fbpx
কলকাতাহেডলাইন

‘বাংলা নিয়ে মিথ্যাচার করছেন সীতারামন’, সাফ জবাব অমিতের

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: আমফান থেকে করোনা, পরিযায়ী শ্রমিক ইস্যু থেকে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে যোগদান না করা, নানা ইস্যুতে  বাংলার বিরুদ্ধে নিশানা দাগেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। আক্রমণ করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। এবার নির্মলাকেই পাল্টা ‘মিথ্যেবাদী’ আখ্যা দিলেন অমিত মিত্র। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী বলেন, “দেশ তলানিতে চলে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞ সংস্থা বলছে জিডিপি পাঁচ শতাংশ নেমে যাবে। অথচ এর মধ্যেই উনি বাংলাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে মিথ্যা দিয়ে আক্রমণ করছেন। এটা দেশের অর্থমন্ত্রী কে শোভা পায় না “।

লকডাউনের জেরে কাজ হারানো পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালু করেছে মোদি সরকার। এই প্রকল্পের লক্ষ্য নিজ নিজ এলাকাতেই পরিযায়ী শ্রমিকেরা যেন কাজ পায়। বিহার থেকে সেই প্রকল্পের উদ্বোধনও করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অথচ বাংলাকে প্রথম থেকেই বাদ রাখা হয় এই প্রকল্পের জন্য। এ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জলঘোলা হতে শুরু করার পাশাপাশি রাজ্য সরকারও সরব হয় বিষয়টি নিয়ে। সেই সময় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন জানান বাংলার কাছ থেকে তথ্য চাওয়া হয়েছিল পরিযায়ী শ্রমিক নিয়ে। কিন্তু বাংলা কোনও তথ্য দেয়নি। তাই বাংলাকে এই প্রকল্প থেকে বাদ রাখা হয়েছে। কিন্তু সোমবার বাংলার অর্থমন্ত্রী ভরা হাটে ভেঙে দিয়েছেন নির্মলা সীতারমনের এই মিথ্যার হাঁড়ি।

অমিতবাবু সোমবার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী যা বলছেন তা ভুল। উনি মিথ্যা বলছেন। হয় তথ্য জানেন না, বা কেউ ওনাকে বলে দেয়নি। পরিযায়ী শ্রমিকদের কথা মাথায় রেখে গরিব কল্যাণ যোজনা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তথ্য দেয়নি বলে যে দাবি উনি করেছেন তা সর্বৈব মিথ্যা।’কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন অমিত । পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য প্রকল্প গরিব কল্যাণ রোজগার অভিযানে বাংলাকে শামিল না করার যুক্তি হিসেবে নির্মলা জানিয়েছিলেন উপযুক্ত তথ্য দেয়নি বাংলা । নির্মলার এই কথা র চ্যালেঞ্জ জানান অমিত। তথ্য তুলে ধরে অমিত বলেন গত ২৩ জুন সন্ধ্যায় সমস্ত জেলা ও ব্লক স্তরের পরিযায়ী সংক্রান্ত সব তথ্য কেন্দ্রকে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ফিরতে চলেছে ২৬/১১ স্মৃতি! গভীর রাতে পাকিস্তানের নম্বর থেকে হুমকি

রাজ্যের অর্থমন্ত্রী সোমবার আরও জানিয়েছেন, ‘স্কিল ম্যাপিং পদ্ধতিতে হিসাব করে দেখা গিয়েছে ১৪ লক্ষ শ্রমিক এখনও পর্যন্ত এসেছেন। তাঁদের মধ্যে সাড়ে চার লক্ষ শ্রমিককে ১০০ দিনের কাজে নেওয়া হয়েছে। বাকিদের অন্যত্র সুযোগ করে দেওয়ার কাজ চলছে। আমাদের ডেটাব্যাঙ্ক তৈরি। পরিযায়ী শ্রমিকদের সম্পর্কে সব তথ্য আমরা প্রথম থেকেই রাখছিলাম। আমার কাছে সব তথ্য আছে।

একই সঙ্গে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে বাংলাকে এই প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও এদিন অভিযোগ করেন অমিত মিত্র। আয়ুষ্মান ভারত স্কিম কেন বাংলায় লাগু করা হয় নি , তা নিয়ে সরব হয়েছিলেন নির্মলা । অমিত মিত্র বলেন, “রাজ্যের স্বাস্থ্য সাথী আয়ুষ্মান ভারতেরও আগে থেকে চলে। কেন্দ্র রাজ্যকে নকল করে এই স্কিম চালু করেছে।”রাজ্যের স্কিম কেন্দ্রের স্কিমের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকরী বলেও এদিন ইঙ্গিত করেন অমিত। কেন্দ্রের কৃষক কল্যাণ নিধি স্কিম কেন বাংলা লাগু করেনি এদিন তার ও ব্যাখ্যা দেন অমিত মিত্র বলেন, “রাজ্যের কৃষকবন্ধু যোজনা কেন্দ্রের প্রকল্পের চেয়ে অনেক কার্যকর । আমাদের প্রকল্পে ডেথ বেনিফিট এবং বর্গাদারদের ও ইনক্লুড করা আছে, যা কেন্দ্রীয় প্রকল্পে নেই”। অমিত মিত্রের দাবি নিজেদের প্রকল্পের সীমাবদ্ধতা ঢাকতেই ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকছেন’ কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ।

Related Articles

Back to top button
Close