fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

‘যারা আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তোলে তারা সবচেয়ে বড় গুন্ডা’, নাম না করে বিজেপিকে খোঁচা মমতার

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: যারা আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তোলে তারা সবচেয়ে বড় গুন্ডা। মানসিক সন্ত্রাস চলছে। টাকা দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে ভুয়ো খবর ছড়ানো হচ্ছে। মিথ্যা কথা লিখে ছড়াচ্ছে দাঙ্গা। জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, দার্জিলিং এবং কালিম্পং জেলার দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে নাম না করে বিজেপিকে  খোঁচা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এছাড়াও ধর্মীয় ভেদাভেদের অভিযোগ তুলে গেরুয়া শিবিরকে কটাক্ষ করেন তিনি।

ক্ষমতায় আসার পর থেকে উত্তরবঙ্গকে  ঢেলে সাজানোই লক্ষ্য রাজ্য সরকারের। কোভিড পরিস্থিতিতেও উত্তরের জেলাগুলির আধিকারিকদের নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, দার্জিলিং এবং কালিম্পং জেলার দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকেও বিরোধীদের খোঁচা দিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, “উত্তরবঙ্গজুড়ে যা কাজ হয়েছে তা কখনও হয়নি। তবু দুঃখ কেউ কেউ বলে কোনও কাজ হয়নি। যারা একথা বলে তারা শুধু নিজেদের স্বার্থ বোঝে। যারা আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তোলে তারা সবচেয়ে বড় গুন্ডা। হাজারটার মধ্যে একটা ভুল হয়ে গেলেই নৃত্য করবে। টাকা থাকলে মিথ্যে খবর করানো যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যে রটাচ্ছে। রাজনীতি মানে মিথ্যে কথা বলা নয়। রাজনীতি মানে দায়বদ্ধতা। বিডিও, আইসি, এসপিরা সোশ্যাল মিডিয়ায় নজর রাখুন। ৫০ হাজার হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ টাকা দিয়ে তৈরি করেছে। আর দাঙ্গা বাধাচ্ছে। দিদি একা দেখবে আর কেউ দেখবে না তা হবে না। মানসিক সন্ত্রাস হচ্ছে। এটা শারীরিক সন্ত্রাসের থেকেও ভয়ংকর। রুখতে হবে।”

পাশাপাশি এটাও মনে করিয়ে দেন তাঁর সরকারই পৃথক আলিপুরদুয়ার জেলা গঠন করেছে, উত্তরকন্যার মতো সচিবালয় করেছে, চা-বাগানের শ্রমিকদের জন্য চা-সুন্দরী প্রকল্প চালু হয়েছে, নমঃ শুদ্র উন্নয়ন বোর্ড গড়ে দেওয়া হয়েছে, একাধিক পর্যটক কেন্দ্র হয়েছে, রাস্তাঘাট হয়েছে। সেতু হয়েছে, কন্যাশ্রী প্রকল্প চালু হয়েছে। অথচ বাইরের লোকেদের কথা শুনে বিজেপিকে ভোট দিয়ে জিতিয়ে দিচ্ছেন এয়াকার মানুষ।

আরও পড়ুন: ৫০০ শিক্ষককে একদিনে নিয়োগের নির্দেশ দিল পর্ষদ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অশান্তি ছড়ানো হয়, সে কারণে প্রশাসনিক কর্তাদের সতর্ক থাকার বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন,”দিনহাটা, মাথাভাঙা, তুফানগঞ্জে মাঝে মধ্যে মারপিট হতেই থাকে। আইসি-দের একটু সক্রিয় হতে হবে। সোশ্যাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে গন্ডগোল ছড়ানো হয়। অনেকে মিথ্যা কথা লেখে। মিথ্যা কথা লিখে ১ ঘণ্টায় দাঙ্গা ছড়িয়ে দিল। সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে। নইলে বড় ঘটনা ঘটে যেতে পারে। আইসি-দের নজরে রাখতে হবে। আইসি বা এসপি হোক, সকলের দায়িত্ব এটা।”

নাম না করে ধর্মীয় ভেদাভেদের অভিযোগে গেরুয়া শিবিরকে খোঁচা দেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ধর্ম আমরাও মানি। সব ধর্মকে আমরাও ভালবাসি।” রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে কেন্দ্র মিথ্যে প্রচার করছে বলেও কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রীর। তাঁর দাবি, “আমরা সাইকেল দিচ্ছি। আর দিল্লি থেকে এসে বলছে ওগুলো দিল্লি থেকে দেওয়া। দিল্লি কা লাড্ডু জানেন তো খেলেই পস্তাবেন।” কেন্দ্রের তরফ থেকে কোনও আর্থিক সাহায্য পাওয়া যাচ্ছে না বলেও আরও একবার অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

 

 

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close