fbpx
একনজরে আজকের যুগশঙ্খকলকাতাহেডলাইন

ভবানীপুর উপনির্বাচন, আদালতের প্রশ্নের মুখে রাজ্য ও কমিশন, রায়দান স্থগিত

নিজস্ব প্রতিনিধি: আসন্ন ভবানীপুর বিধানসভায় উপনির্বাচন নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের প্রশ্নের মুখে পড়ে নির্বাচন হওয়া নিয়ে প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি হয়েছে। ভবানীপুর উপনির্বাচন নিয়ে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে শুক্রবার শুনানি ছিল হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দাল ও বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চে। মামলার শুনানি শেষ করে হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ রায়দান স্থগিত রাখলেও, এদিন ডিভিশন বেঞ্চের তোলা একাধিক প্রশ্নবাণে জর্জরিত হতে হয় রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে। যা নিয়ে কার্যত নির্বাচন সংগঠিত হওয়া নিয়েও প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি হয়েছে।

মামলার প্রেক্ষিতে এদিন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ জানতে চায়,  ‘একটি আসনের জন্যই সংবিধান আর আইনের বাধ্যবাধকতা? মুখ্যসচিব কীভাবে লেখেন সাংবিধানিক সংকটের কথা? মুখ্যসচিবের চিঠির ভিত্তিতে কীভাবে পদক্ষেপ নিতে পারে নির্বাচন কমিশন?’ নির্বাচন কমিশনের কাছে আদালত জানতে চেয়েছিল সাংবিধানিক সংকট বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সে বিষয়ে কমিশনের মতামত কি ? কিন্তু কমিশন হলফনামায় তা উল্লেখ করেনি। এদিন তার প্রেক্ষিতে কমিশনের হলফনামা গ্রহণ করেনি আদালত।

শুধু তাই নয়, নির্দিষ্ট ভাবে ভবানীপুরের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দালের ডিভিশন বেঞ্চ কার্যত ভর্ৎসনার সুরে জানতে চায়, ‘একটি আসনের জন্যই সংবিধান আর আইনের বাধ্যবাধকতা? বাকি কেন্দ্রের জন্য নয় ? এই কেন্দ্র থেকেই একজন নির্বাচনে জিতে পদত্যাগ করবেন, তাঁর জায়গায় আরেকজন ভোটে দাঁড়াবেন! এটা কীভাবে সম্ভব ?’ শুধু তাই নয়, এদিন নির্বাচন কমিশনের কাছে হাইকোর্ট প্রশ্ন করে, ‘নির্বাচন সংগঠিত হয় জনগণের টাকায়। একটি উপনির্বাচন করতে কত টাকা খরচ হয়? সেই টাকা আসবে কোথা থেকে ?’ সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত ছিলেন না কমিশনের আইনজীবী।

তখন মামলাকারীর আইনজীবীরা জানান, ‘কোটি কোটি টাকা খরচ হয়।’ সেই প্রসঙ্গ তুলেও হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, ‘সেই উপনির্বাচনের জন্য জনগণের করের টাকা কেন খরচ করা হবে? আদালতকে কেন উত্তর দিতে পারছে না নির্বাচন কমিশন?’ সেই সূত্রেই আদালত জানায়, এই উপনির্বাচনের খরচ কোনও ভাবেই অন্য পন্থায় ব্যবস্থা করা যায় কিনা, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে, এদিন কোনও রায় দেয়নি আদালত।

প্রসঙ্গত, ভবানীপুর উপনির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের তরফে যে বিবৃতি জারি করেছিল, তার ৬ ও ৭ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছিল, ‘পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, রাজ্যের করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। পশ্চিমবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতিও ভোট হতে চলা আসনগুলিতে কোনও প্রভাব ফেলবে না। ভারতীয় সংবিধানের ১৬৪ (৪) ধারায় একজন মন্ত্রী যদি বিধানসভার সদস্য না হন, তা হলে ভোটের ফল প্রকাশের ৬ মাস পর তাঁর মন্ত্রী পদ চলে যায়। আর সেই পদে সর্বোচ্চ পদাধিকারী নিয়োগ না হলে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হতে পারে।’ মামলার গত শুনানিতে এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে একাধিক প্রশ্ন তুলে ছিল হাইকোর্ট। যার কোনও উত্তর পায়নি বলে এদিন ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত।

 

 

Related Articles

Back to top button
Close