fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

রাষ্ট্রবাদী বাংলা চান ভাগবত…..

রক্তিম দাশ, কলকাতা: একুশের নির্বাচন নয়, আরএসএসের ভিত আরও শক্ত করে রাষ্ট্রবাদী বাংলা গড়ে তোলাই লক্ষ্য ভাগবতের। সে কারণে সংঘপ্রধান মোহন ভাগবতের বঙ্গ সফর। এমনটাই দাবি বঙ্গের সংঘ পরিবারের। অবশ্য, সংঘের এই দাবি মানতে নারাজ রাজনৈতিক মহল। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, একুশের ভোটের আগে সংঘ প্রধান মোহন ভাগবতের বঙ্গ শুধু সাংগঠিক কারণে নয়, বরং বাংলায় হিন্দুত্ববাদী শক্তিকে সংহত করাই মূল লক্ষ্য।

২২ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর-একুশের ভোটের আগে সংঘপ্রধান মোহন ভাগবতের কলকাতা সফর ঘিরে রাজনৈতিক মহল থেকে সংবাদমাধ্যম সকলেই উৎসুক ছিলেন। কিন্তু চিরাচরিতভাবেই এই সফর ঘিরে উঠা সব জল্পনাকে নসাৎ করে দিয়েছেন বাংলার সংঘ পরিবার। এমনকী বিমানবন্দরে নেমে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েও সর্ন্তপণে, সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা না বলেই, মানিকতলায় সংঘের কলকাতা কার্যালয় কেশব ভবনের দিকে চলে যান ভাগবত। তাঁর এই দু’দিনের এই সফরে আয়োজিত বৈঠকগুলিও ছিল রুদ্ধদ্বার। সংবাদমাধ্যমের প্রবেশ ছিল নিষিদ্ধ। এ নিয়ে যতই জল্পনা চলুক না কেন প্রকাশ্যে সংঘ পরিবারের কোনও কর্তাব্যক্তি এবিষয়ে বাইরে মুখ খোলেন নি। তাঁরা বারবার, এটাই বলেছেন করোনা এবং আমফান পরিস্থিতিতে বাংলায় সংঘের সেবাকাজ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এবারের সফরে মোহন ভাগবত সংঘ কার্যালয় কেশব ভবনের বাইরের বেরোননি। তাঁর এবং সংঘের এই নীরবতায় জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। এই মুহূর্তে বিজেপি বাংলায় একটা শক্ত অবস্থানে থাকলেও এই সফরে মুরুলীধর সেনের লেনের কোনও শীর্ষনেতার সঙ্গেও ভাগবতে বৈঠক হয়নি বলেই খবর। যদিও ভাগবতের সফরের আগে শোনা যাচ্ছিল, বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন তিনি।

সংঘের এক শীর্ষ নেতৃত্ব বিষয়টি নিয়ে যুগশঙ্খকে বলেন,‘ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ভাগবতজির কলকাতা সফর ঘিরে যে জল্পনা চলছে তার কোনও ভিত্তি নেই। আমরা করোনা এবং আমফানে যে ব্যাপক সেবাকাজ চালিয়েছি বাংলাজুড়ে, তা নিয়ে মূলত বৈঠক হয়েছে এবং পরবর্তী পরিস্থিতিতে অনেক মানুষ কাজ হারিয়েছেন। তাঁদের কিভাবে আত্মনির্ভর করা যায় তাও আলোচনা হয়েছে। ভাগবতজি আমাদের রাজ্যে সংঘের এই সেবা কাজ নিয়ে খুশি। সর্বভারতীয় ভাবে যে তিনটি রাজ্যে ভাল সেবাকাজ হয়েছে তার মধ্যে আমরাও রয়েছি। সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি নিয়েও উনি বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন। এই সেবাকাজের মধ্য দিয়ে আমরা বাংলার সর্বত্রই ছড়িয়ে যেতে পেরেছি।’

আরও পড়ুন: ইসলামি ভারতের চক্রান্ত ফাঁস! কাশ্মীর ও বাংলাকে টার্গেট করছে আল কায়দা জঙ্গিরা

কলকাতার রাজনৈতিক মহলের মতে, করোনা-আমফানের জোড়াফলায় ত্রাণ, রেশন সহ বিভিন্ন দুর্নীতিতে শাসকদল যথেষ্ট বেকায়দায়।
অন্যদিকে, গেরুয়া বিগ্রেড এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূলস্তর পর্যন্ত সংগঠন বাড়িয়ে নিয়েছে। আরএসএসের ৩৭ শাখা সংগঠন এই সময়কালের মধ্যে বাংলার শহর থেকে গ্রামে সেবাকাজ চালিয়ে বিশাল নেটওর্য়াক গড়ে তুলেছে। যা নিঃসন্দেহে একুশে বিজেপিকে মাইলেজ দিতে পারে। অন্যদিকে বিপাকে ফেলতে পারে তৃণমূলকে। তাদের মতে, বাংলায় সংঘের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি মানেই পরোক্ষভাবে বিজেপির হাত শক্তিশালী হওয়া। তাই সংঘকর্তারা মুখে যাই বলুক, আদতে একুশের আগে ভাগবতের এই বঙ্গ সফরের সুফল বিজেপির ভোটের ঝুলিকেই সমৃদ্ধ করবে বলে মত রাজনৈতিক মহলের।

Related Articles

Back to top button
Close