fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

পরিযায়ী শ্রমিক ফেরানো নিয়ে সংঘাত বাংলা-মহারাষ্ট্র: রাজ্যে আসছে ৪১ ট্রেন

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: পরিযায়ী শ্রমিক ফেরানো নিয়ে তরজায় মমতা-উদ্ধব। অভিযোগ, মমতা সরকার বারবার ট্রেন না ছাড়ার আবেদন জানালেও তা মহারাষ্ট্র সরকার কর্ণপাত করছে না বলে অভিযোগ। এই মুহূর্তে গোটা দেশেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। দেশের মধ্যে মহারাষ্ট্রে সংক্রমণের হার সবথেকে বেশি। ক্রমশ সেখানে বাড়ছে সংক্রমণ। এই পরিস্থিতিতে ফের মহারাষ্ট্র থেকে আসছে আরও ট্রেন। জানা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গে আরও ৪১টি ট্রেন পাঠানোর কথা জানিয়েছিল মহারাষ্ট্র প্রশাসন। কিন্তু তা নাকচ করে দেয় মমতা সরকার। এরপর নবান্ন মাত্র ৩টে ট্রেন ঢোকার অনুমতি দিয়েছিল। তবে সমস্ত কিছু অগ্রাহ্য করার অভিযোগ মহারাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে।

জানা যাচ্ছে, ৪১টি ট্রেন আজই মহারাষ্ট্র থেকে পশ্চিমবঙ্গের উদ্দেশে রওনা হচ্ছে। এর ফলে আরও বিপদের মুখে বাংলাকে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, দুই রাজ্যের সংঘাতের ইস্যুতে কেন্দ্র মাথা গোলাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। রেলমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে যে, সঙ্কটের পরিস্থিতিতে ট্রেনগুলিকে বাতিল করা ঠিক নয়। এমনকি অন্য রুটে পাঠানোও সম্ভব নয়। তাতে যে সমস্ত পরিযায়ীরা ঘরে ফিরতে ইচ্ছুক তারা ধাক্কা খাবেন। পরিযায়ী শ্রমিকদের স্বার্থ সকলের মাথায় রাখা উচিত বলেই মনে করছে কেন্দ্র।

এদিন নবান্নে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘যে রাজ্যগুলিতে করোনা সংক্রমণ অত্যন্ত বেশি। সেখান থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে ট্রেন আসলে রাজ্যের পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।’ স্বরাষ্ট্রসচিব জানান আগামিকাল থেকে এরকম আরও ২০৬ টি ট্রেন রাজ্যে আসবে। প্রত্যেকদিন আট থেকে দশটি করে ট্রেনে আটকে পড়া শ্রমিকরা রাজ্যে ফিরবেন। তবে একসঙ্গে এতগুলো ট্রেন ভিন রাজ্য থেকে শ্রমিকদের নিয়ে আসলে করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা আরও বাড়তে পারে এবং জনস্বাস্থ্য পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে স্বরাষ্ট্রসচিব আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন: মানুষকে বলছি মোদিজির পাঠানো ১০০০ কোটি টাকা ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বুঝে নিন: রাহুল সিনহা

তিনি মহারাষ্ট্র সরকারকে তোপ দেগে বলেন, এই শ্রমিকদের ফিরিয়ে দেওয়া নিয়ে রাজ্যের সঙ্গে কোনও কথাই বলা হয়নি। ফলে রাজ্য সরকার কার্যত অন্ধকারে। এমনকি মুম্বইয়ের যা অবস্থা, সেখান থেকে এতগুলি ট্রেন এলে রাজ্যের ঘাড়ে অনেক চাপ বাড়বে। যা নেওয়া রাজ্যের এক্তিয়ারে পড়ে না। তিনি জানান, তাই যতটা সম্ভব সুরক্ষিতভাবে ভিন রাজ্যের শ্রমিকদের রাজ্যে স্বাগত জানানো হবে। সীমান্ত এলাকা বা রেলস্টেশনে যেখানে তারা এসে পৌঁছবেন সেই সব জায়গায় যাতে অতিরিক্ত ভিড় না হয় তার ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি, কোয়ারেন্টিন সেন্টারের পরিকাঠামোও তৈরি করা হচ্ছে।

আমফানের তাণ্ডবে বিধ্বস্ত অবস্থা বাংলার। বিভিন্ন জায়গায় এখনও পর্যন্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে লন্ডভন্ডের চেহারা। জেলা প্রশাসন ত্রাণ ও পুনবার্সনের কাজে ব্যস্ত। আর সেই কারণে ২৬ তারিখ পর্যন্ত রাজ্যে কোনও শ্রমিক স্পেশাল না পাঠানোর জন্য রেজ বোর্ডকে আবেদন জানায় রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর হয়ে মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা চিঠিতে লেখেন, ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে রাজ্যের একাধিক জেলা বিধ্বস্ত। জেলা প্রশাসন ত্রাণ ও পুনবার্সনের কাজে ব্যস্ত। এই অবস্থায় প্রশাসনের পক্ষে আগামী কয়েকদিন শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনের যাত্রীদের এ রাজ্যে আসার পর বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। তাই আগামী ২৬ মে পর্যন্ত রাজ্যে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন যেন না পাঠানো হয়। ভিন রাজ্য থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনার জন্য চালু হয়েছে ওই ট্রেন পরিষেবা। কিন্তু অভিযোগ, রাজ্যের আবেদনে সাড়া দেওয়া হচ্ছে না। আবেদন অগ্রাহ্য করেই পাঠানো হচ্ছে ট্রেন।

Related Articles

Back to top button
Close