fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

সংকটময় পরিস্থিতিতে অভুক্তদের ত্রাতা বগুলার ভাত ও রুটি ব্যাংক

শ্যামল কান্তি বিশ্বাস : মানুষের চাহিদা পূরণে গুনগত মানের সঙ্গে কোন আপোস নয়।গ্ৰাহক পরিষেবায় শ্রেষ্ঠত্বের দাবি নিয়ে কর্মাভিযান শুরু। ঘাত প্রতিঘাতে চড়াই উৎরাই এর মধ্যদিয়ে আজ যথেষ্ট পরিনত বগুলার ভাত এবং রুটি ব্যাংক। বগুলার তাপস কুমার মন্ডল এবং কৈখালীর সুব্রত বিশ্বাস, এই দুই বন্ধুর সন্মিলিত প্রচেষ্টায় শুরু টা মধুর হলেও সময়ের ব্যবধানে ব্যপকতা বৃদ্ধি এবং নানা মুনির আগমনে জটিলতা এবং পরবর্তীতে নতুন ভাবে স্বতন্ত্র সত্ত্বার আত্মপ্রকাশ। একাধিক রাষ্ট্রীয় ব্যাংক যখন সংযুক্তিকরন প্রক্রিয়ার দিকে এগোচ্ছে ঠিক তখন, বগুলার ভাত ও রুটি ব্যাংক বিপরীত মেরুতে হেঁটে স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠার লক্ষে অবিচল। আর্থিক লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠান, ব্যাংকের অনুকরণেই তৈরি বগুলার ভাত ও রুটি ব্যাংক।

এখানেও পূর্ব তালিকাভুক্ত গ্ৰাহক দেরকেই পরিষেবা দেওয়া হয়ে থাকে। তবে এখানে গ্ৰাহক হতে গেলে- কেওয়াইসি এর জন্য আঁধার কার্ড, প্যান কার্ড, ভোটার কার্ড এবং ফটো আইডি প্রুভ জমা করতে হয় না। বিশ্বের যে কোন প্রান্তের যে কেউ এই পরিষেবা নিতে পারেন। তবে হ্যা, এখানে কিন্তু বয়স্ক নাগরিক সহ ভবঘুরে দের জন্য বিশেষ অগ্ৰাধিকার আছে।গ্ৰাহককে প্রতিষ্ঠানে এসে পরিষেবা নেওয়ার কোন প্রয়োজন নেই, প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাসেবী রাই গ্ৰাহকদের বাড়িতে গিয়ে পরিষেবা দিয়ে এসে থাকে।

সারা দিনে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দু’বার পরিষেবা পাওয়া যায়, দুপুরে এবং রাতে। দুপুরে খাদ্য সামগ্ৰী অর্থাৎ রান্না করা ভাত,ডাল, সব্জি, কখনও মাছ, কখনও ডিম, কোনদিন বা মুরগির মাংস। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে মেনু পরিবর্তনের সুযোগ থাকে। অন্যদিকে রাতের খাবার হিসাবে অধিকাংশ দিন রুটি, সঙ্গে সব্জি, কিংবা ডিমের ঝোল,আলু ভাজা,কেউ চাইলে রুটির পরিবর্তে ভাত ও নিতে পারে, এই ভাবেই চলে আসছে পরিষেবা প্রদানের প্রক্রিয়া। ইদানিং প্যাকেজ জাত শুকনো খাবারের চাহিদা বেড়েছে।

গ্ৰাহককে সন্তুষ্টি করাই প্রতিষ্ঠানের মুল লক্ষ্য,ফলে গ্ৰাহকদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে, প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যসামগ্রী তে পরিবর্তন আনতে বাদ্ধ হয়েছে এই স্বেচ্ছাসেবী কর্তৃপক্ষদ্বয়। কোথায়ও বা ক্ষেত্র বিশেষে কাঁচা সব্জি সহ ব্যবহার্য যাবতীয় খাদ্যসামগ্রী ও সরবরাহ করা হয়ে থাকে। লকডাউন বলবৎ হওয়ার পর থেকে কর্মসূচি অনুযায়ী পরিষেবা প্রদান শুরু এবং অবিরাম এই ধারা আজ ও অব্যাহত এবং প্রবাহমান।বগুলা থেকে প্রথমে একজন ভবঘুরে ,তারপর তার সঙ্গে আরো দু’জন পথচারী কে সংযুক্ত করা, এই ভাবে পাঁচ থেকে দশ, দশ থেকে কুড়ি, কুড়ি থেকে ধিরে ধিরে পঞ্চাশ,এই ভাবে এখন ষাটে এসে সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে এবং এ ভাবেই এখনও পর্যন্ত প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে গ্ৰাহক সংখ্যা। পরিষেবা প্রদানে এলাকাগত চাহিদা অনুযায়ী আয়তন বৃদ্ধি এবং এই ভাবে অর্থাৎ প্রথমে বগুলা রেলওয়ে স্টেশন দিয়ে শুরু, তারপর বগুলা বাসস্ট্যান্ড,রেল লাইন সংলগ্ন লাইনের দু’ধারে অবস্থানকারী কিছু অসহায় পরিবার সহ বগুলা স্টেশন ও বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বিভিন্ন বাড়িতে ভাড়াটিয়া পরিবারসমূহ, গাজনা, শিলবেড়িয়া, যাত্রাপুর ইটভাটার শ্রমিক ও তাদের পরিবার,মাজদিয়া ঝুমুর শিল্পীগোষ্ঠী সহ সর্বশেষ সংযোজন হাসখালি থানা এলাকার কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে অবস্থানকারী পরিযায়ী শ্রমিককেরা,এই ভাবে সংখ্যা টা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। হাসখালী,ধানতলা,কৃষ্ণগঞ্জ থানা এলাকার একাধিক গ্ৰামে পৃথক পৃথক ভাবে পরিষেবা দিয়ে চলেছে এই প্রতিষ্ঠান দুটি।

ভাত ,রুটি সহ খাদ্য সামগ্রীর পাশাপাশি, ছোট্ট বাচ্চাদের পোশাক পরিচ্ছদ সহ পরিবারের বয়স্ক নাগরিকদের জন্য বিশেষ পরিষেবা স্বরূপ ঔষধ ও পথ্য সরবরাহ অর্থাৎ ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী নিজেরাই ঔষধ কিনে সরবরাহের ব্যবস্থা করে এলাকায় অনন্য নজির গড়েছে এই স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান দুটি। দেশের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে লকডাউন প্রেক্ষাপটে কর্মহীন অসহায় প্রান্তিক মানুষজনকে পরিষেবা প্রদানে, ত্রাতা হিসাবে এগিয়ে এসেছে বগুলার ভাত ও রুটি ব্যাংক এই পৃথক সংস্থা দুটি। বগুলার ভাত ও রুটি ব্যাংকের সেবামূলক মহতি কর্মকাণ্ডে অনুপ্রাণিত হয়ে এলাকার শুভবুদ্ধি সম্পন্ন নাগরিক বৃন্দের অনেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে এসেছে সাহায্যের ডালি নিয়ে। আশির্বাদ স্বরূপ সানন্দে সেই অনুদান গ্ৰহন ও করছে কর্তৃপক্ষ দ্বয়। এই রাজকীয় কর্মকাণ্ডে বিপুল অর্থের প্রয়োজন! মহতী কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিতে কোন সমস্যাই হয়নি কর্তৃপক্ষ দ্বয়ের। অত্যন্ত সচ্ছতার সাথে বিভিন্ন ভাবে অর্থের জোগান হয়েই এসেছে।

এ ব্যাপারে সোস্যাল মিডিয়া, বিশেষ করে ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপ গ্ৰুপে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট মারফত সাহায্যের আবেদনে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া মিলেছে বলে দাবি ভাত ও রুটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের। কর্তৃপক্ষ তাদের সকলের কাছে কৃতজ্ঞ বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। রুটি ব্যাংকের কর্মযজ্ঞ কে সার্বিক ভাবে এগিয়ে নিতে তাপস কুমার মন্ডল সহ অসিত মন্ডল, সুধাংশু অধিকারী,বরুন বিশ্বাস দের অগ্ৰনী ভূমিকা এবং ভাত ব্যাংকের কর্মযজ্ঞ কে সাফল্যের শীর্ষে তুলে ধরতে সুব্রত বিশ্বাস সহ রত্নগর্ভা মা শেফালী দেবীর মাতৃত্বের ছোঁয়া সহ সহযোগি সাথি প্রতাপ,তানিয়া, মৌসুমী,বীরু, পার্থসারথি ও সঞ্জয় দের ভূমিকা আজ অপরিসীম।

Related Articles

Back to top button
Close