fbpx
অসমগুরুত্বপূর্ণব্লগহেডলাইন

উত্তরপূর্বের বাঙালি-হিন্দু

তথাগত রায়: আজকে ভারতে যত জাতিগোষ্ঠী আছে তার মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক অবস্থায় আছে কারা? এই নিয়ে বিতর্ক হতে পারে, কিন্তু এ সম্বন্ধে কোনও সন্দেহ নেই যে এই বিপদে-পড়া গোষ্ঠীদের মধ্যে উত্তরপূর্ব ভারতের বাঙালি-হিন্দু সম্প্রদায় অন্যতম| শুধু তাই নয়| এই বিপদ বাড়িয়েছে এই অঞ্চলের বাঙালি-হিন্দুদের মধ্যে অনৈক্য, আর্থিক দৈন্য এবং সবচেয়ে বেশি, সঠিক রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গীর অভাব| সঠিক রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গী বলতে আমি বোঝাতে চাইছি সেই দৃষ্টিভঙ্গী, যা এই গোষ্ঠীকে শান্তিপূর্ণভাবে, নিজেদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করে ভারতের নাগরিকের যা যা অধিকার সেই অধিকার প্রয়োগ করে সহায়ক হবে।

আমি এই উত্তরপূর্ব ভারতে তিন বছরের উপর ত্রিপুরায়, দুবছর মেঘালয়ে, এবং স্বল্পসময়ের জন্য অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়ে অরুণাচল প্রদেশে রাজ্যপাল ছিলাম। কিন্তু আমার এই প্রবন্ধের বিষয়বস্তু শুধু রাজ্যপালের অভিজ্ঞতাসঞ্জাত নয়| আমার পিতৃকূল ও মাতৃকুল দুইই প্রায় এক শতাব্দীর কাছাকাছি এই অঞ্চলের বিভিন্ন অংশে বাস করেছেন, আমি নিজেও ছোটবেলার একটা উল্লেখযোগ্য অংশ শিলং শহরে কাটিয়েছি| একটু-আধটু সিলেটি ভাষাও বলতে পারি| বয়স সবে পঁচাত্তর পার হয়েছে| রাজনীতি সক্রিয়ভাবে করছি ত্রিশ বছর, রাজনীতি নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি তার বহুদিন আগে থেকে| এই সম্মিলিত অভিজ্ঞতা নিয়ে বলতে পারি সেই কথাটা, যা আমি এই প্রবন্ধের একেবারে গোড়াতে বলেছি: উত্তরপূর্ব ভারতের বাঙালি-হিন্দু সম্প্রদায় খুব বিপদের মধ্যে আছে| এবং এই বিপদের কারণ বেশিরভাগ পারিপার্শ্বিক, অংশত নিজেদের দোষ| পারিপার্শ্বিক ব্যাপারটা এই জনগোষ্ঠীর হাতে নয়। অতএব নিজেদের দোষটা আগে দেখা দরকার, যতদূর সম্ভব সংশোধন করা দরকার।

উত্তরপূর্ব ভারত অতি বিচিত্র, গোটা ভারতে যা বৈচিত্র্য উত্তরপূর্বে তার চেয়ে বেশি বই কম নয়। প্রতিটি রাজ্যের পরিস্থিতি আলাদা| এর মধ্যে বৃহদাকারে বাঙালি হিন্দু আছে অসম(বা আসাম), ত্রিপুরা এবং মেঘালয় রাজ্যে| অসমের বাঙালি-হিন্দুরা আবার ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা ও বরাক উপত্যকায় বিভাজিত, মেঘালয়ের ওঁরা প্রধানত শিলং শহরে, তবে গারো পাহাড় ও বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী অঞ্চলেও বেশ কিছু আছেন| এদের নিয়ে আলাদা আলাদা আলোচনা করতে হবে।  আজকে আসাম নিয়ে।

কিন্তু প্রথমে একটা কথা পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো।বার বার ‘বাঙালি’ না বলে ‘বাঙালি-হিন্দু’ বলা হচ্ছে কেন? এর কারণ, পৃথিবীর বাংলাভাষী মানুষ আড়াআড়ি ভাবে বা ভার্টিক্যালি দুই ধর্মে বিভক্ত, আজকে যার মোটামুটি সত্তর শতাংশ মুসলমান ও ত্রিশ শতাংশ হিন্দু| এবং এই দুই ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ভাষা বাদে বাকি বিষয়ে যতটা তফাৎ তা বোধ হয় বাঙালি এবং তামিলদের মধ্যে তফাতের চেয়েও বেশি| এই দুই সম্প্রদায়ের গোষ্ঠীস্বার্থ, রাজনীতি, খাদ্যাভ্যাস, সমাজব্যবস্থা, ধর্মবিশ্বাস, বিশ্ববীক্ষা (ওয়ার্ল্ডভিউ) সবই সম্পূর্ণ দুই মেরুতে| এর মানে এই নয় যে দুই সম্প্রদায় লাঠালাঠি করবে, কিন্তু এর মানে এই যে পারস্পরিক সদ্ভাব রেখেও দুই সম্প্রদায়ই নিজেদের গোষ্ঠীস্বার্থ সম্বন্ধে সজাগ থাকবে| এ বাবদে বাঙালি-মুসলমান যতটা সজাগ বাঙালি-হিন্দু তার সিকির সিকিও নয়।

প্রথমে বাঙালি-সংখ্যাগুরু বরাক উপত্যকার দিকে তাকাই| এই অঞ্চলটি ভৌগোলিকভাবে সিলেটের সুরমা-কুশিয়ারা উপত্যকার অংশ এবং স্বাধীনতার আগে এই গোটা উপত্যকাটিই অসমের একটি বাংলাভাষী অংশ ছিল, এবং দুটি জেলায় বিভক্ত ছিল, সিলেট এবং কাছাড়| স্বাধীনতার অব্যবহিত পূর্বে ব্রিটিশ রাজশক্তি কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মত নিয়ে সিদ্ধান্ত করে যে সিলেটে গণভোট হবে। এই গণভোটে সিলেট জেলা পাকিস্তানের পক্ষে রায় দেয়, কিন্তু এর মধ্যে সাড়ে তিনটি থানা — অর্থাৎ রাতাবাড়ি, পাথারকান্দি, বদরপুর ও করিমগঞ্জ জেলার অংশ হিন্দুপ্রধান হওয়ায় ভারতে আসে| সিলেটের শ্রীমঙ্গল ও বড়লেখা থানাও হিন্দুপ্রধান ছিল, কিন্তু এই দুটি অঞ্চল কোনও কারণে ভারতকে দেওয়া হয়নি| এই সাড়ে তিনটি থানা এবং কাছাড় জেলার হাইলাকান্দি মহকুমা পরে করিমগঞ্জ ও হাইলাকান্দি, এই দুই জেলায় রূপান্তরিত হয়|

কিন্তু এর পরবর্তী ঘটনাবলী অতি বিচিত্র| স্বাধীনতার পরে বাংলাদেশ থেকে অবিরাম মুসলমান অনুপ্রবেশ হওয়ার ফলে আজ বরাক উপত্যকার করিমগঞ্জ ও হাইলাকান্দি তো বটেই, শিলচর শহর বাদে কাছাড় জেলার বাকিটাও মুসলমানপ্রধান হয়ে গেছে, এবং একদা-সংখ্যাগুরু হিন্দুরা তা শুধু তাকিয়ে দেখেছে|

আজ পর্যন্ত অসমে এবং অন্যত্র বহু সিলেটি-হিন্দুর ধারণা, অসমের তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী (তখন ওই রকমই বলা হত) গোপীনাথ বরদলৈ ষড়যন্ত্র করে সিলেটকে পাকিস্তানে ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন, যাতে আসাম প্রদেশে অসমীয়া প্রাধান্য বজায় থাকে, এবং এই ষড়যন্ত্রের চেহারা ছিল সিলেটের চা-বাগানের কর্মীদের ভোটাধিকার হরণ করে নেওয়া। কিন্তু রাজনীতিবিজ্ঞান-বিশেষজ্ঞ (ও বর্তমানে বিশ্বভারতীর উপাচার্য) বিদ্যুৎ চক্রবর্তী তাঁর “The Partition of Bengal and Assam, 1932-1947” বইতে দেখিয়েছেন এই ধারণা ভুল। গোপীনাথ বরদলৈ এই বিষয়ে উদাসীন ছিলেন, এই পর্যন্ত বলা যেতে পারে| কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও পুরোপুরি উদাসীন ছিলেন| অপরপক্ষে মুসলিম লীগ সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়েছিল এই গণভোটে জিতবার জন্য, প্রচুর গুন্ডামিও করেছিল। প্রথম যে রেফারেন্ডাম কমিশনার নিযুক্ত হয়েছিলেন সেই এইচ. সি. স্টক-এর নিযুক্তি মুসলিম লীগ দরবার করে খারিজ করিয়ে দেয়, কারণ তাদের অভিযোগ, তিনি মুসলিমবিরোধী ছিলেন|চা-বাগানের শ্রমিকদের ভোটাধিকার হরণ করেছিলেন পরবর্তী রেফারেন্ডাম কমিশনার আই. স্টর্ক| কিন্তু বিদ্যুৎ চক্রবর্তী সংখ্যা ও তথ্য দিয়ে দেখিয়েছেন যে চা-বাগানের শ্রমিকদের ভোটাধিকার থাকলেও সিলেট পাকিস্তানেই যেত, কারণ মোট অমুসলিমের সংখ্যা মুসলিমদের চাইতে সাত লক্ষ কম ছিল| অবশ্য সিলেটে যে আবদুল মতলিব মজুমদার প্রমুখ কিছু ভারতপন্থী মুসলমান ছিলেন তাদের যদি কংগ্রেস সাহায্য করত তাহলে কি হত বলা যায় না|

কিন্তু প্রশ্ন, অসমের বাঙালি-হিন্দু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সিলেটের বিশাল জমিদার বসন্ত দাস কি করছিলেন। আর এক মন্ত্রী বৈদ্যনাথ মুখার্জি কি করছিলেন? শুধু তাই নয় ময়মনসিংহের বিখ্যাত (বা কুখ্যাত)হিন্দু ব্যবসায়ী রায়বাহাদুর রণদাপ্রসাদ সাহা মুসলিম লীগকে বিনামূল্যে তাঁর নিজের লঞ্চ ধার দিয়েছিলেন তাদের প্রচার চালাবার জন্য, এই কথা লিখে গেছেন শেখ মুজিবর রহমান তাঁর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে|  সিলেটের পাকিস্তানভুক্তির কথা ভাবতে গেলে এই সব বাঙালি-হিন্দু নিশ্চেষ্ট বা বিশ্বাসঘাতকদের কথা ভুলে গেলে চলবে না|

বরাক উপত্যকার সমস্ত বাঙালি ১৯ মে তারিখে ভাষা শহিদ দিবস পালন করেন, এবং শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করেন সেই সব অকুতোভয় মানুষদের যাঁরা বাংলা ভাষাকে যথাযোগ্য মর্যাদা দেওয়ার জন্য পুলিশেরগুলির মুখে অমূল্য প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিলেন| কিন্তু মনে রাখা প্রয়োজন, বরাক উপত্যকার বাঙালি-হিন্দুদের এক বিশাল অংশ তো সেখানকার অধিবাসী ছিলেন না! তাঁদের বাড়ি ছিল সিলেট, মৌলবীবাজার, ছাতক, সুনামগঞ্জ, শায়েস্তাগঞ্জ, আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচঙ! সে বাড়ি তারা ছেড়ে এলেন কেন? তার পুরো বিবরণ লিখতে গেলে এই কাগজের পরিসরে কুলোবে না, কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না পূর্ব পাকিস্তান আমলে, বিশেষ করে ১৯৫০ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে সরকারের তরফ থেকে হিন্দুহত্যার জন্য প্ররোচনা দেওয়া হয়, যার ফলে বিশাল সংখ্যায় বাঙালি হিন্দু সেখান থেকে পালিয়ে বরাক উপত্যকা ও ত্রিপুরা রাজ্যের উত্তরাংশে বসতি স্থাপন করেন | ১৪ই ফেব্রুয়ারী ১৯৫০ তারিখে সিলেটের ডেপুটি কমিশনার সিলেট শহরে একটি উকিলদের সভায় সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্য দিয়ে বলেন করিমগঞ্জে নাকি পাঁচ হাজার মুসলমানকে হত্যা করা হয়েছে এবং দলে দলে মুসলমান পালিয়ে পাকিস্তানে ঢুকছে | এর পর এক হিন্দুহত্যা আরম্ভ হয়, এবং তা অবাধে চলে প্রায় এক মাস ধরে সিলেট শহর, আজমতপুর, দাসপাড়া, মহেশপুর, চুনারুঘাট,  ঢাকাদক্ষিণ, ফেঞ্চুগঞ্জ ইত্যাদি জায়গায়| বিয়ানীবাজার স্টেশনে পলায়নরত বহু হিন্দুকে ট্রেন থেকে নামিয়ে যথেচ্ছ লুটপাট ও মেয়েদের শ্লীলতাহানি করা হয়|

এই সব স্মৃতিচারণ করার দরকার হচ্ছে কেন? হচ্ছে এইজন্য যে ১৯৬১ সালের হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করার সঙ্গে সঙ্গে তার মাত্র এগারো বছরের আগেকার ১৯৫০ সালের হত্যাকাণ্ডের কথা যেন আমরা ভুলে না যাই। কারণ বিখ্যাত স্পেনীয় দার্শনিক সান্তায়ানা বলে গেছেন, যারা ইতিহাস ভুলে যায় তাদের কপালে আছে সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, ও তার কবলে পড়ে যন্ত্রণা পাওয়া|

আরও পড়ুন: করোনা মহামারীর ফলে সমাজ অনেক স্বনির্ভর হয়ে উঠেছে: মোহন ভগবত

এও মনে রাখতে হবে যে যখন বরাক উপত্যকায় হিন্দু শরণার্থী আসার পরে মুসলিম অনুপ্রবেশ আরম্ভ হয়েছে তার অনেকদিন আগে থেকেই কিন্তু ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় মুসলিম অভিবাসন চলছে| এই প্রক্রিয়াটি আরম্ভ হয়েছিল যখন আসামের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন স্যার মহম্মদ সাদুল্লা, যিনি “Grow more food” বলে এক অভিযানের অজুহাতে ময়মনসিংহ থেকে বাঙালি-মুসলমান চাষিদের এনে আসামের বিস্তীর্ণ চাষযোগ্য অঞ্চলে বসিয়ে দিচ্ছিলেন| এরই ফলে আজকে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার সীমান্তবর্তী অঞ্চল ধুবড়ি, গোয়ালপাড়া বা দক্ষিণ সালমারা তো বটেই, বহু দূরের নগাওঁ জেলাও মুসলিম-প্রধান হয়ে গেছে|

কেউ বলতে পারেন, এতে সমস্যা কোথায়? হোক না মুসলিম-প্রধান, সবাই তো মানুষ! যদি আমরা দেশভাগ ও তৎপরবর্তী সময়ের ইতিহাস মনে রাখতাম তাহলে এই প্রশ্ন ওঠাই উচিত ছিল না, কিন্তু বাম-নেহরুবাদী মেকি-সেকুলার চিন্তাধারার কবলে পড়ে আমরা আমাদের ইতিহাস ভুলে যেতে খুব ভাল করে শিখেছি| প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে, যে অঞ্চল মুসলিম-প্রধান হয়ে যায় সেখানে ধীরে ধীরে হিন্দুদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে| এবং যেহেতু অসমের পাশেই আছে মুসলিম-প্রধান বাংলাদেশ, তাই কালক্রমে অঞ্চল  জুড়ে বাংলাদেশের সঙ্গে একীকরণের দাবি উঠবে| এবং তাতে সর্বনাশ হবে সম্পূর্ণ অমুসলমান জনসমূদায়, অর্থাৎ হিন্দু, খ্রিষ্টান, অসমিয়া, আহোম, বাঙালি, মাড়োয়ারী, বড়ো, রাভা, হাজং, কোচ, মোরান সকলের।

একটি মানুষ এই সর্বনাশের চেহারাটি এবং তা যে কত দ্রুত এগিয়ে আসছে তা সম্যকরূপে উপলব্ধি করেছেন।এই মানুষটির নাম হিমন্ত বিশ্বশর্মা| এবং এইজন্য তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন সেই সব সংস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য, যাদের মাধ্যমে এই সর্বনাশা প্রক্রিয়া এগিয়ে যেতে পারে| এই সংস্থাগুলির একটি হচ্ছে মাদ্রাসা, এ ছাড়াও জলসা, ওয়াজ-মহফিল ইত্যাদি অনুষ্ঠানের দ্বারা এই মানসিকতা তৈরি হয়| মনে রাখতে হবে, আসামের বেশিরভাগ মুসলমানই ভারতবিরোধী বা হিন্দুবিরোধী নন, বরঞ্চ তাঁরা অমুসলমানদের সঙ্গে সদ্ভাব রেখে শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনই করতে চান। কিন্তু এও সত্য যে ১৯৪৭ সালে প্রায় একশো শতাংশ মুসলমানই মুসলিম লীগকে ভোট দিয়েছিলেন, পাকিস্তান হাসিল করেছিলেন এবং সেখান থেকে প্রায় সব হিন্দুদের বিতাড়িত করেছিলেন! শুধু তাই নয়, ১৯৬০ সালে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা জুড়ে যে দুর্ভাগ্যজনক ‘বঙ্গাল খেদা’ হয়েছিল তাতে তাঁরা “মিয়া-অসমীয়া ভাই ভাই” বলে হিন্দু-বাঙালিদের উপর অত্যাচারে হাত লাগিয়েছিলেন! আজকে যাতে এসবের পুনরাবৃত্তি না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুন: লাল কৃষ্ণ আডবানীর জন্মদিনে তাঁর দীর্ঘ জীবনের প্রার্থনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির শুভেচ্ছা

এমতাবস্থায় বরাক এবং ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার হিন্দু-বাঙালির কর্তব্য কি? কর্তব্য হচ্ছে এই কথা উপলব্ধি করা যে আজকের বাস্তব পরিস্থিতিতে বাঙালি-হিন্দু, উপজাতি-হিন্দু ও অসমীয়া-হিন্দুর স্বার্থ অভিন্ন এবং সেই অনুযায়ী কাজ করা|  এবং যে হিমন্ত বিশ্বশর্মা এই দুই জনগোষ্ঠীকে কাছে আনবার চেষ্টা করছেন তাঁকে অকুন্ঠ সমর্থন দেওয়া| ১৯৬১ সালের ভাষা-শহিদদের ভুলে গেলে চলবে না, কিন্তু সেই সঙ্গে ১৯৫০ সালের সিলেট জেলা জুড়ে যাঁরা হিন্দু হওয়ার অপরাধে নিহত হয়েছিলেন, যাঁদের বাড়ির মেয়েরা নির্যাতিত, অপহৃত হয়েছিলেন, যাঁরা কপর্দকশূন্য অবস্থায় ঘরবাড়ি ছেড়ে ভারতে এসেছিলেন তাঁদের সংখ্যা যে ভাষা শহিদ ও অন্যান্যদের চেয়ে অনেক বেশি তাও মনে রাখতে হবে| এও মনে রাখতে হবে যে ১৯৫০ সালে যারা হিন্দুনির্যাতনে অংশ নিয়েছিল তাদের মাতৃভাষা বাংলাই ছিল, কিন্তু ধর্মের কারণে  বাঙালি- হিন্দুদের নির্যাতন করতে তাদের বাঁধেনি| তাই আজ হিন্দু-বাঙালির গোষ্ঠীস্বার্থ অসমীয়া হিন্দুর কাছাকাছি, বাঙালি মুসলমানের থেকে বহু দূর| এরই নাম নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ সংরক্ষণ।

(মতামত নিজস্ব)

Related Articles

Back to top button
Close