fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

শ্রীনগরে বাঙালি সিআরপিএফ জওয়ানের মৃত্যু, সহকর্মীদের হাতে খুন, দাবি পরিবারের

মৃতদেহ পরিবারকে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সেনা আধিকারিকদের কাছে

শ্যাম বিশ্বাস, উওর ২৪ পরগন: শ্রীনগরে বাঙালি সিআরপিএফ গ্রুপ মাস্টার খুন!  তা নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা।  জানা গিয়েছে, বসিরহাট মহকুমার বাদুড়িয়া থানার কুলিয়া নয়াবস্তিয়া গ্রাম এর বছর সাতচল্লিশের পিন্টু মণ্ডল। সিআরপিএফ জওয়ান শ্রীনগরে গ্রুপ মাস্টার ছিলেন। ৩২ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চাকরি করছেন। গতকাল সোমবার সকালবেলায় স্ত্রীর রেবা মন্ডল এর কাছে মৃত্যুর খবর আছে সেক্টর থেকে। খবর দেওয়া হয় তার করোনাই মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু রবিবার দিন রাত্রিবেলা স্ত্রীর সঙ্গে পিন্টু ভিডিও কলিং এ কথা হয় শেষবারের মত। ঠিক পরের দিন সোমবার সকালে ৯ ঘণ্টার মধ্যে তার মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছায়। পরিবারের অভিযোগ তার মাথায় পিছনের দিক থেকে পাঁচটি গুলি করে খুন করেছে তার সহকর্মীরা। এর বিচার বিভাগীয় সঠিক তদন্ত চায় পরিবার।

পরিবারের দাবি,  অফিশিয়ালি গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু নথিপত্র নিয়ে অফিসের মধ্যে কয়েক মাস ধরে ঝামেলা চলছিল। মৃতের স্ত্রীর দাবি তাঁর স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে সহকর্মীরা খুন করে করোনা বলে তাদের মৃতদেহ বাড়িতে দিচ্ছে না। তাদের  আরও দাবি  যদি কোভিট ১৯এ মৃত্যু হয়ে থাকে তাহলে তার মাথার পেছনে ও হাতে ব্যান্ডের ছড়ানো কেন? তাছাড়াও এই অল্প সময়ের মধ্যে কিভাবে কোভিট  পজিটিভ রিপোর্ট আসলো? পুরো বিষয়টি নিয়ে অন্ধকারে রয়েছে পরিবারের লোকজন, এই ঘটনা নিয়ে উচ্চপদস্থ তদন্ত হোক তাহলে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসবে এমনটাই দাবি পরিবারের। এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে মণ্ডল পরিবারের মধ্যে। ক্ষোভ উগরে দিয়েছে গ্রামবাসীরা একজন বাঙালি সিআরপিএফ জওয়ান যে কোয়ার্টার মাস্টার ছিল। দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করছেন দেশের সেনাবাহিনীতে।

আরও পড়ুন: এবার টালা থানার ওসি ও অতিরিক্ত ওসি করোনা পজিটিভ

এই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ইতিমধ্যে, মৃত সিআরপিএফ জওয়ানের স্ত্রী রেবা মন্ডল জানিয়েছেন তার সহকর্মী সুরজিৎ সিং, জয় চন্দন ,সালমান মুখরামরা তাকে পরিকল্পনা করে গুলি করে খুন করেছে। কেননা শেষ বাড়ির সঙ্গে কথা হয় সেখানে তার এই শত্রুতার কথা এবং সহকর্মীদের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন স্ত্রী রেবাকে। গত একমাস আগে সিআরপিএফ জাওয়ান পিন্টু মণ্ডল এর বাড়ি আসার কথা ছিল । কিন্তু দেশজুড়ে লকডাউন হয়ে যাওয়ার জন্য বিমান যাত্রা বন্ধ থাকার ফলে বাড়িতে আসতে পারিনি ওই জওয়ান।

এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চেয়েছে পরিবার ।এবং মৃতদেহ পরিবারকে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সেনা আধিকারিকদের কাছে। ইতিমধ্যেই মৃতদেহ দিতে নারাজ সেনা আধিকারিকরা, কারণ করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে তারা বলেছেন। এই ঘটনার জেরে ক্ষোভে ফুঁসে মৃতের পরিবার ও গোটা সেনা জ‌ওয়ানের গ্রাম । মৃত সিআরপিএফ জওয়ানের দুই ছেলে বছর কুড়ি দেব কুমার, একুশের রাজকুমার, সঠিক তদন্ত চেয়েছেন এবং মৃতদেহ পরিবারকে দেওয়ার  আবেদন জানিয়েছে।

 

Related Articles

Back to top button
Close