fbpx
অসমদেশহেডলাইন

লক্ষীপুর বিজেপিতে বাঙালি অস্তিত্ব হারাচ্ছে, আশঙ্কা দলীয় নেতার

লক্ষীপুর: লক্ষীপুর বিজেপিতে বাঙালি অস্তিত্ব হারাচ্ছে l এক সময় বাঙালিরা লক্ষীপুরে বিজেপি ঝান্ডা উত্তোলন করেছিলেন l কিন্তু বর্তমানে বিজেপি দলের কোনো মুখ্য পদে বাঙালি অস্তিত্ব নেই l

লক্ষীপুর সরকারি কার্যালয়ে রাজনৈতিক পদবী আসন রয়েছে চারটি l যে আসনগুলো হল লক্ষীপুর বিধানসভার চার ব্লকে l পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রতিটি ব্লকের অন্তর্গত আঞ্চলিক পঞ্চায়েত সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সংখ্যা বর্ধিত দল আঞ্চলিক পঞ্চায়েত সভাপতি হিসাবে একজন সদস্যকে নিয়োজিত করে l সেই হিসাবে লক্ষীপুর বিধানসভা সমষ্টির চার ব্লকের মধ্যে লক্ষীপুর,বিন্নাকান্দি ও রাজাবাজার ব্লকে অন্তর্গত সংখ্যা গরিষ্ঠ দল হিসাবে নির্বাচিত হয় বিজেপি প্রার্থী l যে নির্বাচিত প্রার্থীদের মধ্যে ছিলেন বাঙালিরাও l  কিন্তু একটি ব্লকের সভাপতি-সভানেত্রী পদে সিকে ছেঁড়েনি কোনো বাঙালির l অবশ্য, দুটি ব্লকে বাঙালি বসানোর চূড়ান্ত সিদ্বান্ত নিয়েও শেষলগ্নে সরিয়ে দেওয়া হয় তাদের নাম l

এনিয়ে প্রকাশ্যে কেউ কিছু না বললেও সভপতি চয়নের দিন কিছু আওয়াজ তুলেন স্থানীয় কয়েকজন নেতা l কিন্তু প্রতমসারির নেতাদের দাপটে তাদের দাবি-আপত্তি ধোপে টেকেনি l একইভাবে লক্ষীপুর শহর মন্ডল বিজেপিকে ধ্বস করা হয় দুইহাজারসল্ল বিধানসভা নির্বাচনের পর l এর আগে লক্ষীপুর শহর মন্ডল বিজেপি নামে একটি কমিটি ছিল লক্ষীপুরে l বর্তমানে লক্ষীপুর মন্ডল বিজেপি সভাপতি সঞ্জয় ঠাকুরের নেতৃত্বাধীন চলছে শহরের দলীয় কাজকর্ম l মন্ডলটি গঠন করা হয়েছে লক্ষীপুর ব্লকের সাত জিপি,রাজাবাজার ব্লকের দশ জিপির মধ্যে লক্ষীপুর বিধানসভা সমষ্টির পাঁচ জিপি ও লক্ষীপুর শহরের দশ ওয়ার্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে l
লক্ষীপুর বিধানসভা সমষ্টিতে বিজেপি দলের তিনটি মন্ডল কমিটি রয়েছে l লক্ষীপুর মন্ডল ছাড়া রয়েছে বিন্নাকান্দি ও বাঁশকান্দি মন্ডল l কিন্তু এই দুটি মন্ডলেও রহস্যজনকভাবে স্থান পাননি কোনো বাঙালি l বিন্নাকান্দি মন্ডলে অনুপ দাস নামের একজন সক্রিয় সংগঠকের নাম উঠে এলেও পরে তার নাম কেঁটে সভাপতি করা হয় একজন অবাঙালিকে l এনিয়ে প্রতিবাদও করেছিল অনুপ সমর্থকরা l কিন্তু দাপটে নেতাদের প্রভাবে তাদের প্রতিবাদও ফলপ্রসু হয়নি l

লক্ষীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে চারটি জেলা পরিষদ আসন রয়েছে l তিনটিতেই নির্বাচিত হয় বিজেপি প্রার্থী l কিন্তু কোনো বাঙালিকেই টিকিট দেওয়া হয় নি l বিধানসভার পঁচিশ জিপির মধ্যে এপ-জিপি দুটি আসনেই নামমাত্র দেওয়া হয় বাঙালি সংখ্যা l তথ্য মতে,বিধানসভা নির্বাচনে লক্ষীপুরে প্রথম বিজেপি প্রার্থী দেওয়া হয় উনিশএকান্নবই-সালে l কিন্তু সেই সময় থেকে দুইহাজারসোল্ল-সাল পর্যন্ত লক্ষীপুর বিজেপি থেকে কোনো বাঙালিকে প্রার্থী করার নজির নেই l

কিন্তু তথ্য বলছে,লক্ষীপুরে বিজেপি ঝান্ডা উত্তোলন করা হয় ১৯৯১ সালের বহু আগে l আর যারা ঝান্ডা উত্তোলন করেছিলেন l তাদের মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন লক্ষীপুরের একাংশ বাঙালি l একাংশ বাঙালির অভিযোগ,বিজেপি এক নীতির স্লোগান দিলেও বিজেপির একাংশ স্বার্থবাদী নেতা লক্ষীপুরে এর গুরুত্ব আরোপ করছে না l যারফলে একটি বাঙালি সম্প্রদায় বিজেপি পদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন l যেখানে ইতিহাস টানলে–দীনেশপ্রসাদ গোয়ালার প্রভাবশালী আমলেও সবসময়ের আস্থাভাজন বাঙালিরাই দুহাত বড়ে বিজেপিকে ভোট দিয়ে আসছিলেন l

আবিন্ড্র দাস নামের একজন বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা জানান,লক্ষীপুরে বিজেপির জন্ম হয় তাদের হাত ধরে l বিজেপি দলের সদস্যপদ নেওয়ার পর সাইকেল চালিয়ে গ্রামেগঞ্জে বিজেপি দলের প্রচার চালিয়েছিলেন l তখন লক্ষীপুরের প্রয়াত বিধায়ক তথা মন্ত্রী দীনেশপ্রসাদ গোয়ালার প্রভাব তীব্র আকার ধারন করেছিল l তারমধ্যেও মানুষ খোঁজে লক্ষীপুর মন্ডল বিজেপি কমিটি গঠন করা হয় l কমটিরি সদস্য সংখ্যা ছিল একুশ জন l তিনি হয়েছিলেন কমিটির প্রথম সভাপতি l এরপর একবার জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক পদেও আসীন হয়েছিলেন l
তবে,সরাসরি তিনি কিছু না বললেও লক্ষীপুর বিজেপিতে বাঙালির অবস্থান দেখে তিনি একপ্রকার লজ্জাবোধ করেন l পাশাপাশি বলেন,বিজেপি দলের নীতি অনুযায়ী সবাইকে প্রধান্য দেওয়ার কথা l কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী লক্ষীপুর বিজেপি বাঙালিকে কেন গুরুত্ব দিচ্ছে না-তা তিনি অনুধাবন করতে পারছেন না l ওই বর্ষীয়ান বিজেপি নেতার কথায়,তিনি বয়েসের বারে আগের মতো দৌড়ঝাঁপ করতে পারছেন না l তবে,দল ডাকলে সভাসমিতিতে অংশ নিচ্ছেন l কিন্তু অনেকের কথায়,আবিন্ড্র দাস বয়েসের বারে এতো অচল হয়ে পরেন নি l এখনও দৌড়ঝাঁপের শক্তি রাখেন l কিন্তু লক্ষীপুরে বিজেপি দলের অবস্থান শক্ত হওয়ার পর আবিন্ড্রকে আর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না l যারফলে তিমি আগের মতো দলীয় কাজে সক্রিয় হতে পারছেন না l
এমন কি,লক্ষীপুর বিজেপিতে মুখ্য ভূমিকায় কোনো বাঙালি নেতা না থাকায় প্রশাসনিক তরফেও অবহেলা করা হচ্ছে বলে ইতিমধ্যে অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে l নাম প্রকাশে অনিচুক দ্বিতীয় সারির এক বিজেপি নেতা জানান,লকডাউন চলাকালীন লক্ষীপুর সার্কলে চাল বরাদ্দ হয় l সেই চাল বন্টন করার কথা দুস্থদের মধ্যে l সেই হিসাবে প্রত্যেক জিপির ওয়ার্ড অনুযায়ী দুস্থদের নামের তালিকা প্রস্তুত করা হয় l কিন্তু ফুলেরতল জিপিতে এক সম্প্রদায়ের লোককেই প্রধান্য দেন লক্ষীপুরের সার্কল অফিসার l ফলে ওয়ার্ড প্রতি তিন-চার জন বাঙালির কপালেই জুটে সরকারি চাল l তবে,একুশের বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে ওই নেতা জানান,সংগঠন যদি এখনও বাঙালির দিকে চোখ তুলে না চায় l তাহলে এর প্রভাব একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বাঙালির ভাবপ্রবণতা হয়ে দেখা দিতে পাড়ে l

Related Articles

Back to top button
Close