮.৩ শতাংশ বাঙালি পশ্চিমবঙ্গ সৃস্টির পক্ষে মত দিয়েছিলেন। কিন্তু আজ সেই ঐতিহাসিক কারণে সৃস্ট পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনের অপচেষ্ট চলছে।’

 

 

 

মোহিতবাবু বলেন,‘ পশ্চিমবঙ্গ আজ একের পর এক ঘটনা ঘটছে। জেহাদিরা যারা সেদিন ধর্মের দেশ ভাগ করেছিল তারা আজ আবার নবরূপে সামনে আসছে। জেএমবির-মতো নিষিদ্ধ সংগঠন আমাদের রাজ্যে ঘাঁটি গেড়েছে। বর্ধমানের খাগাড়গড় বিস্ফোরণের পর একাধিক জেএমবি,হুজি সহ ইসলামিক জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা ধরা পড়ছে। যাঁরা বাংলাকে পশ্চিম বাংলাদেশ বানাতে চাইছে। আমরা যাঁরা দেশভাগ ও পরবর্তী সময়ে মৌলবাদি সন্ত্রাসের স্বীকার হয়ে এদেশে আশ্রয় নিয়েছি। তাঁরা কখনই এসব মেনে নিতে পারিনা। তাই আমরা মনে করি পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করব কারণ পশ্চিমবঙ্গ দেশভাগে বঞ্চিত বাঙালি হিন্দুর একমাত্র হোমল্যান্ড। হিন্দুদের অস্তিত্ব এবং ভারতীয় সংস্কৃতি ও ধর্ম পালনের স্বাধীনতা ও নারীর নিরাপত্তার প্রশ্নে এই দিনটিকে স্মরণ করতে হবে।’

 

 

মোহিতবাবু আরও বলেন,‘ হিন্দু শরণাথীদের দীর্ঘ দিনের নাগরিকত্বের দাবি পূরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। কিন্তু আমরা দেখলাম এই আইন পাশ হওয়ার পর গত বছর ১৩ থেকে ১৫ ডিসেম্বর রাজ্যজুড়ে জেহাদিরা তা-ব চালালো। কিন্তু আমরা এভাবে শ্যামাপ্রসাদের পশ্চিমবঙ্গকে ধ্বংস হতে  দেবনা। ওই দিনটি থেকে আমরা ফের প্রচার আন্দোলন শুরু করব সিএএ নিয়ে। শরানার্থীদের ভুল বোঝানো হচ্ছে সিএএ আইন নিয়ে। তাঁদের কাছে গিয়ে আমরা সিএএ কেন তাঁদের অধিকার এই আইনে কতটা সুরক্ষিত হয়েছে তা জানাব। আমরা ওই দিন বিজেপির রাজ্য অফিস অনুষ্টান করব। উপস্থিত থাকবেন রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ দিলীপ ঘোষ। এছাড়াও  যাদবপুর, বাঘাযতীন, গড়িয়া, বারাসত, দমদম, দুর্গাপুর, মালদহসহ রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্টান করব।’

Related Articles

Back to top button
Close